মাদক সেবন করিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ, মানতে না পেরে চলে গেলেন তরুণী

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৭ PM , আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৮ PM
সিমিদের বাসায় সাবলেট থাকা সাইদুর

সিমিদের বাসায় সাবলেট থাকা সাইদুর © টিডিসি সম্পাদিত

রাজধানীর মহাখালীতে ১৩ বছরের কিশোরী সিমির আত্মহত্যার ঘটনায় একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। পরিবারের অভিযোগ, জোর করে মাদক সেবন করিয়ে সিমিকে দিনের পর দিন ধর্ষণ, নির্যাতন এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিমিদের বাসায় সাবলেট থাকা সাইদুর-টুম্পা দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে পরিবার।

পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে সিমি, তার মা ও এক স্বজন বনানী থানায় গিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তবে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ তাদের। যদিও বনানী থানা পুলিশের দাবি, সিমির মৃত্যুর আগে এমন কোনো অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি।

গত ১৫ জুলাই মহাখালীর একটি ভবনের ষষ্ঠ তলায় মায়ের সঙ্গে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করে সিমি। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ভবনের ম্যানেজারের মাধ্যমে দুই সন্তানসহ সাইদুর ও টুম্পা দম্পতি ওই বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠেন।

পরিবারের ভাষ্য, তারা বাসায় ওঠার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে। ১ মে সাইদুর দম্পতি বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর সিমির আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন তার মা। একই সময়ে বাসা থেকে টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে থাকে।

সিমির মা বলেন, ‘বাসা সাবলেট দেওয়ার পর ওদের নানা অনিয়মের কথা জানতে পারি। তারা বাসা ছাড়ার পর থেকেই ঘর থেকে টাকা খোয়া যেতে শুরু করে। পরে স্বজনদের চাপের মুখে কিশোরী সিমি জানায়, তাকে হুমকি দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।’

পরিবারের দাবি, পরে সিমিকে বনানী থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সে সেখানে ঘটনার বিস্তারিত জানায় এবং নির্যাতনের কথাও বলে। সিমির মা বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা তাদের কথা বিস্তারিত শোনেন। এরপর অভিযুক্তের ছবি দেখানো হলে পুলিশ পরদিন থানায় আসতে বলে।

তবে পরদিন থানায় যাওয়ার বিষয়ে ফোন করে জানতে চাইলে তাদের যেতে নিষেধ করা হয় বলে দাবি করেন সিমির মা।

আরও দেখুন: ইমাম-উলামাদের আপত্তি, জনপ্রিয় ব্যান্ড অ্যাশেজের কনসার্ট স্থগিত

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বনানী থানায় যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে মুঠোফোনে তারা জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে সিমির মৃত্যুর আগে থানায় উপস্থিত হয়ে মৌখিক অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ।

এদিকে, বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে সাইদুর ও টুম্পা দম্পতির আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ কোনো তথ্য যাচাই না করেই বাড়ির ম্যানেজার সাইদুরকে সাবলেট হিসেবে বাসা ভাড়া দিয়েছিলেন।

সিমির আত্মহত্যার ঘটনায় করা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।

ফুলবাড়ীয়ার সন্তোষপুর বনে ইকো পার্কের প্রতিবাদে মানববন্ধন
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
আইসিইউ-ভেন্টিলেটর নয়, হাম ঠেকানোর একমাত্র সমাধান টিকা: স্বা…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
ডিনস অ্যাওয়ার্ডজয়ী প্রজ্ঞা এবার যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড স…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা চায…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশে আদিবাসী নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সম্প্রচারমন্ত্রী…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