৭৪ বছরে রাবি: ইতিহাস, ঐতিহ্য আর স্বপ্নের এক আলোকবর্তিকা

০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৪২ PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। দীর্ঘ ৭৩ বছরের পথ চলায় নিজস্ব আলোয় আলোকিত এই বিদ্যাপীঠ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে গৌরব ও ঐতিহ্য বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই মাত্র ১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে পরিসর। ১৯৫৩ সালে রোপণ করা বীজটি বর্তমানে বিশাল মহিরুহে পরিণত হয়েছে।

শহীদ ড. শামসুজ্জোহার স্মৃতিবিজড়িত দেশের অন্যতম এই বিদ্যাপীঠের রয়েছে গৌরব-ঐতিহ্যের সুদীর্ঘ ইতিহাস। ব্রিটিশ আমলে রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নের জন্য ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী কলেজ। এই কলেজে আইন বিভাগসহ পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন শ্রেণি চালু করা হলেও কিছুদিন পরই সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তখনই রাজশাহীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজন অনুভূত হয়। ১৯৪৭ সালের দিকে রাজশাহীতে স্যাডলার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়।

১৯৫০ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ৬৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে গিয়ে কারারুদ্ধ হন ১৫ ছাত্রনেতা। পরে ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে ঢাকায় একটি ডেলিগেশন পাঠানো হয়। এভাবে একের পর এক আন্দোলনের চাপে স্থানীয় আইন পরিষদ রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়। এই আন্দোলনে একাত্ম হন পূর্ববঙ্গীয় আইনসভার সদস্য প্রখ্যাত আইনজীবী মাদার বখ্শ।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ফোনকলেই কি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফুটবলারের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেল?

অবশেষে ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইনসভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আইন পাস হয়। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইতরাত হোসেন জুবেরীকে সঙ্গে নিয়ে মাদার বখ্শ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। এর পর রাজশাহী কলেজে শুরু হয় রাবির পথচলা।

বর্তমানে ৩০৩ দশমিক ৮০ হেক্টর আয়তনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে প্রায় ১১০০ শিক্ষক ও ২০০০ প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার (বিদেশি শিক্ষার্থীসহ)। এর প্রায় অর্ধেক ছাত্রী। বর্তমানে ১২ অনুষদের অধীন বিভাগ রয়েছে ৫৯টি। বেড়েছে অবকাঠামো সুবিধা। ১২টি অ্যাকাডেমিক ভবনসহ বর্তমানে রাবির ছাত্রদের থাকার জন্য আবাসিক হল রয়েছে মোট ১১টি ও ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ৬টি। এ ছাড়া গবেষক ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক ডরমেটরি।

সুদীর্ঘ সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা নিয়ে অনেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রেখেছেন। দীর্ঘ এ সময়ে রাবি তৈরি করেছে ভাষা বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, সেলিনা হোসেন, ইতিহাসবিদ আব্দুল করিম, তাত্ত্বিক ও সমালোচক বদরুদ্দীন উমর, চলচ্চিত্র পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম, নাট্যকার মলয় ভৌমিক, মাসুম রেজা ও ক্রিকেটার আল আমিন হোসেনদের মতো অসংখ্য গুণীজনকে।

দিবসটি উপলক্ষে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রাক্তন সব শিক্ষার্থী, গবেষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় যারা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রিয় দেব, আজ ‘দেশু ৭’ শুটিংয়ের শেষ দিন, তাই ভাবলাম কথাগুলো…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
ফুলবাড়ীয়ার সন্তোষপুর বনে ইকো পার্কের প্রতিবাদে মানববন্ধন
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
আইসিইউ-ভেন্টিলেটর নয়, হাম ঠেকানোর একমাত্র সমাধান টিকা: স্বা…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
ডিনস অ্যাওয়ার্ডজয়ী প্রজ্ঞা এবার যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড স…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা চায…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