‘গুচ্ছ ভর্তিতে শীর্ষ ২০-এ থাকব ভেবেছিলাম, হলাম প্রথম’

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৪ PM , আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৩ PM
ইমন দাস

ইমন দাস © সংগৃহীত

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় নিজের অবস্থান শীর্ষ ২০-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ভেবেছিলেন ইমন দাস। কিন্তু ফল প্রকাশের দিন সেই ধারণাকে ছাপিয়ে তিনি জায়গা করে নেন মেধাতালিকার শীর্ষে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতির ‘খ’ ইউনিটে ৮৬.৫ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়া এই মেধাবী শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস ও নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমের গল্প।

ইমন দাস বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন। বর্তমানে তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগে প্রথম সেমিস্টারে পড়ছেন। সম্প্রতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি তামজিদ হোসেন মজুমদারের এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইমন দাস তার সাফল্যের গল্প, ভর্তি প্রস্তুতি, ক্যাম্পাস জীবন ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা জানান।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন বেছে নিলেন?
ইমন দাস: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগীয় শহরে অবস্থিত। এখানে গবেষণামূলক ফোরাম ও সবুজ মনোরম পরিবেশ এবং পাখির আনাগোনা রয়েছে। রয়েছে বিশাল ক্যাম্পাস এরিয়া। অন্যদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে সেশন জট নেই। বিশাল এক্যাম্পাসে নানা সুযোগ সুবিধা ও রয়েছে। ফলে আমি এই ক্যাম্পাসটিকে প্রাধান্য দিয়েছি।’

বর্তমান ক্যাম্পাস লাইফের কথা জানতে চাই...
ইমন দাস: আমার বিভাগের শিক্ষকরা খুবই বন্ধুত্বপূর্ণভাবে পাঠদান দেন এবং যেকোনো সমস্যায় তারা তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারাও খুব আন্তরিক, এখানে ‘লাঞ্চের পর আসেন’ এমন কথা এখনো শুনিনি। আমি স্কুল-কলেজে যে স্বপ্নের ক্যাম্পাস কল্পনা করতাম, এখানে এসে তার বাস্তব রূপ পাচ্ছি। এর পাশাপাশি বর্তমানে আমি রোভার স্কাউটের সাথে যুক্ত রয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে ভালো লাগার দিক কোনটি?
ইমন দাস: ক্লাসরুমে এসি সংযুক্ত থাকায় পড়াশোনার পরিবেশটা সত্যিই আরামদায়ক। তবে ববির মন্দির, হল, ক্যাফে এবং সার্বক্ষণিক বাস সুবিধা, বিশাল মাঠ, নদী, পুকুর, গাছপালা ও নানান পাখির আনাগোনা—সব মিলিয়ে এটি যেন এক রাজপুরী।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোথাও পড়ার আগ্রহ ছিল?
ইমন দাস: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়ার আগ্রহ ছিল।

এ সাফল্যের পেছনে আপনার প্রধান কৌশল কী ছিল?
ইমন দাস: আমি প্রতিদিন দিদির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে যেতাম। সেখানে ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট বই পড়তাম এবং অনলাইনে দেওয়া এমসিকিউ সিলেবাস অনুযায়ী নিয়মিত প্র্যাকটিস করতাম। এই ধারাবাহিকতা আমার প্রস্তুতির মূল শক্তি ছিল এবং এই সাফল্যেরের পেছনে নৃশংস দেবের কৃপা আর স্বর্ণা দিদির সহযোগিতা ছিল অসামান্য। ভর্তি পরীক্ষার সময় এমনও হয়েছে, খাওয়ার সময় পর্যন্ত তারা আমাকে পড়া পড়ে শুনিয়েছেন ও বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাদের অবদান আমার সাফল্যের বড় অংশ।

প্রথম হওয়ার লক্ষ্য কি শুরু থেকেই ছিল, নাকি পরে তৈরি হয়েছে? 
ইমন দাস: শুরুতে প্রথম হওয়ার কথা ভাবিনি। তবে পরীক্ষা দেওয়ার পর আমার মনে হয়েছিল, আমি ১ থেকে ২০-এর মধ্যে থাকব। ফল প্রকাশের পর হলাম প্রথম। এর আগে কোচিংয়ের পরীক্ষাগুলোতে যখন নিয়মিত ২-৩-এর মধ্যে থাকতাম, তখন নিজের ওপর বিশ্বাস তৈরি হতে থাকে।

আপনার যাত্রায় সবচেয়ে কঠিন বা হতাশাজনক মুহূর্ত কোনটি ছিল? 
ইমন দাস: লিখিত পরীক্ষাগুলোই ছিল আমার জন্য সবচেয়ে হতাশাজনক। কারণ, সেখানে ফলাফল তুলনামূলক খারাপ আসত। সেই দুর্বলতা কাটাতে আমাকে প্রচুর লেখালেখির অনুশীলন করতে হয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষার দিনগুলোতে অনলাইনের প্রভাব কেমন ছিল?
ইমন দাস: আমি আমার পড়ালেখায় সোশ্যাল মিডিয়া ও ফোনকে কখনো আলাদা করিনি। ফেসবুক ও ইউটিউবে শুধু শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেখতাম, যা আমার ওপর আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করেছে। আমি বিভিন্ন এডুকেশনাল গ্রুপ ও পেজে বেশ অ্যাকটিভ ছিলাম। তবে পরীক্ষার আগের প্রায় এক-দেড় মাস ফোনে প্রায় একেবারেই অ্যাকটিভ ছিলাম না। আবার পড়াশোনার বাইরেও আমার কনটেন্ট ক্রিয়েশন, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শক ছিল।

গুচ্ছের বাইরে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন কি?
ইমন দাস: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ পরিবর্তন ৫৭তম (Psychology), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৬২৬তম (IER) ও English Literature-এর PDF merit list-এ নাম এসেছিল। তবে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেইনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ পরিবর্তন ৬৯তম, গুচ্ছতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন—এই চারটি বিশ্ববিদ্যালয়েই আবেদন করেছিলাম।

আপনি ‘খ’ ইউনিটে প্রথম হয়ে আইন বিষয়টি বেছে নিলেন কেন?
ইমন দাস: স্বর্ণা দিদি আমাকে আইন পড়ার সুবিধাগুলো বুঝিয়েছেন। যেমন বিজেএস, বার অ্যাট ল, বার কাউন্সিল, যা আমাকে এই বিষয়ে আগ্রহী করে তোলে। আমি ভবিষ্যতে ব্যারিস্টারি করতে চাই।

ভবিষ্যৎ ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
ইমন দাস: বিগত বছরের বিসিএস, ব্যাংক ও প্রাইমারি পরীক্ষায় আসা সাধারণ জ্ঞান, বাংলা ও ইংরেজি প্রশ্নগুলো খুব গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। এগুলো গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অনেক সাহায্য করে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যাচ্ছেন কমিশনের সদস্যরা
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম-৮: নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত নেতা
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
প্রাথমিকের ফল অনতিবিলম্বে, প্রশ্নফাঁস নিয়ে চূড়ান্ত ব্যাখ্যা…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
বুধবার ওসমান হাদীর কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু এন…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার সময়সূচি …
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
শেষ হলো পে-স্কেলের সভা, পেনশন নিয়ে বড় সুখবর দিল কমিশন
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9