মো. রাজু আহমেদ © টিডিসি সম্পাদিত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাজু আহমেদ। যিনি আসন্ন ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে আলোচনায় থাকা ডজনখানেক নেতাদের মধ্যে একজন। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে তিনটি মামলা ও ৫ বার হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এই শিক্ষার্থী। এরমধ্যে একবার গ্রেপ্তার হয়ে ৬ মাসের বেশি কারাবরণও করেন। ছাত্রদল ও ছাত্ররাজনীতি নিয়ে তার স্বপ্ন ও পরিকল্পনা, ক্যাম্পাসের ছাত্ররাজনীতির হালচাল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা নিয়ে পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে। গল্প-আলাপে পাঠকদের জন্য তার চুম্বক অংশ তুলে ধরছেন ইরফান এইচ সায়েম—
ছাত্ররাজনীতিতে আসার পর সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন?
মো. রাজু আহমেদ: ছাত্ররাজনীতিতে আসার পর সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ছিল বিগত ফ্যাসিবাদী আমলটা পার করা। এই ১৭ বছর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের এই ফ্যাসিবাদী শাসন জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছিল। একজন বিরোধী মতের নেতা, কর্মী কিংবা সমর্থক হওয়ার কারণে জেল খাটতে হয়েছে, হামলার শিকার হতে হয়েছে, মামলার শিকার হতে হয়েছে। এমনকি গুম-খুনও হতে হয়েছে। এই ১৭ বছরে আমরা এরকম ১৭০০ কাহিনী বলতে পারবো। যা আমাদের উপর দিয়ে ঘটে গেছে।
সর্বশেষ জুলাই-আগস্ট ৩৬ দিনের যে আন্দোলন ছিল সেটা আমাদের চোখের উপর দিয়ে গেছে। ৩৬ দিনে প্রত্যেকটা দিন ছিল ছিল একেবারে মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে আসার মতো। যারা আমরা রাজপথে ছিলাম, যারা মিছিল করেছি, যারা পিকেটিং করেছি তারা প্রত্যেককেই— এমনও হয়েছে যে একসাথে মিছিল করছি, এক হাত দূরত্বে বা দুই হাত দূরত্বে গুলি খেয়ে একজন মারা গেছে। তাকে নিয়ে একজন হাসপাতালে চলে গেছে, আবার মিছিলের সামনে চলে যাচ্ছে— এরকম লোমহর্ষক যে কাহিনীগুলো সেটা অনেকগুলো আছে। যেগুলো আসলে বর্ণনা করা যাবে না। আমাদের প্রত্যেকেরই যারা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে ছিল, প্রত্যেকের সাথে এমন শত শত কাহিনী আছে যেগুলো বলতে গেলে হয়তো দিনের পর দিন চলে যাবে।
এই ফ্যাসিবাদী আমলটা পার করাই ছিল আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যে ১৭ বছর আমরা কীসের মধ্যে গিয়েছি। সব সবচেয়ে স্বস্তির খবর হচ্ছে এটা বা আনন্দের খবর হচ্ছে এটা যে, বাংলাদেশ থেকে আমরা ফ্যাসিবাদকে মুক্ত করতে পেরেছি। বাংলাদেশে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। সেই যাত্রাতে মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছে, মুক্তভাবে কথা বলতে পারছে। তার স্বাধীনতা ফিরে এসেছে এবং এই স্বাধীনতা ফেরার জন্য, মানুষের এই কথা বলার জন্য, আমরা যে একজন ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে রাজপথে ছিলাম—সেটা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রার্থী বলে মনে করি।
বিগত আমলে তিনটি মামলা ও ৫ বার হামলার শিকার হয়েছেন আপনি। এরমধ্যে একবার গ্রেপ্তার হয়ে ৬ মাসের বেশি কারাবরণও করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা যদি বলতেন?
