জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সাংবাদিকতায় তরুণদের দক্ষতা ও আগ্রহ বাড়াতে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী একটি মিডিয়া ওয়ার্কশপ। শনিবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আয়োজিত এ কর্মশালায় জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের ৩০ জন উদীয়মান সংবাদকর্মী অংশ নেন। ‘মিডিয়া ওয়ার্কশপ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ স্টোরিটেলিং’ শীর্ষক এ আয়োজনে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সঠিক তথ্য উপস্থাপন, প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি আরও গুরুত্বসহ উপস্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হয়।
ব্রাইটারসের উদ্যোগে এবং ইউএনসিডিএফ ও ইউএনডিপির লজিক (Local Government Initiative on Climate Change) প্রকল্পের সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন— ইউএনডিপি বাংলাদেশ-এর হেড অব কমিউনিকেশনস মো. আবদুল কায়িউম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শ্যামসুদ্দিন ইলিয়াস, ক্লাইমেট স্টোরিটেলার ও সিএনএন একাডেমি ফেলো মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, চ্যানেল ২৪-এর সিনিয়র রিপোর্টার বোরহানুল আশেকিন এবং চ্যানেল ওয়ানের হাবিবুর রহমান।
প্রশিক্ষক ইউএনডিপি বাংলাদেশ হেড অব কমিউনিকেশনস মো আবদুল কায়িউম বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। কিন্তু তৃণমূল মানুষের গল্প খুব কমই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদে উঠে আসে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো সেই গল্পগুলোকে সত্যিকারভাবে তুলে ধরা।
ক্লাইমেট স্টোরিটেলার সিএনএন একাডেমি ফেলো ও রকফেলার ফাউন্ডেশন নাফিক স্কলার '২৩ মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, জলবায়ু সাংবাদিকতা শুধু তথ্য প্রকাশ নয়; এটি মানুষকে ভাবতে শেখায়, পরিবর্তনের দাবি তুলতে প্রেরণা জোগায়। তরুণদের এ কাজে যুক্ত হওয়া সময়ের দাবি।
একজন অংশগ্রহণকারী জানান, এ ধরনের ওয়ার্কশপ আমাদের চোখ খুলে দেয়। আমরা এখন বুঝতে পারছি কীভাবে প্রান্তিক মানুষের জলবায়ু সংগ্রামকে প্রভাবশালী গল্পে রূপান্তর করা যায়। ইনশাআল্লাহ, আমরা এই জ্ঞানকে মাঠপর্যায়ে কাজে লাগাবো।
ব্রাইটারসের ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর সাইদুর রহমান সিয়াম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশের সমস্যা নয়, এটি জীবনের সমস্যা। সাংবাদিকরা যদি তৃণমূলের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেন, তবে পরিবর্তন সম্ভব। ব্রাইটারস এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে।
দিনব্যাপী আলোচনার শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সার্টিফিকেট ও গাছের টব তুলে দেন প্রশিক্ষকরা। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা ভবিষ্যতে জলবায়ু ইস্যুকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরবেন এবং প্রান্তিক মানুষের সমস্যাগুলোকে জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দেবেন।