স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট, কথা বলাসহ বিভিন্ন সেবা দেবে বাংলালিংক © ফাইল ছবি
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ ও সাগরে থাকা মানুষকে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে ‘ডিরেক্ট-টু-সেল’ (ডিটুসি) সেবা বাণিজ্যিকভাবে চালু করতে চায় বাংলালিংক। অর্থাৎ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট, কথা বলাসহ বিভিন্ন সেবা পাবেন গ্রাহকরা। এ সংক্রান্ত ঘোষণা দিয়ে বিজ্ঞাপনও প্রচার শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবা শুরুর সময় জানানো হয়নি।
জানা গেছে, স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে এ সেবা চালুর পরিকল্পনা বাংলালিংকের। অনুমোদন পেলে শুরুতে এসএমএস ও সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হবে। পরে টাওয়ার ছাড়াই মুঠোফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গত মে মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা সেবাটি সফল হয়েছে দাবি করে ১২ আগস্ট বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে অপারেটরটি। বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একমাত্র স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক সব সময় সবখানে, শিগগিরই আসছে। এতে স্টারলিংকেও লোগোও ব্যবহার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিটুসি প্রযুক্তিতে মোবাইল ফোনের সংকেত সরাসরি স্যাটেলাইটে যায়। স্যাটেলাইট সেই সংকেত গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠালে তা অপারেটরের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বার্তা বা ডেটা আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি করে। প্রযুক্তিগতভাবে উপযোগী সাধারণ ফোর-জি মোবাইল ফোন দিয়েই এ সেবা ব্যবহার করা সম্ভব।
বাংলালিংক জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং অনুমোদন পেলে বিদ্যমান সেলুলার মোবাইল সার্ভিসেস অপারেটর লাইসেন্সের আওতায় বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালু করা হবে। যদিও সেবা চালুর আগে অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাংলালিংক যে তরঙ্গ ব্যবহার করে ডিটুসি সেবা দিতে চায়, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) এখনো তার ব্যবহার শুরুর অনুমোদন দেয়নি।
আরও পড়ুন: ২০ লাখ টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বানাতে চাওয়া সেই অধ্যাপককে এবার ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলো
২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্সে (ডব্লিউআরসি) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া বিটিআরসির এনজিএসও স্যাটেলাইট সার্ভিসের নির্দেশিকায় ‘স্যাটেলাইট ও স্থলভিত্তিক আইএমটি সেবা’ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ডিটুসির পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান বলেছেন, সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর অনুমোদন পেলে বাণিজ্যিকভাবে এ প্রযুক্তি চালু করা সম্ভব হবে।