উকিল নোটিশ পাঠানো আইনজীবীর সঙ্গে শিক্ষকরা © সংগৃহীত
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা-২০২৪ লঙ্ঘন করে ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যানসহ নয়জনকে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের (১৫ জানুয়ারি) মধ্যে নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না দিলে আদালতে রিট করবেন শিক্ষকরা বলে জানা গেছে।
সোমবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আজমল হোসেন খোকন এ উকিল নোটিশ পাঠান। মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. আসাদুজ্জামান আসাদ মোঃ সানাউল্লাহ ভূঁইয়াসহ ৬১ জন শিক্ষকের পক্ষে এ উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব ও উপসচিবদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
উকিল নোটিশ পাঠানো শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা-২০২৪ এর ৩.১ ধারায় বদলির জন্য শিক্ষকদের শূন্য পদের তালিকা ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছিল। ৩.৩ ধারায় ৩০ অক্টোবরের মধ্যে অনলাইনে আবেদন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বদলির আদেশ জারি এবং ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ৩.১৫ ধারায় বদলির কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট শূন্য পদে নিয়োগ সুপারিশের বিধানের কথা বলা হয়েছে। তবে নীতিমালার এ সকল ধারা লঙ্ঘন করে ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এজন্য তারা উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমার বাড়ি কুড়িগ্রাম। ঢাকার কেরানীগঞ্জে চাকরি করি। প্রতিমাসে আমাকে পাঁচ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দিতে হয়। পরিবার ছাড়া একা একা কষ্ট করে থাকতে হচ্ছে। বাড়ি ভাড়া এবং নিজের খাওয়ার খরচ বাদ দিলে অল্প কিছু টাকা থাকে। এই টাকা বাড়িতে পাঠাতেও লজ্জা হয়। নানি মারা যাওয়ার পরও দূরত্বের কারণে তার জানাজায় যেতে পারিনি। বদলি না থাকায় আমাদের অনেক নারী শিক্ষকের সংসার ভেঙে গেছে। এজন্য আমরা বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।’
মো. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনটিআরসিএ থেকে ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বে আমাদের বদলি চালু হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে কেউ কথা রাখেনি। শিক্ষকদের বদলিও চালু হয়নি। এ অবস্থায় আমরা বাধ্য হয়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি। উকিল নোটিশের পরও কাজ না হলে আগামী সপ্তাহে আমরা রিট পিটিশন দায়ের করব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্টের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আজমল হোসেন খোকন জানান, শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ইতিপূর্বে তাদের নৈতিক আন্দোলনের ফলে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় সরকার বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করে যে নীতিমালায় প্রতিবছর অক্টোবর থেকে দরখাস্ত আহবান শুরু করে ডিসেম্বরের মধ্যে বদলি সংক্রান্ত কার্যক্রম শেষ করে পরের বছর জানুয়ারিতে শূন্যস্থান সমূহে নিয়োগ দেওয়ার বিধান তৈরি করলেও ২০২৫ সালে এই নীতি অনুসরণ করে প্রায় এক লাখ নতুন নিয়োগ দেয়। তখন শিক্ষকরা মনে করেছিল সামনের বছর থেকে হয়তো এই নিয়ম অনুসরণ করা হবে কিন্তু সরকার কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে বদলি ইচ্ছুক শিক্ষকদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান না করে পুনরায় নতুন করে ৬৭,২০৮ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। যদি এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে যায় তাহলে শূন্য পদ শেষ হওয়ার কারণে বদলি ইচ্ছুক কোন শিক্ষকই বদলির আবেদন করতে পারবে না। তাই তাদেরকে আগে বদলি সুযোগ দিয়ে পরবর্তীতে শূন্য পদে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া উচিত অন্যথায় বদলি ইচ্ছুক শিক্ষকরা বঞ্চিত হবে।