মো. আল-আমিন হোসেন শান্ত © টিডিসি সম্পাদিত
জীবননাশের আশঙ্কা ও চরম নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমিন হোসেন শান্ত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি লিখিতভাবে এ আবেদন জমা দেন।
আবেদনপত্রে শান্ত দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হুমকি, হামলা ও মিথ্যা মামলার কারণে বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় তার ওপর সশস্ত্র হামলা হতে পারে এমন বাস্তব আশঙ্কার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকার কারণে অতীতেও তিনি নানা ধরনের হামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার এলাকায় নতুন করে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই গোষ্ঠীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকলেও বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় বদলে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। যাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন শান্ত। এজন্য নানাভাবে এই ছাত্রদল নেতাকে হয়রানি করে আসছিলেন অভিযুক্তরা।
ঘটনার বর্ণনায় শান্ত বলেন, তার বাড়ির সামনে স্যুয়ারেজ লাইনের কাজ চলাকালে অতিরিক্ত মাটি অপসারণের জন্য গত ৪ এপ্রিল তিনি ট্রাক ভাড়া করে কাজ শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় যুবদলের কথিত নেতা রাসেল সরকার তার কাছে ১৫ ট্রাক মাটি দাবি করেন। ট্রাক ভাড়া দেওয়ার শর্তে মাটি দিতে চাইলে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন নেতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে বলে উল্লেখ করা হয়। এর কিছু সময় পরই রাসেল সরকার, ওয়াসিমুল কাইয়ুম বিনয় (বাবা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন) ও রাজু (এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাট) নামের কয়েকজনের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তার বাড়ি ঘেরাও করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা গালাগালি ও হুমকি দিতে থাকে। প্রাণভয়ে তিনি ঘর থেকে বের হননি বলেও জানান তিনি।
এ সময় তার ছোট ভাই এবং ছাত্রদলের এক কর্মীর ওপর দা, চাপাতি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি এবং স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে, অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে এবং এলাকায় মব তৈরি করে তাকে চাপে রাখে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমানে নিজের নিরাপত্তার কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন উল্লেখ করে শান্ত বলেন, তার বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অভিযুক্তদের লোকজন নিয়মিত বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের জীবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।