নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী © টিডিসি সম্পাদিত
উপকূলীয় অক্সফোর্ড খ্যাত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সপ্তম উপাচার্য হিসেবে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চের (আইএসডব্লিউআর) অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। দীর্ঘ ২৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা, উচ্চতর গবেষণা ও প্রশাসনিক কাজের এক সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার রয়েছে ড. রব্বানীর। এর আগে তিনি সফলতার সাথে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
নতুন এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক র্যাংকিং, আবাসন ও অবকাঠামোগত সংকট নিরসন, ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা, বহুল প্রতীক্ষিত ‘নকসু' নির্বাচন, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, পরিবহন সংকট এবং তৃতীয় সমাবর্তন আয়োজনসহ একগুচ্ছ সমসাময়িক ও বাস্তবমুখী বিষয় নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। শুনিয়েছেন ক্যাম্পাসকে ঘিরে তার নানামুখী স্বপ্ন, ভিশন ও প্রত্যাশার কথা। উপাচার্যের সেই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের নোবিপ্রবি প্রতিনিধি মোস্তাকিম সাদিক—
নোবিপ্রবির ৭ম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় 'দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস'-এর পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল ধরার পর আপনার প্রাথমিক অনুভূতি কেমন এবং ক্যাম্পাসকে ঘিরে আপনার মূল দর্শন কী?
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী: আপনাকে ধন্যবাদ। উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর আমার প্রথম ও প্রধান কাজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি অনুধাবন করা। এই লক্ষ্যে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অংশীজনের সাথে মতবিনিময় সভা করেছি। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং আমার কাছে তাদের প্রত্যাশা সম্পর্কে জানা। বিশেষ করে ক্লাস প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছি, যেখানে তারা অত্যন্ত খোলামেলাভাবে তাদের সংকট ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে। আমি প্রতিটি বিষয় গুরুত্বসহকারে নোট করেছি। পর্যায়ক্রমে এই সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান করাই আমার লক্ষ্য। শিক্ষা, গবেষণা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রত্যাশা পূরণ করাই আমার মূল দর্শন।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ৫ কার্যদিবসেই আপনি প্রায় সবার সাথে মতবিনিময় করেছেন। ক্যাম্পাসকে জানার এই প্রক্রিয়ায় সার্বিক কী চিত্র বা ধারণা পেলেন?
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স এখন ২০ বছর। এই সমসাময়িক সময়ে দেশে যেসকল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোর তুলনায় শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে নোবিপ্রবির অবস্থান বেশ আশাব্যঞ্জক। এমনকি আমি নিজে অতীতে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যেসব ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছি, সেই অভিজ্ঞতার আলোকেও নোবিপ্রবি-কে আমার কাছে তুলনামূলক ভালো মনে হয়েছে। ভৌত অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থাকে আমি সম্পূর্ণ আপ টু দ্য মার্ক না বললেও, তা সমসাময়িক অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ভালো। তবে এখানে কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের হল সংকট, ক্লাসরুমের স্বল্পতা এবং শিক্ষকদের বসার জায়গার অভাব রয়েছে। আমি এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি এবং একে একে এগুলোর সমাধান করব।
নোবিপ্রবিতে গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত ও উৎসাহিত করতে আপনার প্রশাসন কী বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেবে?
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী: বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষায় আমাদের গবেষণার বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম; মোট বাজেটের খুবই সামান্য অংশ এই খাতে দেওয়া হয়। তবে আশার কথা হলো, বর্তমান সরকার গবেষণা খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ফান্ড বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা তহবিল কীভাবে আরো বৃদ্ধি করা যায়, সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আকৃষ্ট করতে আমরা বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করব। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হবে, যাতে তারা হাতে-কলমে গবেষণার সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে মানসম্মত গবেষণার সংখ্যা ও গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আপনার অগ্রাধিকার কী হবে? বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী একাডেমিক ভবন-০৩ এর নির্মাণ কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আছে কী?
