যান্ত্রিক নাকের প্রতীকি ছবি © এআই সম্পাদিত ছবি
খাবার নিরাপদ কি না, নষ্ট হতে শুরু করেছে কি না কিংবা এতে ক্ষতিকর উপাদান মেশানো হয়েছে কি না এসব তথ্য ভবিষ্যতে জানা যেতে পারে শুধু একটি ছোট যন্ত্রের সাহায্যে। গবেষকেরা এমন একটি যান্ত্রিক নাক তৈরি করেছেন, যা গন্ধ বিশ্লেষণ করে খাবারের মান যাচাই করতে সক্ষম।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, যন্ত্রটিতে একটি ক্ষুদ্র চিপের সঙ্গে অসংখ্য সংবেদনশীল সেন্সর যুক্ত রয়েছে। এমনভাবে এটি তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে ফ্রিজ, স্মার্টফোন বা অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে খাবার নষ্ট হওয়ার আগেই ব্যবহারকারী সতর্কবার্তা পেতে পারেন।
শুধু ঘরেই নয়, রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশনের আগেও এই যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। খাবারের ওপর যন্ত্রটি ঘুরিয়ে নিলেই সেটি নিরাপদ কি না, তা জানা যাবে। এমনকি খাবারে প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করে টাটকা দেখানোর চেষ্টা করা হলেও সেটিও শনাক্ত করতে পারবে এই প্রযুক্তি।
গবেষকেরা জানান, খাবার পচতে শুরু করলে বা নষ্ট হলে সেখান থেকে নির্দিষ্ট কিছু গ্যাস ও জৈব যৌগ নির্গত হয়। মানুষের নাক সাধারণত সেগুলো শনাক্ত করতে পারে না। তবে যন্ত্রটির সেন্সর সেই গ্যাস ও যৌগ সহজেই শনাক্ত করতে সক্ষম।
আরও পড়ুন : ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি পূরণে রাখুন এই ৫ খাবার, কমতে পারে ক্লান্তি ও ডার্ক সার্কেল
এ ছাড়া যন্ত্রটিতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা খাবারের ভেতরে চলমান রাসায়নিক পরিবর্তনও বিশ্লেষণ করতে পারে। ফলে খাবারটি হজমের জন্য উপযোগী কি না, অথবা এতে এমন কোনো উপাদান রয়েছে কি না যা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে, সে সম্পর্কেও আগাম সংকেত দিতে পারে।
গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ফ্রিজে সংরক্ষিত কাঁচা মাছ বা মাংসে জীবাণুর সংক্রমণ হয়েছে কি না কিংবা সারাদিন ফ্রিজের বাইরে রাখা কোনো খাবার খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে কি না, সেটিও এই যন্ত্রের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব হবে।
শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, ভবিষ্যতে চিকিৎসাক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার হতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকেরা। তাদের ধারণা, রোগীর শরীরের গন্ধ বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন রোগ শনাক্ত করার প্রযুক্তিও একসময় এই যান্ত্রিক নাকের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার।