শেনজেনভুক্ত কোন দেশে কত সময় দরকার পিআর এবং সিটিজেনশিপ পেতে জেনে নিন © সংগৃহীত
ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষা, চাকরি বা বসবাসের জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের আগ্রহ প্রতিনিয়ত বাড়ছেই। তবে ইউরোপের একেক দেশে স্থায়ী রেসিডেন্সি (পিআর) ও নাগরিকত্ব (সিটিজেনশিপ) পাওয়ার নিয়ম ও সময়সীমা একেক রকম। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু দেশ তাদের অভিবাসন আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ইউরোপের শেনজেনভুক্ত প্রধান প্রধান দেশগুলোতে পিআর ও নাগরিকত্ব পাওয়ার বর্তমান সময়সীমা ও নিয়মাবলি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. জার্মানি (Germany)
জার্মানিতে বর্তমানে নাগরিকত্বের আইন অনেক সহজ করা হয়েছে। এখন মাত্র ৫ বছর বৈধভাবে থাকলেই নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। এমনকি বিশেষ যোগ্যতা বা দ্রুত ইন্টিগ্রেশনের (যেমন: C1 ভাষা দক্ষতা) প্রমাণ দিতে পারলে মাত্র ৩ বছরেই নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। এছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ এখন সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
২. ডেনমার্ক (Denmark)
ডেনমার্কের ইমিগ্রেশন নীতি ইউরোপের মধ্যে বেশ কঠোর। এখানে পিআর পেতে প্রায় ৮ বছর এবং নাগরিকত্ব পেতে ৯ বছর বা তার বেশি সময় লাগে। এছাড়া ভাষা ও সামাজিক জ্ঞানের কঠিন পরীক্ষায় পাস করতে হয়।
আরও পড়ুন: জেনে নিন বিশ্বসেরা ১০ ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ সম্পর্কে
৩. সুইডেন (Sweden)
বর্তমানে সুইডেনে নাগরিকত্ব পেতে প্রায় ৮ বছর সময় লাগে। এছাড়া ভাষা পরীক্ষা ও সামাজিক জ্ঞানের বাধ্যবাধকতাও যুক্ত করা হয়েছে।
৪. ইতালি (Italy)
ইতালিতে ৫ বছর পর পিআর পাওয়া গেলেও নাগরিকত্বের জন্য একটানা ১০ বছর বৈধভাবে বসবাস করতে হয়। স্টুডেন্ট ভিসার সময়কাল এখানে নাগরিকত্বের জন্য পূর্ণ মেয়াদে গণনা করা হয় না।
৫. অস্ট্রিয়া (Austria)
এখানে পিআর পেতে ৫ বছর এবং নাগরিকত্বের জন্য প্রায় ১০ বছর লাগে। ভাষা এবং স্থানীয় সমাজের সাথে মিশে যাওয়া বা ইন্টিগ্রেশনের বিষয়টি এখানে অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে দেখা হয়।
আরও পড়ুন: জেনে নিন ইউরোপের সেরা ১০ স্কলারশিপ সম্পর্কে
৬. পর্তুগাল (Portugal)
পর্তুগালে ৫ বছর পর স্থায়ী রেসিডেন্সি (PR) ও নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। বর্তমানে নাগরিকত্বের সময়সীমা গণনার নিয়ম নিয়ে কিছু পরিবর্তন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তবে দেশটি এখনো অভিবাসীদের জন্য তুলনামূলক সহজ ও জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।
৭. ফ্রান্স (France)
সাধারণত ৫ বছর বসবাসের পর ফ্রান্সে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। তবে যারা ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষা (Higher Education) সম্পন্ন করেন, তাদের জন্য এই সময়সীমা কমে ২ বছর হতে পারে। ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতিতে দক্ষতা এখানে বাধ্যতামূলক।
৮. বেলজিয়াম (Belgium)
বেলজিয়ামে ৫ বছর বৈধভাবে বসবাস এবং নিয়মিত কর (Tax) প্রদানের রেকর্ড থাকলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইউরোপের অন্যতম দ্রুত ও সহজ নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার জন্য দেশটি পরিচিত।
আরও পড়ুন: জেনে রাখুন বিশ্বসেরা ২৯ স্কলারশিপের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
৯. নেদারল্যান্ডস (Netherlands)
নেদারল্যান্ডসে ৫ বছর পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। তবে ডাচ ভাষা পরীক্ষা (Integration Exam) পাস করা এবং ট্যাক্স প্রদানের স্বচ্ছ রেকর্ড থাকা অত্যন্ত জরুরি।
১০. স্পেন (Spain)
স্পেনে ৫ বছর বৈধভাবে থাকার পর পিআর (PR) পাওয়া যায়। তবে নাগরিকত্বের জন্য সাধারণত ১০ বছর সময় লাগে। এছাড়া স্প্যানিশ ভাষা ও সংস্কৃতির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।