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী: ‘একাডেমিক ভবন-০৩’ এর প্রকল্পটি পূর্বে শুরু হয়েও সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন করে প্রকল্পটি পাশ হয়েছে এবং আগামী অর্থবছর থেকে বাজেট বরাদ্দ পেলেই এর নির্মাণ কাজ পুরোদমে শুরু হবে। এটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম সম্পূর্ণ ‘ডিজিটাল একাডেমিক ভবন', যেখানে প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে ক্লাসরুম– সবকিছুই আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতাভুক্ত থাকবে। ২০০৫ সালে সুইডেনে পড়াশোনাকালীন আমি এমন আধুনিক ও সুরক্ষিত একাডেমিক ভবন দেখেছিলাম। আমাদের এই ভবনটি হবে অত্যন্ত নিরাপদ, দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক। এতে প্রায় ১০০টি ক্লাসরুম এবং ৩০০টির মতো শিক্ষকের বসার রুম থাকবে। এটি বাস্তবায়ন হলে আমাদের ক্লাসরুম, ল্যাব ও শিক্ষক মিলনায়তনের চলমান সংকট দূর হবে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে ক্যাম্পাসের দৃশ্যপট আমূল বদলে যাবে। আমি বিশ্বাস করি, এটি দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি রোল মডেল হবে।
আর নির্মাণ কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তরের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের যে দাবি রয়েছে, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করব। কাজ যেই করুক না কেন, আমাদের মূল লক্ষ্য স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে যদি তাদের অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়, তবে আমরা অবশ্যই তা বিবেচনা করব।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও বিভিন্ন সংগঠন প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে আপনার প্রশাসনের অবস্থান কী?
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী: আমি জেনেছি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ বছরের জন্য ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যার মেয়াদ আগামী ২২ জুন শেষ হতে যাচ্ছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী হবে, তা নিয়ে আমি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালমনাই এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাথে মতবিনিময় করব। যেহেতু বিষয়টি পূর্বে রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছিল, তাই একক কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সব অংশীজনের মতামত বিবেচনা করা হবে। একটি সুষ্ঠু ধারায় চলমান রাখার প্রতিশ্রুতি যদি তারা দেয়, পারস্পরিক সহাবস্থানের ভিত্তিতে যদি তারা অবস্থান করে তাহলে একটি সুষ্ঠু, নিয়মতান্ত্রিক ও সহাবস্থানমূলক ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের হাওয়া লেগেছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামীতে নোবিপ্রবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (নকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন কী?
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী: এ বিষয়ে সর্বাগ্রে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইনটি পর্যালোচনা করব। আইন বা সংবিধানে যদি এটি অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তবে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন ছাড়া তা আয়োজন করা সম্ভব নয়। তবে ছাত্ররাজনীতির বিষয়ের মতোই, যদি সকল অংশীজনের সাথে আলোচনা করে একটি ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা যায়, তবে ‘নকসু' নির্বাচনের বিষয়ে আমরা অবশ্যই ইতিবাচকভাবে ভেবে দেখব।
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের একটি যৌক্তিক অগ্রাধিকার বা সুযোগ দেওয়ার দাবি রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার সুনির্দিষ্ট মতামত কী?
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী: শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আমি প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব এবং এই বিষয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। কারণ, একজন শিক্ষক প্রায় ৪০ বছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সেবা দেবেন; তিনি যদি যোগ্য না হন, তবে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় তথা জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রার্থী নোবিপ্রবির নিজস্ব শিক্ষার্থী নাকি অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের, তা আমার কাছে বিবেচ্য নয়; মেধার বিচারে যিনি শ্রেষ্ঠ, তিনিই নিয়োগ পাবেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেধাবী হলে তারা অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবেন, তবে কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে ইঙ্গিত না করে মেধার নিয়মেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি বর্তমানে নিষ্ক্রিয় রয়েছে। শিক্ষক সমিতিকে পুনরায় সক্রিয়, গতিশীল ও নিরপেক্ষ করতে আপনার পরামর্শ বা উদ্যোগ কী হবে?
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী: সম্মানিত শিক্ষকদের সাথে আমি প্রথমে কথা বলব এবং তাদের মনোভাব ও মতামত জানব। শিক্ষকরা যদি সমিতি পুনঃসক্রিয় করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এগিয়ে আসেন, তবে প্রশাসন থেকে সব ধরনের ইতিবাচক সহযোগিতা করা হবে।
ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করা এবং বাসের তীব্র সংকট দূর করতে আপনার প্রশাসন কোনো জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে কী?
