মায়ের স্বপ্নই সাহস জুগিয়েছে, আল-মামুন এখন বিসিএস ক্যাডার

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৫ PM , আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৮ PM
মো. আল-মামুন

মো. আল-মামুন © টিডিসি সম্পাদিত

৪৬তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে গ্রাজুয়েশন করা মো. আল-মামুন। তার মেধাক্রম ৭০তম। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। সম্প্রতি তিনি তার বিসিএস জয়ের গল্প নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের মুখোমুখি হয়েছে। তার কথাগুলো শুনেছেন মুহাইমিনুল ইসলাম—

আপনার শৈশব, পারিবারিক পটভূমি সম্পর্কে বলুন। প্রশাসন ক্যাডারে আসার স্বপ্নটা কবে থেকে? কেন এই ক্যাডার বেছে নিলেন? পরিবার বা কারো বিশেষ প্রভাব ছিল কি এই সিদ্ধান্তে?
মো. আল-মামুন: বেড়ে ওঠা গ্রামে, মধ্যবিত্ত কৃষি পরিবারে। ছোট থেকেই আব্বা ও মা কে সংগ্রামমুখর জীবন যাপন করতে দেখেছি। সেখান থেকেই ইচ্ছা ছিল আব্বা-মার জন্য বড় হয়ে কিছু করার। আমার কাকা বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য, উনার মুখ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালনার গল্প শুনে অনুপ্রেরণা পেতাম।

আপনার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড কী? কবে থেকে বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন? শুরুতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
মো. আল-মামুন: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ থেকে বিসিএস এর প্রস্তুতি শুরু করি। অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি না করে বিসিএস এর প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমার জন্য। তবে হাল ছাড়িনি। আমার মা-বাবা, স্ত্রী ও শ্বশুর শাশুড়ির যথেষ্ট সাপোর্ট ছিল।

প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন কেমন ছিল? কোন বই/রিসোর্স সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে?
মো. আল-মামুন: আমি রেগুলার পড়ালেখার চেষ্টা করতাম। অল্প করে হলেও। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর কুরআন তেলাওয়াত শেষে পড়তে বসতাম। বাংলা সাহিত্য আমার সবচেয়ে প্রিয় টপিক ছিল। বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির সময় প্রিভিয়াস বছরের প্রশ্নগুলো অ্যানালাইসিস করে নিজে একটা স্টাডি প্ল্যান তৈরি করে পড়ার চেষ্টা করেছি‌। 

লিখিত পরীক্ষায় উত্তর লেখার বিশেষ কোনো টেকনিক ব্যবহার করেছেন কি?
মো. আল-মামুন: রিটেনের প্রস্তুতির সময় আমাকে সবচেয়ে বড় সহযোগিতা করেছেন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাই মো. ফজলে রাব্বী। ভাই নিজেও বিসিএস প্রশাসন ৪০তম ব্যাচের সদস্য। গতানুগতিক না লিখে তথ্যবহুল লেখা, পয়েন্ট আকারে উপস্থাপন, ডায়াগ্রাম বা বিভিন্ন প্যাটার্ন ব্যবহার করলে ভালো মার্ক তোলা সহজ হয়।

ভাইভা বোর্ডে কী ধরনের প্রশ্ন পেয়েছিলেন? ভাইভা দিতে গিয়ে কোন বিষয়টি আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে?
মো. আল-মামুন: আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা আমাকে সবসময় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস ভাইভা বোর্ডে একজন প্রার্থীকে অন্যরকম সাহস এনে দেয়। ভাইভা বোর্ডে দুইটা প্রশ্ন আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং ছিল। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্রাজুয়েশন করে আমি কেন বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে আসতে চাই এটা এবং ভারতের সাথে সম্পর্কোন্নয়নে গতানুগতিক পদ্ধতির‌ বাইরে আমরা আর কী কী উপায় বা কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণ করতে পারি। এই দুইটা প্রশ্ন।

কোচিং বনাম সেলফ-স্টাডি, আপনার অভিজ্ঞতা কী? প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময় আপনার কৌশল কী ছিল?
মো. আল-মামুন: ৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারিতে এপিয়ার্ড দিয়ে আবেদন করি। প্রস্তুতি পূর্ণাঙ্গ না থাকায় প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হতে পারিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাইনি। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে প্রস্তুতি নিয়েছি। মানসিক চাপ কাজ করত কারণ আমি বেকার অবস্থায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। আমার একটা ছোট ছেলে সন্তান আছে। ওকে ছাড়া আলাদা থেকে প্রস্তুতি নেওয়া আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন ছি‌ল। নিজেকে বুঝ‌ দিতাম যে এখন কষ্ট হলেও একদিন এই কষ্ট আমার সন্তান ও পরিবারকে ভালো রাখবে। এভাবে মানসিক চাপ সামলিয়েছি।

