মুজিব বেঁচে থাকলে বাংলাদেশে এখনো ৪টি পত্রিকা থাকত: জেডিপি আহ্বায়ক 

১৬ জুন ২০২৬, ০৮:১৬ PM
‘বাকশাল থেকে ডিজিটাল যুগ: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটুকু?’ শীর্ষক আলোচনা সভা

‘বাকশাল থেকে ডিজিটাল যুগ: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটুকু?’ শীর্ষক আলোচনা সভা © টিডিসি ফটো

‘শেখ মুজিব বেঁচে থাকলে বাংলাদেশে এখনো ৪টি পত্রিকা থাকত' বলে উল্লেখ করেছেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ। 

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে মধুর ক্যান্টিনে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি) কর্তৃক আয়োজিত ‘বাকশাল থেকে ডিজিটাল যুগ: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটুকু?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

আলোচনা সভায় তিনি বলেন ‘শেখ মুজিব বেঁচে থাকলে বাংলাদেশে এখনো ৪টি পত্রিকা থাকত এবং এই ৪টি পত্রিকারই সম্পাদক থাকতেন শেখ মুজিব স্বয়ং। যমুনা টেলিভিশন, আমার দেশ পত্রিকা কিংবা প্রথম আলোর মতো গণমাধ্যম তিনি শুরু করতেই দিতেন না। এজন্যই মহান আল্লাহ পত্রিকা বন্ধের মাত্র ২ মাসের মাথায় তার মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন। তার কন্যা শেখ হাসিনা পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ইসলামিক টিভি, দিগন্ত টিভি, চ্যানেল ওয়ান ইত্যাদি বন্ধ করলেও আল্লাহ তাকে দিল্লিতে প্রতিস্থাপিত করেছেন। ফলে আমরা আবারও মুক্ত গণমাধ্যম গড়ার সুযোগ ও বাকস্বাধীনতা পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরেও গণমাধ্যমের উন্মেষ খুব একটা ঘটেনি। অনেক মিডিয়া আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও প্রটেকশন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এসব ‘মিডিয়ালীগ’ এখন বিএনপিকে ফ্যাসিস্ট বানানোর এজেন্ডা হাতে নিয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি যদি ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে চায়, তবে শুরুতেই তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাই।

নাঈম আহমাদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ অবজারভার, ইত্তেফাক ও বাংলাদেশ টাইমস—এই চারটি পত্রিকা ছাড়া অন্য সব পত্রিকা তখন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এগুলো ছিল বাকশালের মুখপাত্র। বাংলাদেশে এখনো গণমাধ্যম বলতে কিছু নেই; আছে শুধু মুখপাত্র। কোনোটি দলীয় মুখপাত্র, কোনোটি মাফিয়াদের মুখপাত্র, কোনোটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র। এত এত মিডিয়া থাকলেও প্রকৃত অর্থে ‘বাংলাদেশের মুখপাত্র’ বলার মতো একটি আস্থাবান গণমাধ্যমের অভাব প্রকট। 

ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল মিডিয়া এখনকার ক্ষমতাবানরা ভয় পান বলে তিনি মন্তব্য করেন। এজন্য ক্ষমতাবানরা ‘মোজো সাংবাদিকদের’ বিরুদ্ধে প্রায়শই কটূক্তি ও অপপ্রচার করেন। মোজো সাংবাদিকরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা ছিল। তাদের সাথে নিয়ে আমরা হাসিনার ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করেছি। নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম হলে সেখানেও মোজো সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে লড়াই করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ছাত্রমঞ্চের মুখপাত্র তাহসিন নাভিদ নির্ণয় বলেন, ডানপন্থী ও প্রগতিশীল—উভয় পক্ষের মধ্যেই গণমাধ্যমে হামলার প্রশ্নে মৌলবাদী আচরণ দেখা যায়। প্রথম আলোতে হামলা হলে এক পক্ষ খুশি হয়, আবার আমার দেশ পত্রিকায় হামলা হলে অন্য পক্ষ খুশি হয়। কিন্তু গণমাধ্যমের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

জেডিপির প্রধান সংগঠক আহছান উল্লাহ এর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন জেডিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাদমান আলম, যুগ্ম সদস্য সচিব মাহতাব হোসেন সাব্বির, কেন্দ্রীয় সদস্য মানিষা আক্তার শ্রুতি, আবদুল হামিদ এবং জাতীয় ছাত্রমঞ্চের মুখপাত্র তাহসিন নাভিদ নির্ণয় প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা স্বাধীন, ভুয়া তথ্যমুক্ত ও জনগণের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হিসেবে গণমাধ্যমকে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

টেরিটরি রিটেইল এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে ভিভো বাংলাদেশ, আবেদন …
  • ১৬ জুন ২০২৬
বিনা ছুটিতে ঢাকায় যাওয়ার অভিযোগ বেড়া পাউবোর ৫ কর্মকর্তা-কর্…
  • ১৬ জুন ২০২৬
ম্যাচের আগে নিউইয়র্কে তুমুল সংঘর্ষে আর্জেন্টিনা- আলজেরিয়া স…
  • ১৬ জুন ২০২৬
‘তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না’ বলে চাঁদা দাবি ছাত্রদল নেতার…
  • ১৬ জুন ২০২৬
পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কলেজছাত…
  • ১৬ জুন ২০২৬
‎নবীগঞ্জে ঝুলন্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
  • ১৬ জুন ২০২৬
×