বিক্ষোভ মিছিল © সংগৃহীত
জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহর বাড়িতে সন্ত্রাসীদের অগ্নিসংযোগ ও পরিবারের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশক্তির নেতারা।
আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে শুরু করে হলপাড়া হয়ে টিএসসি রাজু ভাষ্কর্যে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ হয়।
এ সময় তারা ‘দিয়েছি তো রক্ত আরও দিব রক্ত, রক্তের বন্যায় বেসে যাবে অন্যায়’, ‘খুনি লীগের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশান’,‘সাইফুল্লাহর বাড়িতে হামলা কেন? প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সাইফুল্লাহর ভয় নাই আমরা আছি লাখো ভাই’, ‘একটা একটা লীগ ধর ধইরা ধইরা জেলে ভর’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এ সময় জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, সহযোদ্ধা সাইফুল্লাহর বাড়িতে কেবল অগ্নিসংযোগই করা হয়নি, বরং তার পরিবার এবং সন্তানদের হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। ৫ই আগস্টের পরবর্তী মুক্ত পরিবেশে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
এছাড়া তিনি ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন এই সময়ের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় না আনা হলে রাজু ভাস্কর্য থেকে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ঢাবি ছাত্রশক্তির সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দদাসির বলেন, ৫ই আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশেও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সক্রিয় রয়েছে। সেহরির পরবর্তী সময়ে সহযোদ্ধা সাইফুল্লাহর বাড়িতে তার পরিবার ও সন্তানদের হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন দেওয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপির নেতারা নির্বাচনে লীগের ভোট পাওয়ার আশায় আওয়ামী লীগের অফিসগুলো খুলে দিচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করছে।
আরও পড়ুন: ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি’ পোস্ট দেয়া সেই ঢাবি ছাত্রশক্তির নেতার বাড়িতে আগুন
এছাড়া বিএনপিও ভোটের লোভে নিজেদের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে জনগণের সাথে ‘গাদ্দারি’ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নয় দফার ঘোষক আব্দুল কাদের বলেন, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। আওয়ামী লীগ বলেন, খুনি লীগ বলেন, তারা কেউই ন্যায়ের সাথে সমঝোতা বোঝে না। ন্যায় তাদের সাথে যায় না। আমরা যখন ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু তারা সেটাকে দুর্বলতা ভেবে নিয়েছিল। সেই দুর্বলতা তারা কাজে লাগিয়ে আজকে সাইফুল্লাহর বাড়িতে হামলা করতেছে। আগামীকাল আপনার-আমার বাড়িতে হামলা করবে।
তিনি আরও বলেন, আজকে যে লীগ, তারা সহানুভূতি পাওয়ার যোগ্য না। আমরা দেখেছি ৫ই আগস্ট পরবর্তী যে সরকার, প্রশাসন, তারা কখনোই তাদের মূল কাজটা, করে নাই। মূল কাজে তারা ফোকাস দেয় নাই। যার কারণে আজকে লীগের চ্যালা-চামুণ্ডারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাইফুল্লাহর বাড়িতে যে হামলা হয়েছে, সারা দেশব্যাপী লীগের যে আস্ফালন বেড়ে গিয়েছে, সেই আস্ফালন থামাতে হবে। অবশ্যই ৫ই আগস্টের পূর্ববর্তী সময়ে এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত লীগকে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং লীগের যে কার্যক্রম সেটা নিষিদ্ধ করতে হবে।
হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের ভিপি সাদিক হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রের কাছে, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমরা সকলের নিরাপত্তা চাই। জুলাই যোদ্ধাদের মাধ্যমে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দিতে হবে। যদি নিরাপত্তা না দিতে পারেন, জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা না দিতে পারেন আপনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে নিন।’