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী: দায়িত্ব নেওয়ার পরই আমি আবাসিক হলগুলো পরিদর্শন করেছি এবং হল প্রভোস্টদের সাথে মতবিনিময় করেছি। বর্তমান বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির মাঝেও ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে যে খাবার দেওয়া হচ্ছে, তা হলের তুলনায় খুব বেশি নয়। তবে আমার মূল তাগিদ হলো খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করা, যাতে শিক্ষার্থীরা খাওয়ার যোগ্য ও স্বাস্থ্যকর খাবার পায়। এ বিষয়ে হল প্রশাসনকে মনিটরিং জোরদার করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আর বাসের সংকটের বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে শুধুমাত্র সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) কিংবা বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্পনসরশিপ বা অনুদান সংগ্রহ করে বাসের সংখ্যা বাড়ানো যায় কিনা, সে বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা করছি।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি দ্রুত তৃতীয় সমাবর্তন বাস্তবায়ন। এ বিষয়ে আপনার প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ নেবে?
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী: আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সমাবর্তন আয়োজনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। আগামী এক মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের যে সভা অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে আমি তৃতীয় সমাবর্তন আয়োজনকে অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করব। যেহেতু আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, তাই এই সভার মাধ্যমেই আমরা সমাবর্তনের একটি সম্ভাব্য ও চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করতে পারব বলে আশা করছি।
ক্রীড়াঙ্গনে আপনার ব্যক্তিগত দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সম্পৃক্ততা রয়েছে। নোবিপ্রবির ক্রীড়া খাতকে আরও আধুনিক ও উন্নত করতে আপনার বিশেষ পরিকল্পনা কী?
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী: খেলাধুলার প্রতি আমার ব্যক্তিগত অনুরাগের জায়গা থেকে ইতোমধ্যেই আমি শরীরচর্চা বিভাগকে ক্যাম্পাসে নিয়মিত সব ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করা, যাতে তারা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নোবিপ্রবি-কে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া চর্চার মানোন্নয়নে প্রশাসন সব ধরনের লজিস্টিক ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করবে।
নোবিপ্রবিকে আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ের আরো সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে আসতে আপনার পরিকল্পনা কী?
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী: বর্তমানে দৃশ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আন্তর্জাতিক র্যাংকিং, সেটি মূলত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের কার্যক্রমের ফলাফল। পরবর্তী বছরে আমার সদ্য বিদায়ী প্রশাসনের কাজের মূল্যায়ন প্রকাশিত হবে এবং আরো দুই বছর পর আমার বর্তমান এই সময় র্যাংকিংয়ে প্রতিফলিত হবে। বর্তমান অবস্থানকে পর্যালোচনা করে কীভাবে বিশ্বমঞ্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরো সুদৃঢ় ও উচ্চতর করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট এবং সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা থাকবে।
একজন অভিভাবক হিসেবে আগামী ৪ বছর পর নোবিপ্রবিকে কোন উচ্চতায় দেখতে চান? আপনার চূড়ান্ত ‘ভিশন’ কী?
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী: এককথায়, আমি নোবিপ্রবির শিক্ষা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক র্যাংকিং এবং ক্রীড়াসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি দৃশ্যমান ও কাঠামোগত ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চাই। চার বছর পর যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ একবাক্যে স্বীকার করেন যে– ভৌত অবকাঠামো থেকে শুরু করে শিক্ষার গুণগত মানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বড় ধরনের গুণগত রূপান্তর ঘটেছে। আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের ঠিক কতটুকু অর্জন করতে পারব, তা সময় বলে দেবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী– সবাইকে সাথে নিয়ে এই পরিবর্তন আনার জন্য আমার পরিশ্রম ও আন্তরিকতার কোনো কমতি থাকবে না।
নোবিপ্রবির বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে আপনার বিশেষ বার্তা কী?
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী: আমার একমাত্র বার্তা হলো– আমি সর্বোচ্চ সততা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে চাই। ইনস্টিটিউশনের প্রত্যেকে– তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী যা-ই হোন না কেন—যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অর্পিত দায়িত্ব ও ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করেন, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি কেউ রুখতে পারবে না। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নোবিপ্রবি সামনের দিকে এগিয়ে যাবেই।