এই দীর্ঘ প্রস্তুতির সময় পরিবার কীভাবে পাশে ছিল? বন্ধু বা শিক্ষকদের ভূমিকা কেমন ছিল?
মো. আল-মামুন: আমার মার অনেক বড় স্বপ্ন আমাকে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে দেখা। সেখান থেকেই বিসিএস এর দিকে ঝোঁক সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ এই জার্নিতে আমার পরিবার সবসময় আমাকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বিশেষ করে আমার মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্ত্রী, বড় মামা। আমার ক্যারিয়ার গঠনে আমার ফুফাতো ভাই আল-আমিন ভাইকে সবসময় কাছে পেয়েছি ছোট থেকেই। শিক্ষকদের অবদান তো অনস্বীকার্য। বন্ধুরা সবসময় আমাকে বলত আমি বিসিএসে অনেক ভালো করব। আমার খুব কাছের একজন বন্ধু সবসময় আমাকে ম্যাজিস্ট্রেট বলেই ডাকত। ওর সাপোর্ট সবচেয়ে বেশি পেয়েছি। সব মিলিয়ে মানুষের অনেক দোয়া পেয়েছি।

একজন প্রশাসন কর্মকর্তা হিসেবে আপনার মূল লক্ষ্য কী? দেশের কোন খাতে কাজ করতে সবচেয়ে আগ্রহী? সুশাসন ও দুর্নীতি রোধে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?
মো. আল-মামুন: একজন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে আমি গ্রামীণ নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ কর্মে চাই। তাঁদেরকে কর্মমুখী শিক্ষা প্রদানে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে চাই। এছাড়া দুর্নীতি দমন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনসেবাকে আরো সহজ এবং উপযুক্ত করতে চাই।

যারা বিসিএস দিতে চায় তাদের জন্য আপনার প্রধান পরামর্শ কী?
মো. আল-মামুন: নতুন যারা বিসিএস প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য পরামর্শ লেগে থাকা। হাল‌ না ছাড়া। নিয়মিত লেখাপড়া করা ও স্রষ্টার কাছে বারবার চাওয়া। যারা নতুন প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা সবচেয়ে বড় ভুল যেটা করে সেটা হচ্ছে নিয়মিত পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট না দেওয়া। নিয়মিত পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট দিলে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়।

পড়াশোনার বাইরে আপনার শখ কী? স্ট্রেস রিলিফের জন্য কী করতেন? প্রিয় বই, লেখক বা অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব কে?
মো. আল-মামুন: পড়াশোনার বাইরে রান্না করতে আমার খুব ভালো লাগে। টুকটাক সব রান্না আমি পারি।এটা আমাকে স্ট্রেস রিলিফ করতে সহায়তা করে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার প্রিয় সাহিত্যিক। The Shawshank Redemption এর Andrew Dufresne আমার অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব।

প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়ে প্রথম পাঁচ বছরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
মো. আল-মামুন: প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করে নিজেকে একজন জনসেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমার কাছে সবাই এসে যেন নির্ভয়ে তাঁদের প্রাপ্য প্রশাসনিক সুবিধাগুলো পান এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা। জনবান্ধব সেবক হতে চাই। আমার স্বপ্ন বাংলাদেশ সরকারের একজন সৎ ও দক্ষ সচিব হওয়া।

দেশের জন্য আপনার দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন কী?
মো. আল-মামুন: করোনাকালীন সময়ে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে আমাদের গ্রামের প্রতিষ্ঠান ‘আধুনিক পাঠাগার’-এর মাধ্যমে কয়েকজন বঞ্চিত পরিবারে কিছু খাবার ও দ্রব্যসামগ্রী বিতরণ করি। এই সময় মানুষের মুখের হাসি ও দোয়া করার প্রতিফলন দেখে আমার মধ্যে স্বপ্নের বীজ বপন করি যে আমাকে বড় পরিসরে কিছু করতে হলে বিসিএস প্রশাসন একটা বড় সহায়ক হতে পারে। এই ইচ্ছাটাই আমাকে তাড়না দিত। তো সব মিলিয়ে সেই স্বপ্নকে বুকে ধরেই এগিয়েছি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে কবুল করেছেন আলহামদুলিল্লাহ।

সিমাগো র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৪ ধাপ এগিয়ে ৯ম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হামিমকে শোকজ করল ছাত্রদল
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দণ্ডিত জামায়াত নেতা সাঈদীর ‘ন্যায়ভ্রষ্ট বিচার’ নিয়ে ঢাবিতে …
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে যুবদল নেতার দুই পায়ের রগ কেটে হত্যা
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মায়ের স্বপ্নই সাহস জুগিয়েছে, আল-মামুন এখন বিসিএস ক্যাডার
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