ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম

এআই খেয়ে নিচ্ছে সাড়ে ৯ কোটি মানুষের চাকরি!

০২ জুলাই ২০২৫, ০৬:১৬ PM , আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৫, ১১:০০ AM
চলতি বছরে প্রায় ৯ কোটি চাকরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আওতায় চলে যেতে পারে

চলতি বছরে প্রায় ৯ কোটি চাকরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আওতায় চলে যেতে পারে © সংগৃহীত

চাকরির ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী হতে চলেছে, তা নিয়ে চলতি বছরে (২০২৫ সাল) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম একটি সমীক্ষা করে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নানা পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যাপী শ্রমবাজার পুনর্গঠিত হচ্ছে। সমীক্ষা বলছে, আগামী দিনে কাজের বাজারে একটা বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। প্রযুক্তি উন্নত হলে গবেষণাগারেও ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যেতে পারে যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা। ফলে চলতি বছরে প্রায় ৯ কোটি চাকরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আওতায় চলে যেতে পারে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধি ব্যবহারকারী সংস্থাগুলো সাড়ে ৭ কোটি নতুন চাকরি সৃষ্টিও করবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সত্যিই চাকরির বাজারে থাবা বসাচ্ছে? এই ভয়টাই চেপে বসেছে বিশ্বজুড়ে। চারদিকে চাকরি গেল গেল রব। অনেকেই মনে করছেন, চাকরির বাজারে ভবিষ্যতে ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এআই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগ্রাসী প্রসারের কারণে বিভিন্ন সংস্থা মানবসম্পদের বোঝা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর হতে চাইছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে এ প্রশ্নই যেন উঠে আসছে বারবার। আশঙ্কা ছড়িয়েছে, এআই অনেক কাজ কেড়ে নেবে। এআই দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে বহু সংস্থাই কর্মী সঙ্কোচনের পথে হাঁটছে।

চাকরির বাজারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী হতে চলেছে, তা নিয়ে চলতি বছরে (২০২৫ সাল) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম একটি সমীক্ষা করে। প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে যে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব রূপান্তর, অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যার পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যাপী শ্রমবাজার পুনর্গঠিত হচ্ছে। সমীক্ষা বলছে আগামী দিনে কাজের বাজারে একটা বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে বিশ্ববাজারে উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটলেও আগামী দিনে চাকরির বাজারে সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত চাকরিজীবীদের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দখল নিচ্ছে আমাদের জীবন ও যাপনের বহু ধাপ। এআই সস্তা এবং এর প্রয়োগও সহজ।

আগামী পাঁচ বছরে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অন্যান্য দক্ষতার তুলনায় লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিগ ডেটা। তার পরে রয়েছে নেটওয়ার্ক ও সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষা।

এক হাজারের বেশি সংস্থার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সমীক্ষাটি চালানো হয়েছে। সেই রিপোর্টে উঠে এসেছে, ব্যবসায়িক রূপান্তরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে দক্ষতা। সমীক্ষা বলছে, নতুন প্রযুক্তিতে কাজ কমবে না। কাজ করাটা আরও সহজ হয়ে উঠবে।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে শুরু হয়েছে এআইয়ের প্রয়োগ। দিন দিন এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে বহু মানুষ যেমন চাকরি হারাতে পারেন, তেমনই বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৈরি হবে নতুন নতুন চাকরির সম্ভাবনাও। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমান কর্মসংস্থানের ১৪ শতাংশ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ করবে।

এমন কিছু কাজ, যা শিখিয়ে নেওয়া যায়, তা কৃত্রিম বুদ্ধিনির্ভর মেশিন করতে পারবে প্রচলিত প্রযুক্তির সাহায্যেই। প্রযুক্তি উন্নত হলে গবেষণাগারেও ক্লান্তিহীন ভাবে কাজ করে যেতে পারে যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা। ফলে,২০২৫ সালে প্রায় ন’কোটি চাকরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আওতায় চলে যেতে পারে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধি ব্যবহারকারী সংস্থাগুলো সাড়ে ৭ কোটি নতুন চাকরি সৃষ্টিও করবে।

