জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
অর্থসংকটের কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে (৫৫ ব্যাচ) চান্সপ্রাপ্ত তিন মেধাবী শিক্ষার্থীর ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ তিন শিক্ষার্থী যথাক্রমে রসায়ন বিভাগ, ইতিহাস বিভাগ এবং তুলনামূলক সাহিত্য ইনস্টিটিউটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে পারিবারিক আর্থিক সংকট তাদের স্বপ্নপূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম শিক্ষার্থীর বাবা সাভারে রিকশাচালক এবং মা ঢাকায় একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করেন। টাঙ্গাইলের বাসিন্দা এই শিক্ষার্থী নানির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে তুলনামূলক সাহিত্য ইনস্টিটিউটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
দ্বিতীয় শিক্ষার্থীর বাড়ি দিনাজপুরে। তার বাবা রিকশাচালক এবং চার সদস্যের অভাবী সংসারে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ১৫ হাজার টাকা জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি রসায়ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
তৃতীয় শিক্ষার্থীর বাড়ি রংপুর জেলায় তার বাবা ভ্যানচালক। চার সদস্যের পরিবারে সীমিত আয়ের মধ্যেই ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন তিনি। বর্তমানে ভর্তির অর্থ জোগাড় করতে না পারায় এই শিক্ষার্থীর ইতিহাস বিভাগে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় কাজ করা সংগঠন ইচ্ছা জানায়, এর আগে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তারা মেধা ও ওয়েটিং তালিকা থেকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি নিশ্চিত করতে পেরেছে। এছাড়া ৫১ থেকে ৫৪ ব্যাচ পর্যন্ত ১৭ জন আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীর ভর্তির ব্যয় বহন করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমরা চাই না অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ঝরে যাক। ইতোমধ্যে তারা সবার সহযোগিতা কামনা করেছে। যারা এই তিন শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী, তারা সরাসরি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অথবা বিকাশ ও নগদে আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সমাজের সচেতন ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে এই তিন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে।
প্রসঙ্গত, ইচ্ছা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন হিসেবে ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন মানবসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে।