শনিবারের বাস চালু

অসহযোগিতা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগ সর্ব মিত্রর, ট্রেজারার বললেন— ‘শুধু বলেছি, আমাকে সময় দিন’

০৬ মে ২০২৬, ০৯:০৬ PM , আপডেট: ০৬ মে ২০২৬, ০৯:১৯ PM
অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও সর্ব মিত্র চাকমা

অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও সর্ব মিত্র চাকমা © ফাইল ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শনিবার বাস সার্ভিস চালু করতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বাজেট দিলেও আটকে যাচ্ছে ট্রেজারার স্বাক্ষর না দেওয়ায়- এমনটাই অভিযোগ করেছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। এছাড়া ট্রেজারের বিরুদ্ধে ডাকসু নেতাদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগও করেছেন তিনি। 

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড  এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর দাবি, বৈঠক থাকায় ডাকসুর নেতাদের কাছে সময় চেয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেন, “আমি বলেছি, আমাকে সময় দিতে হবে। এখন এটাকে যদি বলা হয় যে আমি তাদের ফাইল আটকে রেখেছি, তাহলে আমার কিছু বলার নেই।”

আজ বুধবার (৬ মে) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এসব কথা বলেন তিনি। এরআগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তোলেন। 

তিনি বলেন, “আজ সকাল থেকে আমি কন্টিনিউয়াস মিটিং করছি। ওরা (ডাকসু নেতৃবৃন্দ) আমাকে বলছে, ‘স্যার, ফাইলটা আপনার কাছে।’ তখন আমি ফাইলটা দেখালাম যে, ডিরেক্টর অফ অ্যাকাউন্টস গতকাল সাইন করেছে, আর আজ আমার অফিসে এসেছে। আমার তো ফাইলটা দেখতে হবে, দেখে মতামত দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যে মতামত দেওয়া দরকার, আমি সেটাই দেব। কিন্তু ওরা আমাকে বলছে, ‘স্যার, এখনই সাইন করে দেন।’ ওরা প্রশাসনিকভাবে এভাবে কথা বলতে পারে না। বাট দিস ইজ হোয়াট দে ওয়ার ডুয়িং। আমি বলেছি, আমাকে সময় দিতে হবে। এখন এটাকে যদি বলা হয় যে আমি তাদের ফাইল আটকে রেখেছি, তাহলে আমার কিছু বলার নেই।”

তিনি আরও বলেন, “তারা তখনই ফাইলটা সাইন করে দিতে হবে বলছিল। কিন্তু আমি তখন বের হয়ে যাচ্ছিলাম। আমি বলেছি, ‘দেখো, আমার বাইরে কাজ আছে।’ তখন তারা জানতে চায়, ‘স্যার, কখন আসবেন?’ আমি বলেছি, ‘বাবা, আজকে আমার কন্টিনিউয়াসলি মিটিং চলছে। এইমাত্র ভিসির সঙ্গে পরপর তিনটা মিটিং করে আসলাম। আমি ফাইল দেখে দিয়ে দেব, তুমি নিশ্চিত থাকো—আমার এখানে পড়ে থাকবে না।”

ইউজিসি থেকে দুই বছরের জন্য দেওয়া বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি তাদের বলেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি কোনো কিছু আরম্ভ করে, সেটা বন্ধ করতে পারে না। এখন তোমরা দুই বছরের জন্য বাজেট নিয়ে আসছো। আমি যদি এটা চালু করে দিই, পরে দুই বছর পর সরকার টাকা না দিলে তো এই সার্ভিস বন্ধ করা সম্ভব হবে না। তোমরা আমাকে নিশ্চয়তা এনে দাও যে এই অর্থায়ন কন্টিনিউয়াসলি হবে এবং ইউজিসি সবসময় এই টাকা দেবে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রান্সপোর্ট খাতে যে বাজেট আসে, খরচ তার চেয়েও দ্বিগুণ চলে যায়। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এখন বিষফোঁড়া হয়ে গেছে। আমি সিম্পলি এই কথাগুলোই বলেছি।”

কোষাধ্যক্ষ আরও বলেন, “আমি কখনো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সম্পর্কে কোনো পোস্ট দিই না। নিজের বিষয়ে বা কোনো ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদও করতে পারি না। কিন্তু তাদের যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়ার সুযোগ আছে, তারা লিখে দিয়েছে। আমি শুধু বলেছি, আমাকে সময় দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যে মতামত দেওয়ার কথা, আমি সেটাই দেব।”

তিনি বলেন, “এ বিষয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের ক্ষমতা আছে। তিনি চাইলে অ্যাপ্রুভ করে ফেলতে পারেন। কিন্তু আমার দায়িত্ব হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে কাজ করা এবং সেই অনুযায়ী মতামত দেওয়া। ভাইস চ্যান্সেলর নট নেসেসারিলি আমার কথা শুনতেই হবে। যেমন এই বিষয়গুলো বলার কথা ছিল প্রো-ভিসির, কিন্তু তিনি বলেননি। তবে যেহেতু এখানে আর্থিক বিষয় জড়িত, তাই আমাকে বলতেই হবে যে এখন আমাদের দুই বছরের বাজেট আছে, কিন্তু পরে যদি না থাকে, তখন তো এটি বন্ধ করা যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো কিছু চালু করলে তা বন্ধ করা কঠিন।”

শনিবার ক্লাস ও পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি স্টুডেন্টদের সঙ্গে একমত যে কিছু কিছু বিভাগে শনিবার ক্লাস ও পরীক্ষা হয়। কিন্তু সংখ্যাটা খুব কম। ধরুন, কোনো বিভাগে ২০০ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা হচ্ছে। সেই ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য আমাকে সব রুটে শনিবার সকালে ও বিকেলে ট্রিপ চালাতে হবে। অথচ দেখা যাবে অনেক বাস প্রায় খালি যাচ্ছে—হয়তো একজন, দুজন বা তিনজন শিক্ষার্থীর জন্য বাস চালাতে হচ্ছে। আমি ওদের (ডাকসু নেতাদের) সঙ্গে অ্যাবসোলিউটলি একমত যে শনিবার ক্লাস-পরীক্ষা হয়। বরং তাদের দাবি হওয়া উচিত ছিল শনিবার কোনো ধরনের ক্লাস বা পরীক্ষা না রাখা। সেটা করা সম্ভব ছিল। এ বছরের বাজেট আলোচনায় গত বছরের তুলনায় বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। দিস ইজ দ্য রিয়ালিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।”

তিনি বলেন, “আমি ওদের সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করিনি। আমি শুধু বলেছি, ‘বাবা, আমাকে সময় দাও। তুমি বললেই তো আমি সাইন করে দিতে পারি না। আমাকে দেখতে হবে, বুঝতে হবে, তারপর মতামত দিতে হবে।’ দ্যাটস অল। আমি বলেছি, আমি এখন বের হচ্ছি, পরে এসে ফাইলটি দেখে সাইন করে দেব। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যে মতামত দেওয়া দরকার, আমি সেটাই দেব। এরপর ভাইস চ্যান্সেলর চাইলে সেটা ইগনোর করতে পারেন কিংবা চালুও করতে পারেন। উনি চালু করে দিলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু দুই বছর পরে যদি কেউ প্রশ্ন তোলে যে ট্রেজারারের তো এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার কথা ছিল, তাহলে? আমি সিম্পলি প্রশ্ন তুলেছি। দ্যাটস অল, আর কিছু না।”

এরআগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সর্ব মিত্র লেখেন, শনিবারের বাস সার্ভিস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক। সবশেষে ইউজিসি থেকে একটা বাজেটও নিয়ে এসেছেন তিনি। কিন্তু সেই ফাইল পড়ে আছে ট্রেজারারের অফিসে; তার স্বাক্ষর পেলেই ব্যাপারটা উপাচার্যের টেবিলে উঠবে। কিন্তু তিনি ডাকসুকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে স্বাক্ষর করছেন না।

তিনি আরও লেখেন, ফাইল ট্রেজারারের টেবিলেই ছিল। কিন্তু না তিনি সাইন করবেন না। নেগেটিভ ফিডব্যাক দিয়ে কাগজটা পাঠাবেন, কখন ফিডব্যাক পেতে পারি প্রশ্নের উত্তরে তার জবাব, ‘আমি আমার অফিস কি তোমার কথায় চালাব?’ অসহযোগিতা করতেই পারেন কিন্তু অপমান করার অধিকার আপনার নেই স্যার! ছাত্রের সাথে পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করার এই ইম্যাচুরিটি ছাড়ুন, দায়িত্বশীল আচরণ করতে শিখুন।

গবেষণায় জোর পাবিপ্রবির, এক বছরে প্রকাশ ৮৬ গবেষণাপত্র
  • ২০ জুলাই ২০২৬
পাঁচ বছরে ১৬ শিরোপা: বিশ্ব ফুটবলের অপরাজেয় শক্তি এখন স্পেন
  • ২০ জুলাই ২০২৬
সেই সাহেদ করিম ফের গ্রেপ্তার
  • ২০ জুলাই ২০২৬
ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজে জোনাল সেলস ম্যানেজার নিয়োগ
  • ২০ জুলাই ২০২৬
ঢাবি উপাচার্যের বাসভবন প্রাঙ্গণে শতাধিক বৃক্ষ রোপণ
  • ২০ জুলাই ২০২৬
অবৈধ ড্রেজার পাইপ ঝুঁকিতে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প
  • ২০ জুলাই ২০২৬