জাবি প্রক্টরের পদত্যাগ ও ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

১৯ মে ২০২৬, ০৬:২৮ PM
রাজু ভাষ্কর্যের পাদদেশে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ

রাজু ভাষ্কর্যের পাদদেশে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ © টিডিসি ফটো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রক্টরের পদত্যাগ ও ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পায়রা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ভিসি চত্বর, মলচত্বর, কলা ভবন ও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাষ্কর্যের পাদদেশে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে ‘দুনিয়ায় মদজদুর এক হও লড়াই কর’, ‘অবিলম্বে জাবি প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে’, ‘খুন ধর্ষণ নিপীড়ন রুখে দাও জনগণ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি নাঈম উদ্দিন বলেন, ‘ছয় দিন আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করার চেষ্টা হয়। পরবর্তী সময়ে তার নিজের উদ্যোগেই এক প্রকার তিক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেখান থেকে সেই শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসেন।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘যখন জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চায় তখন সেখানকার প্রক্টর এবং প্রশাসনের যে অবস্থান ছিল, তা তাদের চিরাচরিত চরিত্র— ধর্ষককে নানাভাবে ছাড় দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং এর মধ্য দিয়ে পুরুষতান্ত্রিক চেতনা লালনের বহিঃপ্রকাশ করে তারা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিপীড়নের ঘটনা আগেও বেশ কয়েকবার হয়েছে এবং প্রশাসন বরাবরই দায়সারা চরিত্র ধারণ করেছে।’

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল বলেন, ‘আমরা বিগত ১৫-১৭ বছর একটি ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমরা ২০১৯ সালে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ধর্ষণের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলাম। যখন নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভোট না দেওয়ার কারণে এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল, তখন আমরা প্রতিবাদ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জীবন দিয়েছে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য, যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই সমান মর্যাদা পাবে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না। চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করা হলো, তার বিচারের দাবিতে আমরা পুলিশের হামলার শিকার হলাম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন একজন ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলো, তার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে কিন্তু অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়েুন: ডুয়েট ক্যাম্পাস ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

তামজিদ হায়দার বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে আমরা কোনো পার্থক্য দেখছি না। ছাত্রদল এখন জাবি প্রক্টরের পক্ষ নিয়েছে। জাবি প্রক্টর যখন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হন, তখন ছাত্রদল কীভাবে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করে? এটা স্পষ্টতই একটি রাজনৈতিক সমঝোতা। আমরা অবিলম্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করছি।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাবির আহাম্মেদ জুবেল বলেন, ‘নারীদের আন্দোলনের মাধ্যমেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে নারীবান্ধব করে তোলা হয়েছিল। কিন্তু একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের অনিরাপদ করে তোলা হচ্ছে। সেখানে একজন নারী শিক্ষার্থীকে নেটের মধ্যে পেঁচিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়, তাকে হত্যার চেষ্টাও করা হয় কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার হয় নাই। ওই কালপ্রিটকে গ্রেপ্তার করা হয় নাই। উপরিউক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলছিল যে আমাদের সিসি ক্যামেরা এতো ভালো যে কত সুন্দরভাবে ক্লিয়ারভাবে সাউন্ড শোনা যায়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষণ চেষ্টার বিচারের দাবিতে যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীরা আন্দোলনে নেমে আসে এবং  নিরাপত্তাহীনতার দায়ে ব্যর্থ প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি তোলে তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনপন্থী একটা ছাত্রজোট গঠন হয়ে গেছে। সেই প্রশাসনপন্থী ছাত্রজোটে  ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্র শক্তি আছে।’

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর এই নেতা বলেন, ‘তারা প্রশাসনকে বাঁচাতে লেগে পড়েছে। তারা বলতে চায় নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে, নারীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে—এগুলোর কোনো দায় প্রক্টরের নাই। জাহাঙ্গীরনগর শিক্ষার্থীর আন্দোলনের সাথে আমরা সংহতি জানাই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাহীনতার পেছনে প্রক্টরের সুস্পষ্ট দায় আছে। এই ব্যর্থ প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে।’

৪৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে যুক্ত হলো ‘সরকারি’
  • ১৯ মে ২০২৬
চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ঢাকা-বেইজিং ফেলোশিপ’ চালুর প্রস্তাব দি…
  • ১৯ মে ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স রিলিজ স্লিপ…
  • ১৯ মে ২০২৬
গ্রেট স্কলারশিপে স্নাতকোত্তরের সুযোগ যুক্তরাজ্যে, করুন আবেদন
  • ১৯ মে ২০২৬
উপাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ছাত্রছাত্রীদের কাছে টাকা চেয়ে ব…
  • ১৯ মে ২০২৬
দেশে থাইরয়েড আক্রান্তদের ৬০ ভাগই চিকিৎসার বাইরে, প্রতি ৭ রো…
  • ১৯ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081