মো. রাজু আহমেদ: ক্যাম্পাসগুলো সে সময় আসলে ত্রাসের রাজত্ব ছিল। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১১-১২ সেশন শিক্ষার্থী ছিলাম। এই ক্যাম্পাসে পাঁচবার আমার উপর হামলা হয়েছে। প্রথমবার যখন হামলা হয় তখন ২০১৫ সালে, অমর একুশে বইমেলা চলছিল। তখন আমি একটা রাজনৈতিক দলের কর্মী। ওই সময় আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রোগ্রাম থাকতো। প্রতিদিন হরতালের প্রোগ্রাম, অবরোধের প্রোগ্রাম। তো এরকম একটা প্রোগ্রাম থেকেই ফিরে আসছিলাম তখন ছাত্রলীগ বকশিবাজার থেকে আমাকে ধরে ডিএমপি কমিশনারকে দিয়েছিল। তখন মারধর তো করেছিল। একইসঙ্গে মারাত্মকভাবে জখমও করেছিল তারা এবং ৬-৭ ঘণ্টা গুম করে রেখেছিল। পরে ৫০ হাজার টাকা ডিএমপি থেকে পুরস্কার নিয়েছিল ছাত্রলীগ এবং ওই মামলাতে আমি বিশেষ ক্ষমতা আইন বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৬ মাস ২৭ দিন জেলে ছিলাম।
শুধু আমি নয়, এরকম আমাদের বিএনপির মহাসচিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শুরু করে প্রত্যেকে এক বছর অধিক জেল খেটেছিল ওই সময়ে।
ওই তো একটা ঘটনা গেল। আরও ঘটনা আছে। নতুন শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার জন্য আসছে। আমরা ফুল দিতে গিয়েছি, সেখানে কার্জন হলের সামনে আমিসহ আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীদের উপর হামলা করেছিল। বারবার বর্বর ছাত্রলীগ আমাদের উপর হামলা করেছে। কোনো মিছিল ছিল না কোনো মিটিং ছিল না। শুধুমাত্র আমরা বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী হওয়ার কারণে এই হামলা করেছিল।
এরকম পাঁচটা ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। যেটা আমি বলেছি যে পাঁচবার ক্যাম্পাসে হামলা হয়েছে। এটা তো হয়েছে। আরো ছোটোখাটো অনেক ঘটনা আছে যেগুলো আসলে আমরা শুধুমাত্র বলে শেষ করা যাবে না। বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মী হওয়ার কারণেই আমাদের উপর এই বর্বর এবং নির্মম হামলার শিকার হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে আমরা এখন একটা গণতন্ত্রের পথে। ছাত্রসংগঠন হিসেবে আমরা চেষ্টা করছি, আগে ক্যাম্পাসগুলোতে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীর উপর যে বর্বর আচরণ করেছিল— আমরা চাই যে সেই অপসংস্কৃতির রাজনীতি, সেই কুসংস্কারের রাজনীতি, সেই টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্বের রাজনীতি এবং মিছিলে না আসলে একজনকে জোর করে মিছিলে নিয়ে আসা, তারপরে মিছিলে না আসলে তার উপর নির্যাতন করার যে অপসংস্কৃতির রাজনীতি ছিল, আমরা সেটি পরিহার করে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস বিনির্মাণ করার জন্য কাজ করে আসছি পাঁচ আগস্টের পর থেকে।
মিছিল-মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকত ছাত্রদল। শিক্ষার্থীবান্ধব ও গবেষণামূলক তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ চোখে পড়ত না। আগামীতে চিত্রটা কেমন দেখা যাবে?
মো. রাজু আহমেদ: ছাত্র রাজনীতির মূল দর্শন থাকা উচিত শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করার। যেহেতু বিগত ১৭ বছর প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসেই শুধুমাত্র ছাত্রদলের নেতাকর্মী হওয়ার কারণে আমরা যেতে পারিনি। আমরা এই দিকে আমাদের একটু একটু কমতি আছে। আমরা এটা স্বীকার করছি অকপটে। কিন্তু আমরা চাই আগামী দিনে ছাত্রদলের যে রাজনীতি হবে আমরা একাডেমিক ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট, আমাদের শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করা বা গবেষণামূলক কাজে বা শিক্ষার্থীবান্ধব সেল করার জন্য আমাদের একটা উদ্যোগ থাকবে। আমরা সেখানে শিক্ষার্থীবান্ধব কাজের মাধ্যমে ক্যাম্পাসগুলোর ছাত্রদল তার সংগঠনকে এগিয়ে নেবে। আমরা সেই প্রত্যাশা রাখছি।
দল ক্ষমতায় থাকলে তাদের ছাত্রসংগঠনগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয় উঠে। ছাত্রদলের ক্ষেত্রে তেমন দেখা যাবে কী?
