মো. নাঈম ইসলাম © সংগৃহীত
সমালোচনার মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সৈয়দ আমীর আলী হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) মো. নাঈম ইসলামের আবাসিকতা বাতিলের আদেশ স্থগিত করেছেন হল প্রাধ্যক্ষ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হারুনর রশিদের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন আদেশে বলা হয়, নাঈম ইসলাম হল সংসদের একজন নির্বাচিত ভিপি হওয়ায় হল সংসদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সচল রাখার স্বার্থে সোমবার (২৯ জুন) জারি করা তার আবাসিকতা বাতিলের আদেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।
এর আগে সোমবার হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য বিনা অনুমতিতে সংগ্রহ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগে নাঈম ইসলামের আবাসিকতা বাতিল করে আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল হল প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দরিদ্র কোটায় আবেদন করে হলে ওঠেন হল ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা। এই তথ্যটি অফিস থেকে সংগ্রহ করেন ওই হল সংসদের ভিপি নাঈম ইসলাম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন মতিহার হল সংসদের ভিপি তাজুল ইসলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগে হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর নাঈম ইসলামের হলের আবাসিকতা বাতিলের আবেদন করেন ওই ছাত্রদল নেতা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাঈমের আবাসিকতা বাতিলের নোটিশ দেয় হল প্রাধ্যক্ষ।
হল সংসদের ভিপি নাঈম ইসলাম বলেন, তিনি কোনো তথ্য চুরি করেননি; অফিস থেকেই নথি সংগ্রহ করেছিলেন। বরং হল প্রভোস্ট দরিদ্র কোটায় হল শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজারকে সিট দিয়েন এটি নোটিশ বোর্ডে না দিয়ে গোপন করেছেন। এ ছাড়া আসিফ উদ্দিন, মামুন মিয়া নামের কয়েকজন ছাত্রদলের নেতাকে ইতোপূর্বে দারিদ্র্য কোটায় হলে সিট দিয়েন হল প্রভোস্ট, কিন্তু এখনো নোটিশ আকারে প্রকাশ করেননি।
এ বিষয়ে সৈয়দ আমীর আলী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হারুনর রশিদ বলেন, ‘নাঈম আমার সঙ্গে আগে দেখা করলে হয়তো সিট বাতিলের বিষয়টি আসত না। তার বিরুদ্ধে হল অফিস থেকে একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে চাইলে সে তথ্য দেওয়ার কথা স্বীকার করে। পরে হল প্রশাসনের সভায় এটিকে গুরুতর প্রশাসনিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তার আবাসিকতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পরবর্তী সময়ে হল সংসদের সদস্যদের অনুরোধে এবং হল সংসদের কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে।’
আবাসিকতার তথ্য নোটিশ আকারে প্রকাশ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হলের কিছু সিট বিশেষ বিবেচনায় প্রাধ্যক্ষের এখতিয়ারে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব বরাদ্দ নোটিশ আকারে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আমি সবসময় সক্ষমতার মধ্যে থেকেই সিট বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করি।’