ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কোনো সাবজেক্টই খারাপ না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। শনিবার (১৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘অনেকেই বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবজেক্ট ভালো, ওই সাবজেক্ট খারাপ। আসলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সাবজেক্ট খারাপ না। এখানে কোনো সাবজেক্ট তোমাদের চাকরি দিবে না, কোনো ডিপার্টমেন্ট তোমাকে চাকরি দিবে না। বরং তোমার মেধা, তোমার প্রচেষ্টা তোমাকে চাকরি পর্যন্ত নিয়ে যাবে। সেই লক্ষ্য যাতে অর্জিত হয় সেজন্য তোমাদের প্রথম বর্ষ থেকেই দরকার বর্ষ ভিত্তিক পরিকল্পনা করা। যেই ডিপার্টমেন্টে তুমি পড়াশোনা করো সেই ডিপার্টমেন্টে যাতে তোমার একটা ভালো ফলাফল থাকে। সেই ডিপার্টমেন্ট সম্পর্কে যাতে তোমার একটা ভালো একটা জানাশোনা থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ একই সাথে তোমার যাতে বিভিন্ন সফ্ট স্কিল থাকে। এখানে ডিইউডিএস আছে, হলভিত্তিক বিভিন্ন ক্লাব আছে , বিভিন্ন সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আছে সেগুলোর সাথে যুক্ত হতে পারো। এর বাইরে আইএমএল আছে, সেখান থেকে একটা এক্সট্রা ল্যাংগুয়েজ শিখতে পারো। একটা এক্সট্রা ভাষা যদি শিখতে পারো তাহলে দেখা যাবে তোমার দক্ষতা বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে।’
ভিপি বলেন, ‘পাশাপাশি থার্ড ইয়ার থেকে যারা উচ্চশিক্ষা নিয়ে বাইরে যেতে চাও তারা জিআরই ও আইইএলটিএসের প্রস্তুতি নিতে পারো। আমাদের অনেক রিসোর্স পার্সনরা আছেন তাদের সঙ্গে আমরা তোমাদের কানেক্ট করিয়ে দেবো। আর ফোর্থ ইয়ার মাস্টার্সে যারাে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিতে চাও তারা সেভাবে চাকরির পড়াশোনা করতে পারবে। এভাবে যদি তোমাদের বর্ষভিত্তিক প্রস্তুতি থাকে তাহলে অনার্স শেষ হওয়ার পরে তোমার আর কোনো হতাশা কাজ করবে না। তোমার একাডেমিক এক্সিলেন্সি থাকবে, তোমার সফ্ট স্কিল থাকব, উচ্চ শিক্ষার জন্য তোমার স্কিল থাকবে। পাশাপাশি সরকারি চাকরির প্রস্তুতিও হয়ে যাবে,ইনশাআল্লাহ ‘
ঢাবির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা চাই আমার সামনে এখানে ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা যারা বসে আছো তারা একদিন শুধু বাংলাদেশেই না বরং সারা বিশ্বের নেতৃত্ব দিবে। আমি বিশ্বাস করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেই ক্যাপাসিটি আছে। আমরা দেখেছি আমাদের অনেক শিক্ষার্থী অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, এমআইটিতে গিয়ে সেখানে ভালো রেজাল্ট করে। তারা সেটা কোনো বাংলাদেশে পারে না? কারণ আমরা তাদেরকে সেই রিসোর্স দিতে পারছি না।’
ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিবেশ ঠিক করার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি ঢাবিকে সেই পরিবেশ দেওয়ার। একটা স্বপ্নের ক্যাম্পাস নির্মাণের। একজন শিক্ষার্থী যখন প্রথম বর্ষে আসবে তখন তার একটা পড়ার টেবিল থাকবে, তার খাদ্যের নিরাপপত্তা থাকবে, স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা থাকবে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস বিনির্মাণ করবো যেখানে শিক্ষার পরিবেশ থাকবে।’
তিনি আরও বলেন,‘পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব অখণ্ডতার জন্য তারা জীবন দিতেই প্রস্তুত থাকবে। শিরদাঁড়া উঁচু রেখে ইনসাফের পক্ষে কথা বলবে। সত্যের পক্ষে কথা বলবে। কারো দাসত্ব করবে না। কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে না।’