মো. রাজু আহমেদ: পাঁচ তারিখের পরে তো সবাই জানে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু আপনারা কি কোনো জায়গায় দেখেছেন যে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জোর করে কোনো হল দখল করেছে, কাউকে মিছিল নিয়ে এসে হামলা করেছে, মামলা করেছে বা কারোর উপর নিপীড়ন করে কিনা আমার আমার মনে হয় আমরা ওরকম শুনিনি। তারপর বলি, দুই-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে।
আমরা চাই না যে সরকার দলের ছাত্র সংগঠন হিসেবে বিগত সময় যে রাজনীতি ছিল সেই রাজনীতিটা ফিরে আসুক। আমরা চাই একজন শিক্ষার্থী তার ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থীর যে অধিকার ভোগ করা দরকার, সে যেন সেটা পারে। সেই শিক্ষার্থী যেন কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে যেন তার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে না পরে। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।
আর যদি ঘটে, এখন বিএনপি ক্ষমতায়। অবশ্যই আমরা তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ তো নেবই। সাথে সাথে আমরা সংগঠন থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। আমরা অলরেডি নিচ্ছি। যেখানে এরকম ঘটনা ঘটছে। আমরা আগামীতে নিবো এবং আমাদের প্রত্যেক নেতাকর্মী জবাবদিহিতার আওতায় থাকবে এবং আমরা এই বিষয়ে জিরো টলায়েন্স রাখার চেষ্টা করব।
বড় ছাত্রসংগঠনগুলোর তৃণমূল নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ? সেক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী থাকবে?
মো. রাজু আহমেদ: স্বচ্ছ নেতৃত্ব দিতে হবে। যারা সংগঠনের জন্য কাজ করবে, তাদের মনিটরিং করতে হবে। আমার কোনো নেতাকর্মী কোনো জায়গায় যদি খারাপ কাজের সাথে এঙ্গেজড হচ্ছে কিনা। যদি হয়ে থাকে, তাহলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রত্যেক নেতাকর্মীকে জবাবদিহিতের আওতায় রাখতে হবে। এটা করলে আমি মনে করি সব নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম-গেস্টরুম কালচার আবার ফিরবে কিনা? ছাত্রদল কীভাবে ভাবছে?
মো. রাজু আহমেদ: এই যে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনটা হয়ে গেল এবং সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসলো। কেন নেমে আসলো? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেকগুলো মেয়েদের হল আছে, ছেলেদের হল আছে। এই হলগুলোতে কিন্তু ছাত্রলীগের দ্বারা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে নির্যাতিত ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীরা চেয়েছে যে এই ফ্যাসিবাদের কবল থেকে আমাদেরকে মুক্ত হতে হবে।
তো আমরা মনে করি না যে, ৫ আগস্টের আগের যে রাজনীতি এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এই গেস্টরুম কালচার, হল রুমের কালচার বা জোর করে মিছিলে নিয়ে আসার, মিটিংয়ে নিয়ে আসার এই কালচারে কোনো ছাত্রসংগঠন থাকলে এটা মনে হয় পজিটিভ ছাত্ররাজনীতি করার যে প্রয়াস নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি সেটা সম্ভব নয়। অতএব আমরা চেষ্টা করবো যে, চিরতরে জন্য যেন এই প্রথাগুলো বন্ধ হয়, যেখানে গেস্টরুমের নামে কালচারের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হয় হেনস্তা করা হয় এই প্রক্রিয়াগুলো আমরা বন্ধ চাই এবং আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।
নতুন যারা ছাত্ররাজনীতিতে আসতে চায়—তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
