আব্দুল্লাহ আল মুঈন/ নটর ডেম কলেজ লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
এসএসসি পরীক্ষার আগমুহূর্তে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, সময় ব্যবস্থাপনা ও মানসিক চাপ সামাল দেওয়ার নানা দিক নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মুঈন। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীরা সাধারণত যে চারটি ভুল করে এবং শেষ মুহূর্তে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়—তা নিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিকও জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব পরামর্শ দেন মুঈন।
এসএসসি পরীক্ষার আগ মুহূর্তের প্রস্তুতি কীভাবে নেওয়া উচিত, আপনি কীভাবে নিয়েছিলেন?
গুরুত্বপূর্ণ নোট, সূত্র, সংজ্ঞা ও চিত্র নিয়ে অনুশীলন করতে হবে। বিগত বছরের বোর্ড প্রশ্ন সমাধান করে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলোতে বেশি সময় দিতে হবে। এক্ষেত্রে মেইন বইয়ের পাশাপাশি টেস্ট পেপারের সাহায্য নেওয়া উত্তম। প্রতিদিন কমপক্ষে তিনটি বিষয় পড়া ভালো।
পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীরা সাধারণত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশ্ন ঠিকমতো না পড়ে উত্তর লেখা শুরু করা, অযথা বড় করে লিখে সময় নষ্ট করা, উত্তর সম্পূর্ণ না করে ফেলে রাখা এবং খাতায় অপরিষ্কার বা অতিরিক্ত কাটাকাটি করে লেখা, যা নম্বর কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
তবে প্রস্তুতি যদি খুব ভালো হয় তবে একদিনে একটি করে বিষয় পড়তে পারো। যেমন— প্রস্তুতি ভালো থাকলে একদিনেই জীববিজ্ঞান, রসায়ন বা ইসলাম শিক্ষার মতো বই সম্পূর্ণ রিভিশন দেওয়া যায়। আর প্রস্তুতি খারাপ থাকলে নতুন কিছু পড়ার দরকার নাই।
আমি দিনে একটি বিষয় ধরে সেটি দ্রুত শেষ করার পদ্ধতি অনুসরণ করতাম।
অল্প সময়ে নতুন কিছু পড়া উচিত, নাকি শুধু রিভিশনই জোর দেওয়া ভালো?
এক কথায় বলতে হলে নতুন কিছু না পড়াই ভালো। অল্প সময়ে নতুন কিছু পড়লে উল্টো আত্মবিশ্বাস কমা বা বিভ্রান্তি বাড়ার সুযোগ থাকে। তবে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু থাকলে (যেটা বারবার পরীক্ষায় আসে) সেটা একবার দেখে নেওয়া ভালো।
পরীক্ষার হলে টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কিছু বলেন?
প্রশ্ন হাতে পাবার পর প্রথমে ২ থেকে ৩ মিনিট পুরো প্রশ্ন চোখ বোলানো উচিত। এরপর সহজ প্রশ্নগুলোর উত্তর আগে করতে হবে। আগে থেকে প্রতি প্রশ্নের জন্য সময় ভাগ করে নেওয়া দরকার। যেমন— বাংলা ১ম পত্রে সাতটি সৃজনশীল প্রশ্নের প্রতিটিতে ২০ মিনিট করে সময় নেয়া উচিত। কোনো প্রশ্ন লেখার মাঝে ভুলে গেলে সময় নষ্ট না করে আনুমানিক ফাঁকা জায়গা রেখে পরবর্তী প্রশ্নে যাওয়া উচিত। শেষে সময় পেলে না পারা প্রশ্নটির উত্তর করার চেষ্টা করবে।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত কোন ভুলগুলো করে থাকেন শিক্ষার্থীরা?
প্রথম বড় ভুল হলো বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ টপিকে গুরুত্ব না দেয়া। কম গুরুত্বপূর্ণ টপিক বর্জন করে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলোতে অধিক সময় দিতে হবে। এমসিকিউ (MCQ) ভালো করে অনুশীলন করে দক্ষতা অর্জন করা অত্যাবশ্যক।
পরীক্ষার হলের ভুলগুলো হলো—
১. প্রশ্ন ঠিকমতো না পড়া;
২. অযথা বড় করে লেখা;
৩. প্রশ্নের উত্তর শেষে অসম্পূর্ণ রাখা;
৪. অপরিষ্কার বা কাটাকাটি করে লেখা।
শেষ মুহূর্তের টেকনিক কী?
নিজের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে ওই পয়েন্ট গুলোতে বেশি জোর দেওয়া। গুরুত্বপূর্ণ সিলেক্টিভ টপিক পড়া। বারবার রিভিশন দেওয়া। অঙ্ক হাতে লিখে করা উচিত, মুখে মুখে পড়ে যাওয়া উচিত না।
পরীক্ষার সময় নার্ভাসনেস বা ভয় কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে?
পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। মনে রাখবে নার্ভাসনেস সবারই কমবেশি আসে। এক্ষেত্রে হলে গিয়ে সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রাখতে হবে। ধর্মীয় দোয়া পড়া ভালো। গভীর শ্বাস নিতে পারো। চেষ্টা করবে যেন মনে হয় এটা একটা সাধারণ পরীক্ষা দিচ্ছো। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখবে।
কঠিন প্রশ্ন পেলে কী করা উচিত; এড়িয়ে যাবে, না চেষ্টা করবে?
কঠিন প্রশ্ন পেলে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে এড়িয়ে যাবে। সহজ প্রশ্নগুলো আগে উত্তর করবে। সব লেখা শেষ করে পরে সেই প্রশ্নে হাত দিবে। চেষ্টা করে না পারলে মিলসম্পন্ন কিছু লিখে দিয়ে আসবে যাতে শূন্য না পাও।
শেষ সময়ে কোন বিষয় বা টপিকগুলো বেশি গুরুত্ব দিতে হবে?
বিগত বছরের বোর্ড প্রশ্ন এবং বারবার আসা টপিকগুলোতে বেশি গুরুত্ব দিবে। সংজ্ঞা, সূত্র, গ্রামার রুল (grammar rules) অর্থাৎ যেগুলোতে নিশ্চিতভাবে নম্বর পাওয়া যায় সেগুলো পড়ো।
পরীক্ষা চলাকালীন আপনার রুটিন কেমন ছিল?
পরীক্ষাগুলোর মাঝের ছুটিগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তবে ঘুমে যেন কমতি বা ব্যাঘাত না ঘটে। আমি পরীক্ষার দিনের আগের রাতে আগে ঘুমিয়ে মাঝরাতে উঠে বাকি পড়াগুলো রিভিশন দিতাম। এতে অনেকটা বেশি পড়া শেষ করা যেত। বাকি দিনগুলো স্বাভাবিক রুটিনে পড়তাম।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পরামর্শ কী?
১. পূর্ববর্তী পরীক্ষা নিয়ে চিন্তা করা বা বাসায় এসে উত্তর মেলানো যাবে না।
২. পরীক্ষার খাতা সুন্দর, পরিষ্কার ও গোছানো রাখা।
৩. বারবার আসা প্রশ্নগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়া।
আব্দুল্লাহ আল মুঈন
এইচএসসি ব্যাচ-২০২৬
নটর ডেম কলেজ