হল শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নিশাত © টিডিসি সম্পাদিত
৬ বছরে তিনবার ফেল করায় ড্রপআউট হয়ে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হল শাখার সাধারণ সম্পাদক। ড্রপআউট হলেও গত ৬ মাস ধরে হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলের ২৩২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত ওই ছাত্রদল নেতার নাম আব্দুল্লাহ আল নিশাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের একজন শিক্ষার্থী। তার বাসা নওগাঁ জেলায়। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএসসি (অনার্স) পার্ট-২ পরীক্ষায় পরপর দুইবার অকৃতকার্য হন ছাত্রদল নেতা নিশাত। পরের বছর কৃতকার্য হলেও পরবর্তী বছর আবারও অকৃতকার্য হন তিনি। ফলে ড্রপআউট হয়ে যান নিশাত।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল নিশাত বলেন, কোনো একটা কারণে আমি পরীক্ষায় অ্যাটেন্ড করতে পারিনি। এই কারণে আমার ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়। গতকাল (৪ জুলাই) প্রভোস্ট স্যার জানান যে আমার সিট বাতিল করা হয়েছে। এরপর আমি আবার হলে থাকার জন্য আবেদনপত্র দিয়েছি। যদি প্রভোস্ট স্যার অনুমতি দেন তাহলে আমি থাকব আর না হয় নেমে যাব।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, তার (নিশাত) বিষয়টি আমি অবগত আছি। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম এবং অসুস্থ থাকার কারণে সে ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারেনি, যার কারণে সে ড্রপআউট হয়েছে। এজন্য সে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে, যাতে বিশেষ বিবেচনায় তার পড়াশোনা পুনরায় চালু করা হয়। এর আগেও বিশেষ বিবেচনায় ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীও পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছে। আমি চাই, তাকে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এখন ড্রপআউট হওয়ার পরে যদি হলে থাকার নিয়ম না থাকে, তাহলে তাকে হল ছেড়ে দিতে হবে। হল প্রভোস্ট যদি তাকে হলে থাকার অনুমতি না দেয় তাহলে তাকে হল ছেড়ে দিতে হবে।
ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার অনুমতি না পাওয়া অবধি হলে থাকতে পারেন কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, না, না, অনুমতি না পাওয়া অবধি সে হলে থাকতে পারে না।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মতিহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সামিউল ইসলাম সরকার বলেন, তিনি (নিশাত) যে ড্রপআউট, সে বিষয়টি আমি আগেই অবগত ছিলাম। আমি তাকে হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছি। ড্রপআউট হওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে হলে থাকার অনুমতি পান না।
তিনি আরও বলেন, এতদিন তো হলের অ্যালটমেন্ট দেওয়া হয়নি। অ্যালটমেন্ট দেওয়ার সময় যাদের বৈধ কার্ড নেই তাদের হলত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।