মো. রাজু আহমেদ: দুই-তিনটা কারণ আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সহিংস ছাত্ররাজনীতি এবং যে আদর্শিক জায়গা ছিল সেই জায়গা থেকে বিচ্যুতি এসব অন্যতম কারণ। আমরা মনে করি, ছাত্রদল আদর্শিক জায়গায় যদি মজবুত থাকে, সেটা ছাত্রদের কল্যাণের জন্য কাজ করা। সেই জায়গায় যদি আমরা ফিরে যেতে পারি তাহলে আমরা মনে করি যে, ছাত্র সংগঠনগুলোতে আবার এই ছাত্র রাজনীতির প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বা মেধাবীদের যে অনীহা ছিল সেটা আবার ফিরে আসবে। আমরা মনে করি, মেধাবীরা রাজনীতিতে আসলেই বাংলাদেশের রাজনীতি সুন্দর হবে এবং একজন মেধাবী শিক্ষার্থী রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলো ছড়াতে পারে, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী চাকরির ক্ষেত্রে কিন্তু সে মতো আলো ছড়াতে পারে।
একজন মেধাবী শিক্ষার্থী যদি রাজনীতিতে আসে তার দিয়ে অনেক কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব। দেশ পরিবর্তন করা সম্ভব। একজন মেধাবী পার্লামেন্টের যদি ভালো বক্তব্য দেন ভালো আইন প্রণেতা হন সেটা দেশের জন্য যেমন কল্যাণকর দেশের মানুষের জন্য কল্যাণকর আমরা মেধাবীদের রাজনীতিতে সুষ্ঠু রাজনীতি। আমরা চাইবো সবসময় আসুক এবং এই ধারা এই ধারা এই বিগত সময় যে ধারা সেই ধারা পরিবর্তন করে নতুন ধারার যে রাজনীতি শুরু হয়ে সেই ধারাতে আমি মনে করি, মেধাবীরা ছাত্র রাজনীতির প্রতি আগ্রহ নিয়ে করতে আসবে ইনশাআল্লাহ।
ভবিষ্যতে যদি ছাত্রদলে শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পান তাহলে শিক্ষার্থীবান্ধব কী কী কাজ করবেন?
মো. রাজু আহমেদ: ছাত্রসংগঠন হিসেবে এখনো ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয়। বিগত সময়ও আমরা জনপ্রিয় ছিলাম। কারণ ৯০-এর যখন আন্দোলন হয়েছিল ছাত্রদল সবার আগে ভূমিকা পালন করে, ২৪-এ ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী রাজপথে থেকে নিহত হয়েছে।
আমরা মনে করি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রদল সবসময় জনপ্রিয় ছাত্রের সংগঠন হিসেবে ছিল। আমরা এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেরকম ছাত্ররাজনীতি চাই আমরা ঠিক সেরকম ছাত্ররাজনীতির ধারা নিয়ে এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চাই। আমি যদি নেতৃত্ব আসি, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে রাজনীতিটা চাই ক্যাম্পাস ক্যাম্পাসে আমরা সেই রাজনীতিটা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সাথে সাথে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে চাই।
শিক্ষার্থীবান্ধব নেতা নির্বাচন করতে চাই এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণার্থে যিনি কাজ করবেন তিনি নেতৃত্বে আসুক, এটা আমরা চাইবো। সাথে সাথে ক্যাম্পাসগুলো যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ থাকে সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা প্রশাসনের সাথে এবং সরকারি দলের ছাত্রসংগঠন হিসেবে যে ভূমিকায় আমাদের থাকা উচিত তা করার জন্য নিজের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি মনযোগী থাকবো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ, কাজ এবং কাজ। ভালো কাজের মাধ্যমে এই ছাত্রসংগঠকে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছাত্রসংগঠন গড়ে তোলার জন্য যেটা করা দরকার সেটা আমার পক্ষ থেকে আমি সর্বোচ্চভাবে চেষ্টা করে যাব ইনশাল্লাহ।