চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ছেলে ভর্তি পরীক্ষার্থী, কোর কমিটিতে ডিন বাবা’ শিরোনামে গত বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন। এদিকে ঘটনাটি তদন্ত করতে এক সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস সম্পাদক বরাবর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম মোতাবেক ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘এ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় কো-অর্ডিনেটর হিসেবে জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম কিবরিয়া দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জয়েন্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সানাউল্লাহ চৌধুরী ও মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন দায়িত্বে ছিলেন।
জয়েন্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ণ, মডারেশন, টাইপিং, প্রিন্টিং, প্যাকেটিং, বিতরণসহ গোপনীয় ও সংবেদনশীল কাজের জন্য আমি আমন্ত্রিত হই নাই। এমতাবস্থায়, উক্ত পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কো-অর্ডিনেটর আমাকে ব্যতিরেকেই ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ণসহ গোপনীয় ও সংবেদনশীল কাজ সম্পন্ন করেছেন। কাজেই ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত গোপনীয় ও সংবেদনশীল কাজের সাথে আমার কোনরূপ সম্পৃক্ততা ছিল না। অতএব এ বিষয়ে যে সকল উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সে সবের কোন ভিত্তি নাই। যেকোন বিভ্রান্তি ছড়ানো রোধে এবং সবার সন্তুষ্টির জন্য বিষয়টি অবগত করলাম।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
সংবাদের প্রতিবাদের বিষয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি সুমন বাইজিদ বলেন, প্রথমত অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন স্যার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যে বক্তব্যটি প্রকাশ করেছেন তিনি চাইলে এই বক্তব্যটিই নিউজ প্রকাশিত হওয়ার দিন দিতে পারতেন। আমিসহ আরও একজন সাংবাদিক স্যারকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি সাড়া দেননি বিধায় বক্তব্য ছাড়াই নিউজ প্রকাশিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত তিনি বক্তব্যে দাবি করেছেন জয়েন্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে তিনি প্রশ্ন প্রণয়নসহ গোপনীয় ও সংবেদনশীল কাজে আমন্ত্রিত ছিলেন না। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা যদি তার নিজ সন্তান, ভাই-বোন বা নিকটাত্মীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করবেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইউনিট কো-অর্ডিনেটরকে লিখিত বা মৌখিকভাবে জানাবেন। তবে অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন স্যার এটির কোনটিই করেননি যা কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মো. গোলাম কিবরিয়া নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদক আরও বলেন, আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন হিসেবে তিনি অবশ্যই নিয়ম সম্পর্কে অবগত। চলতি শিক্ষাবর্ষেই পদার্থবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম নিজের ছেলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় সকল কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। এর আগেও একই কারণে অনেক শিক্ষক পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। আজকে এই প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি হাতে পাওয়ার পরও আমি স্যারকে ২ বার ফোন দিলেও সাড়া দেননি। উনি নিয়ম জেনেও সেটা অনুসরণ না করায় এবং বক্তব্য না দেওয়ায় বিষয়টি অনুসন্ধানের দাবি রাখে এবং চবি প্রশাসন তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে।
তদন্ত কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সানাউল্লাহ চৌধুরীকে প্রধান করে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। এ ছাড়া অফিসিয়াল সাপোর্টের জন্য একজনকে দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।