জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে সম্প্রতি অতিরিক্ত মশার উপদ্রব বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন আবাসিক হল, লেকপাড়, মসজিদ, খেলার মাঠ, লাইব্রেরি ও একাডেমিক ভবনের আশপাশে মশার উৎপাত বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, মশার উৎপাত রোধে ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে ফগিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক হলগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ফগিং কার্যক্রমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ক্যাম্পাসে কার্যকর ফল আসবে না।
জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ক্যাম্পাসে বিস্তীর্ণ জলাশয় ও লেক রয়েছে। বর্ষার পর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিং করলেই কার্যকর সমাধান আসবে না। ধোঁয়া দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক কিছু মশা সাময়িকভাবে মারা যায়, কিন্তু এতে লার্ভা ধ্বংস হয় না। ফলে কয়েকদিন পর আবার একই অবস্থা তৈরি হয়।
তার মতে, সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। আবাসিক হল ও ড্রেনে জমে থাকা পানিতে নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ, পরিত্যক্ত টায়ার ও পানি জমে থাকতে পারে এমন পাত্র অপসারণ, পিট ও নর্দমা ঢেকে রাখা এবং ড্রেনগুলো চলমান রাখা জরুরি। কোথাও ময়লা বা ঘাস জমে পানি আটকে থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। ড্রেন কোনোভাবেই বন্ধ রাখা যাবে না।
এছাড়া ক্যাম্পাসের ডোবা বা ছোট জলাশয় পরিষ্কার করে সেখানে মাছ ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি, যাতে লার্ভা প্রাকৃতিকভাবে ধ্বংস হয়। প্রয়োজনে টেমিফস জাতীয় লার্ভিসাইড ব্যবহার করা যেতে পারে। অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, আমি যে কাজগুলোর কথা বলছি, প্রতিটিই সমন্বিতভাবে করতে হবে। দুয়েকটি ব্যবস্থা নিলে স্থায়ী সমাধান আসবে না।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ জমে থাকা পানিতে জন্মায় এবং দিনে কামড়ায়। তাই শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ কক্ষ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব বা বালতিতে পানি জমিয়ে না রাখা এবং প্রয়োজনে মশারি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।