যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা: এক দশকে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী বেড়ে তিনগুণ

১৮ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৩৯ PM

© প্রতীকী ছবি

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্রের। তাই উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শীর্ষ পছন্দের তালিকায় রয়েছে দেশটি। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরাও। গবেষণার তথ্য বলছে, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। বৈশ্বিক শিক্ষার্থী গমনের বিষয়ে প্রতি বছর ‘ওপেন ডোরস রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন (আইআইই)। এ প্রতিবেদন তৈরিতে আর্থিক সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওপেন ডোরস ২০১৯’ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

‘ওপেন ডোরস ২০১৯’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ২০০ এর বেশি। যদিও ২০০৯ সালে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ২ হাজার ৬১৯ জন। এ হিসাবে গত এক দশকে দেশটিতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী সংখ্যা তিনগুণের বেশি বেড়েছে।

উচ্চশিক্ষা গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য যাওয়া এটিই বৈশ্বিকভাবেই স্বীকৃত। জ্ঞান অন্বেষণ, আদান-প্রদানের মাধ্যমে জ্ঞানের প্রসার হয়। আর সেটি যদি হয় উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়, তাহলে সেটি প্রশংসার দাবি রাখে। বিশ্বের নামকরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্রের। তাই দেশটিতে আমাদের দেশ থেকে শিক্ষার্থী গমনের হার বাড়ার বিষয়টি খুবই ইতিবাচক।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী গমন বিষয়ে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২০তম। ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ৮ হাজার ২০০ এর বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ছিল। যা এর আগের শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া অধ্যয়নরত মোট ৮ হাজার ২৪৯ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ হাজার ২৭৮ জনই স্নাতক পর্যায়ে পড়ে, যা ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

শিক্ষাবৃত্তি, গবেষণা বরাদ্দ ও গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী গমনের হার বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক খাইরুল ইসলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী বৃদ্ধিও বেশকিছু কারণ রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো এখানকার গবেষণা সুযোগ-সুবিধা। এখানে গবেষণার যে সুযোগ রয়েছে, তার বেশির ভাগই বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক বরাদ্দের ৫০-৬০ শতাংশই যায় বেতন-ভাতা খাতে। গবেষণায় ১ থেকে ২ শতাংশও থাকে না। শিক্ষকরাই যেখানে গবেষণা বরাদ্দ পায় না, শিক্ষার্থীরা তা কীভাবে পাবে। এছাড়া বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশির ভাগ বিভাগের চাকরির বাজারে চাহিদা নেই। এখানে সে সমস্যা নেই। এর বাইরে আরো একটি কারণ হলো— বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা খুবই নিম্নমানের, এর কারণেও অনেকে দেশ ছাড়ছে।

বাংলাদেশী শিক্ষার্থী বৃদ্ধির হার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী পাঠানোর হার সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে চলা দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। আর সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী আসা ২৫টি দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের পড়ার বিষয়ে বিষয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসগুলোতে অধ্যয়রনরত প্রায় ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এসটিইএম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) বিষয়গুলো নিয়ে পড়ছে। তাদের মধ্যে ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ প্রকৌশল, ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ গণিত বা কম্পিউটার বিজ্ঞান ও ১৫ শতাংশের বেশি ভৌত বিজ্ঞান বা লাইফ সায়েন্স নিয়ে পড়ছে। এছাড়া মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৮ শতাংশ পড়ছে ব্যবসা বা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে।

যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে থাকে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের নিজস্ব কার্যালয় ‘এডুকেশনইউএসএ’। বিশ্বব্যাপী এর পরামর্শ কেন্দ্রের সংখ্যা চারশর বেশি। বাংলাদেশে এডুকেশনইউএসএর কাজ হলো যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ সংক্রান্ত তথ্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা। দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা কেন্দ্রগুলোতে পড়াশোনা সংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শ পাওয়া যায়।

কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আমেরিকান সেন্টার, ধানমন্ডির এডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টার ফর পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড আর্টস এবং চট্টগ্রামের আমেরিকান কর্নারে। এসব কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত পরামর্শকেরা যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বিনামূল্যে গ্রুপভিত্তিক আলোচনা করেন কিংবা শিক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবকদের ব্যক্তিগতভাবে কাউন্সেলিং করেন। এছাড়া সিলেট, খুলনা এবং রাজশাহীর আমেরিকান কর্নারে এডুকেশনইউএসএ রেফারেন্স লাইব্রেরি এবং দূর পরামর্শ সুবিধা পাওয়া যায়।

ইসরায়েলের তেল শোধনাগারে ইরান-হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা
  • ৩০ মার্চ ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকসহ চোরাকারবারি আটক
  • ৩০ মার্চ ২০২৬
গোবিপ্রবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাফল্য, বার কাউন্সিলে …
  • ৩০ মার্চ ২০২৬
নিজ কক্ষে বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
  • ৩০ মার্চ ২০২৬
কারা হবেন এসএসসির কেন্দ্রসচিব, বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা
  • ৩০ মার্চ ২০২৬
চবিতে পরীক্ষার রুটিনে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগানে বিজ্ঞ…
  • ৩০ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence