অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি জমা দিয়েছেন। সাময়িক নিয়োগপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে একাডেমিক জীবনে ফিরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক চাপ নয়, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেই সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক- মো. সজীব
অব্যাহতির চিঠি জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ‘আমি অব্যাহতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি জমা দিয়েছি। সেখান থেকে এটি রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। আনুষ্ঠানিক চিঠি পেতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে আমি ফরমালি অব্যাহতির আবেদন করেছি এবং তারা সেটি গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিয়েছে।’
উপাচার্যের মেয়াদ সাধারণত চার বছর হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেন অব্যাহতি চাইছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার নিয়োগ ছিল সাময়িক। নিয়োগপত্রে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। আমি শুরু থেকেই জানতাম, এটি একটি অন্তর্বর্তী দায়িত্ব।’
রাজনৈতিক চাপের কোনো বিষয় রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, চাপে পদত্যাগ করিনি। বরং আমাকে দায়িত্বে রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদাদলের প্রতিনিধিরা ব্যক্তিগতভাবে এসে অনুরোধ করেছেন। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তবে এটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি একটি ক্রান্তিকালে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। একে আমি ‘সেলভেজ অপারেশন’ বলি—একটি ডুবন্ত জাহাজকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা। যতটুকু পেরেছি করেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে। আমার মূল কাজ শিক্ষকতা, তাই আমি একাডেমিক জগতে ফিরে যেতে চাই।’
‘কাউকে সুপারিশ করিনি। সরকারকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। সাধারণত কেউ ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নিতে পারেন—এমন নাম প্রস্তাব করা হয়, আমি সেটিও করিনি। শুধু অব্যাহতি চেয়েছি। যেদিন সরকার চিঠি গ্রহণ করবে, সেদিন থেকেই কার্যকর হবে। ততদিন আমি দায়িত্বে থাকব, এরপর বিভাগে ফিরে যাব।’
উপাচার্যের পদ রাজনৈতিক না যোগ্যতাভিত্তিক—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনৈতিক বিবেচনার বিষয়টি অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে আমি চাই না আমার কারণে কারও কোনো অসুবিধা হোক। সরকার তাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প সামনে রয়েছে। বছরে ৫০০–৬০০ কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়নের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে, যেখানে আগে বার্ষিক সক্ষমতা ছিল ৬০–১১০ কোটির মধ্যে। “এটি ছয় গুণ সক্ষমতা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ। কেবল রাজনৈতিক কৌশল দিয়ে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। টেন্ডার বা সুপারিশনির্ভর রাজনীতি করলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘অন্ধ রাজনৈতিকভাবে প্রশাসন চালানোর দিন শেষ। এখন মানুষের সচেতনতা অনেক বেশি। হল দখল বা গণরুম চালুর মতো সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়; এতে রক্তপাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিংয়ে ধারাবাহিক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘এ সময় যদি মেধাবী ও একাডেমিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সামনে না আনা যায়, তা উদ্বেগজনক হবে। আমি নিজেই উপাচার্যের কিছু ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করেছি। এখন অনেক সিদ্ধান্ত এসএমটির মাধ্যমে হয়, আর্থিক ক্ষমতাও কমেছে। এই সংস্কৃতিই সামনে এগিয়ে নিতে হবে।’
নতুন উপাচার্যের জন্য কাউকে সুপারিশ করেছেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, কাউকে সুপারিশ করিনি। সরকারকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। সাধারণত কেউ ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নিতে পারেন—এমন নাম প্রস্তাব করা হয়, আমি সেটিও করিনি। শুধু অব্যাহতি চেয়েছি। যেদিন সরকার চিঠি গ্রহণ করবে, সেদিন থেকেই কার্যকর হবে। ততদিন আমি দায়িত্বে থাকব, এরপর বিভাগে ফিরে যাব।’