চাকরির ভূমিকা পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকও আছে। এআই আসার কারণে অনেক নতুন নতুন চাকরির ক্ষেত্রও তৈরি হবে। আবার কিছু নিরাপদ চাকরি আছে, যেখানে এআই তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। এ অবস্থায় কাদের কাজ থাকবে আর কাদের থাকবে না? সমীক্ষা বলছে, নতুন প্রযুক্তিতে কাজ কমবে না। কাজ করাটা আরও সহজ হয়ে উঠবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তিগত বুদ্ধির দ্বারা চালিত ভূমিকার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই চাকরিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিগ ডেটা বিশেষজ্ঞ, ফিনটেক ইঞ্জিনিয়ার এবং এআই ও মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞ। যারা প্রাথমিক স্তরে রয়েছেন বা সংস্থায় জুনিয়র অ্যানালিস্ট বা ডেটা ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাদের ঘাড়ে কোপ পড়ার শঙ্কার কথা শুনিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সমীক্ষা।

যেসব ক্ষেত্রে হাতেকলমে কাজের দক্ষতার কোনো দরকার পড়ে না, অর্থাৎ নিয়মমাফিক একই ধাঁচে কাজ করে যেতে হয়, সেসব কাজের বাজারে মানবসম্পদ ছাঁটাই করে এআই তার দখল নিয়ে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। যেমন ধরা যাক বিষয় লেখক বা কনটেন্ট রাইটার। এ ধরনের কাজ বা কনটেন্ট যাঁরা তৈরি করেন, সেই কাজ এক–চতুর্থাংশ এআই করে দিতে সক্ষম।

ওয়ার্ডস্মিথ বা অটোমেটেড ইনসাইটের মতো চ্যাট বট দিয়ে যে কোনো প্রবন্ধ বা প্রতিবেদন লিখতে যে সময় লাগে তার চেয়ে ঢের বেশি সময় ব্যয় করেন এক কর্মী। সমাজমাধ্যমে অনেকেই স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তাদের চাকরির জায়গা দখল করে নিয়েছে এআই। বর্তমানে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম এবং স্টার্ট-আপ সংস্থা এআইনির্ভর হতে শুরু করেছে।

গ্রাফিক ডিজ়াইন ও ভিজ়্যুয়াল আর্ট-সম্পর্কিত কাজও এআইয়ের কাছে চলে যেতে পারে। অ্যালগরিদমের মাধ্যমে যেসব কাজ করা হয়, সেসব কাজের ক্ষেত্রগুলো ক্রমে এআইয়ের দখলে চলে যেতে শুরু করেছে।

আরও কয়েকটি পেশা রয়েছে যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তার মধ্যে রয়েছে বিমাক্ষেত্রে দায়ভার নির্ধারণ করার কাজ, গুদাম রক্ষণাবেক্ষণের কাজ কিংবা কায়িক শ্রমনির্ভর উৎপাদনের কাজ, গ্রাহক পরিষেবার কাজ, ডেটা এন্ট্রির কাজ ইত্যাদি। এ ছাড়া হিসাবরক্ষক, প্যারালিগাল চাকরি, রেডিয়োলজিস্টের মতো কয়েকটি পেশায় চাকরি আর সৃষ্টি না-ও হতে পারে আগামী পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে।

ফরেন্সিক বিজ্ঞানী, আর্থিক বিশেষজ্ঞ, ভূতাত্ত্বিক প্রযুক্তিবিদ থেকে শুরু করে শিল্পক্ষেত্রে হিসাবরক্ষকের চাকরি—সবই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনুষঙ্গে ক্রমে বাড়বে। কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম মেধার ব্যবহার হবে সীমিত। যেমন কৃষিবিশারদ, মনোরোগবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, অপরাধের বিচার, শিক্ষকতা, মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণা, গল্প-উপন্যাস-কবিতা লেখার মতো ক্ষেত্রে। বাড়বে দক্ষ কর্মীদের চাহিদা।

ডেলিভারি পৌঁছে দেওয়ার কর্মী, সফ্‌টঅয়্যার ডেভেলপার, নির্মাণ কর্মী, খুচরা দোকানকার, কলের মিস্ত্রি, নার্সিং পেশার সঙ্গে যুক্ত কর্মী, সমাজকর্মীদের চাকরিগুলোর পরিসর আগামী পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উঠে এসেছে সমীক্ষায়।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

মালয়েশিয়ার দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শাবিপ্রবির সমঝোতা স্মা…
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
মোজতবা খামেনি কোথায় আছেন, জানালেন রুশ রাষ্ট্রদূত
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
টানা তিন দফায় বাড়ল সোনার দাম, আজ ভরি কত?
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
কোন সময় ঘুমালে রোগের ঝুঁকি বাড়ে?
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
ডেনমার্ককে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপে চেক প্রজাতন্ত্র
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বকাপে দেখা যাবে না লেভানডস্কির পোল্যান্ডকে
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence