ওয়েবমেট্রিক্স র্যাঙ্কিং
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় © ফাইল ছবি
শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েবমেট্রিক্সের র্যাঙ্কিংয়ে টানা তৃতীয়বার দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। ২০২৫ সালের প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণের র্যাঙ্কিংয়েও দেশসেরা হয়েছিল এ বিদ্যাপীঠ। সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং-২০২৬ সালের প্রথম সংস্করণের (জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বছরের প্রথম সংস্করণে (জানুয়ারি) রাবির অবস্থান বৈশ্বিক অবস্থান ১ হাজার ২৮২তম এবং এশিয়ার মধ্যে ৩৯৩তম। গত বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে রাবির বৈশ্বিক অবস্থান ১ হাজার ৪২৪তম এবং উভয় র্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার মধ্যে ছিল ৪৫৭তম। প্রথম সংস্করণে আবারও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, যার আন্তর্জাতিক অবস্থান ১ হাজার ৪০১তম। অন্যদিকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যার বৈশ্বিক র্যাঙ্কিং ১ হাজার ৬৩৫।
তালিকায় দেশসেরা শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (বিশ্ব র্যাঙ্কিং ১৭২৭), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বিশ্ব র্যাঙ্কিং ১৮০০), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (বিশ্ব র্যাঙ্কিং ১৮৮২), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (বিশ্ব র্যাঙ্কিং ১৮৮৮), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (বিশ্ব র্যাঙ্কিং ২০৫৪), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বিশ্ব র্যাঙ্কিং ২৪০৬) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (বিশ্ব র্যাঙ্কিং ২৪০৭)।
প্রসঙ্গত, এই র্যাঙ্কিং প্রণয়নে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষণ পদ্ধতি, বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রভাব, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক প্রাসঙ্গিকতাসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত ভূমিকা বিবেচনা করে মাদ্রিদভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট ছাড়াও তাদের গবেষক ও প্রবন্ধ বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়। ২০০৪ সাল থেকে ওয়েবমেট্রিক্স নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এ র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে আসছে। প্রতি বছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে তারা এটি প্রকাশ করে থাকে।
আরও পড়ুন: ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গেজেট প্রকাশ, যেভাবে চলবে কার্যক্রম
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, গবেষণা মূল্যায়নে ওয়েবমেট্রিক্স র্যাঙ্কিং অনেক ভালো। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, আমরা এ র্যাঙ্কিংয়ে পরপর তিনবার দেশসেরা হয়েছি। নানা দিক থেকে আমরা বিভিন্ন কষ্টের মধ্যে আছি, কিন্তু গবেষণার জায়গায় আমাদের যে কোয়ালিটি আছে, তা অনেক ভালো। কোয়ালিটি এবং পরিমাণ এই দুটোকে একসাথে বিবেচনা করলে আল্লাহর রহমতে আমরা অনেক ভালোই করছি।

তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় সামনে আমরা আরো ভালো করব। কারণ কিছু অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষকদের আমরা নিয়োগ দিতে পেরেছি। আমাদের শিক্ষকদের পরিশ্রমের কারণে আমরা এই জায়গাটা পরপর তিন বছর ধরে রাখতে পেরেছি। এজন্য প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং তাদেরকে নিয়ে আমরা অত্যন্ত খুশি।
উপাচার্য বলেন, আমি বিশ্বাস করি, যারা গবেষণা কাজে একটু পিছিয়ে আছেম তারা এ অর্জনে আরও উৎসাহিত হবেন। ভালোর তো কোনো শেষ নেই; আমাদের ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক সবাই আরও ভালো করবেন এই আশা ব্যক্ত করছি।