কুষ্টিয়া পলিটেকনিক

বান্ধবীর গায়ে কাদা লাগায় মারামারি-ভাঙচুর, ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা

ছাত্রাবাস
ছাত্রাবাসে ব্যাপক ভাঙচুর  © সংগৃহীত

কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা মাঠে ফুটবল খেলার সময় মাঠের কাদা ছিটে এক ছাত্রীর গায়ে লাগার জেরে ওই ছাত্রীর পঞ্চম সেমিস্টারে পড়ুয়া বন্ধুদের হামলায় লালন শাহ ছাত্রাবাসে ব্যাপক ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার জেরে গোটা ক্যাম্পাসে মারাত্মক উত্তেজনার সৃষ্টি হওয়ায় কর্তৃপক্ষের জরুরি মিটিংয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য মীর মশাররফ হোসেন ও লালন শাহ ছাত্রাবাসে এবং তাপসী রাবেয়া ছাত্রীনিবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার সময় কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এ ঘটনা ঘটে।

জরুরি মিটিং থেকে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মীর মশাররফ হোসেন ও লালন শাহ ছাত্র হোস্টেল এবং তাপসী রাবেয়া ছাত্রী হোস্টেল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব ছাত্রছাত্রীকে ছাত্রবাস ত্যাগের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে এতে বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে চরম বিপাকে পড়েন শিক্ষার্থীরা। দূর গন্তব্যে যাওয়া ছাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা প্রকাশ করেন।

হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আসিফ, মাহি, অন্তর, সেতুসহ আরো বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে লালন শাহ হলের রাকিব অভিযোগ করে বলেন, আমরা মাঠে ফুটবল খেলার সময় এক মেয়ে শিক্ষার্থীর গায়ে কাদা লাগায় আমাদের সাথে ওই শিক্ষার্থীর বন্ধুর তর্কাতর্কি হয়। ওই ছেলে এই বিষয়টি ছাত্রলীগের সভাপতি আনাসের কাছে নালিশ দেয়ায় তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনাস পারভেজ আরও এক বছর আগেই তার কোর্স সম্পন্ন করলেও এখনো তিনি প্রভাব খাটিয়ে হলে অবস্থান করেন। এখানে থেকেই তিনি নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডসহ ইতোপূর্বেও অসংখ্যবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা আনাস পারভেজ বলেন, ঘটনা শোনার পর আমি আমাদের সিকিউরিটি ইনচার্জ রফি উদ্দিন বাবলুকে মোবাইলে কল করে জানাই। তিনিই আমাকে সেখানে যেতে বলেন, আমি সেখানে গেলে তারাই আমার ওপর হামলা চালায়। আমার চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়ে গেছে ঠিকই কিন্তু আমার রেজাল্ট না হওয়া পর্যন্ত হলে আমার সিট বৈধভাবেই বরাদ্দ আছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাব্বিরুল আলম বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হামলা ভাঙচুর মারধর এবং উত্তেজিত পরিস্থিতির সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সর্বশেষ পরিস্থিত বিবেচনায় কর্তৃপক্ষের হলত্যাগের নির্দেশ থাকায় সবাই ছাত্রবাস ছেড়ে বাড়ি চলে যায়।


x