সাক্ষাৎকার
মুহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী, ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

শিক্ষার্থীরা অনেক হতাশায় ভোগে, তাদের মানসিক চাপ কমাতে কাজ করছি

ডিআইইউ ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা মুহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী

ডিআইইউ ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা মুহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী © ফাইল ফটো

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ অনেক বেশি। অ্যাকাডেমিক প্রতিযোগিতা, ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা, পারিবারিক চাপ— সব মিলিয়ে তারা অনেক সময় হতাশায় ভোগে। এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের কারণে সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও বাড়ছে। তাই আমরা কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দিচ্ছি।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নুর ইসলাম, ডিআইইউ প্রতিনিধি
আপডেট: ১৮ মে ২০২৬, ১০:৫১ AM

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপদ ক্যাম্পাস, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও কল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্র কল্যাণ দপ্তর। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে নেওয়া হচ্ছে নানা পরিকল্পনা। এসব বিষয় নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস-এর সঙ্গে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী—  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস-এর ডিআইইউ প্রতিনিধি নুর ইসলাম—

ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা হিসেবে আপনার মূল দায়িত্বগুলো কী?

মূলত শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক জীবনের বাইরে যেকোনো সমস্যা— মানসিক চাপ, আর্থিক সংকট, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা ব্যক্তিগত সংকট— এসব বিষয়ে সহযোগিতা করা হয়। পাশাপাশি নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করাও আমাদের কাজের অংশ।

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ কী বলে মনে করেন?

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ অনেক বেশি। অ্যাকাডেমিক প্রতিযোগিতা, ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা, পারিবারিক চাপ— সব মিলিয়ে তারা অনেক সময় হতাশায় ভোগে। এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের কারণে সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও বাড়ছে। তাই আমরা কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দিচ্ছি।

মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয় কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে?

আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিং সেবা চালু রেখেছি। শিক্ষার্থীরা যেন কোনো সংকোচ ছাড়াই সহায়তা নিতে পারে, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। নিয়মিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও মোটিভেশনাল সেশন আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক ও সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বা সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা হয়?

আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনি। সরাসরি অফিসে এসে, ইমেইলে কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করি।

সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?

শুধু অ্যাকাডেমিক শিক্ষাই একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ বানায় না। নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও সামাজিক দক্ষতা গড়ে তুলতে সহশিক্ষা কার্যক্রম খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা ক্লাব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করি।

নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

র‍্যাগিং, বুলিং কিংবা যেকোনো ধরনের হয়রানির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। আমরা শিক্ষার্থীদের সচেতন করছি এবং অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ, ইতিবাচক ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

ভবিষ্যতে ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কী?

আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও সহজলভ্য সেবা চালু করতে চাই। অনলাইন সাপোর্ট সিস্টেম, ক্যারিয়ার গাইডলাইন, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?

শিক্ষার্থীদের বলব, শুধু ভালো ফলাফল নয়, নিজেদের মানবিক ও দক্ষ মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। যেকোনো সমস্যায় হতাশ না হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা নিতে হবে। ইতিবাচক মানসিকতা, পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে তারা অবশ্যই সফল হবে।

আরও দুইটি যুদ্ধবিমান হারাল যুক্তরাষ্ট্র
  • ১৮ মে ২০২৬
জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের বিশেষ ১০ আমল
  • ১৮ মে ২০২৬
৫ বছরে বিশ্বে চাকরি হারাবে ৯ কোটি মানুষ, বাংলাদেশে ঝুঁকিতে …
  • ১৮ মে ২০২৬
তনু হত্যায় মিলল আরও এক ব্যক্তির ডিএনএ, তদন্তে নতুন মোড়
  • ১৮ মে ২০২৬
কুমিল্লাসহ তিন জেলায় দুপুর ১২টার মধ্যে কালবৈশাখী ঝড়ের সতর্ক…
  • ১৮ মে ২০২৬
শিক্ষার্থীরা অনেক হতাশায় ভোগে, তাদের মানসিক চাপ কমাতে কাজ ক…
  • ১৮ মে ২০২৬