বিসিএস ক্যাডারের স্ট্যাটাস
প্রতীকী ছবি © কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় সম্পাদিত
৯ বছর আগে সর্বসাকুল্যে ৩৪ হাজার টাকায় বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) যোগ দিয়েছিলেন রবিউল আলম লু্ইপা। সেখান থেকে প্রমোশনে এখন বেতন বেড়ে ঠেকেছে ৫২ হাজারের ঘরে। দীর্ঘ ৯ বছরে মাত্র ১৮ হাজার টাকা বেতন বাড়ায় অনেকটা ক্ষোভ আর আফসোসের সঙ্গে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা শেয়ার করেছেন রবিউল। পাশাপাশি নতুনদেরও ভেবে চিন্তে বিসিএসে আসার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত রবিউল আলম রবিবার (৫ এপ্রিল) নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেন,
‘২০১৭ সালে ৩৪ হাজার টাকায় বিসিএস ক্যাডারে জয়েন করি।
৯ বছর পর প্রমোশন পেয়ে এখন বেতন ৫২ হাজার টাকা (ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হাসপাতালের কনসালটেন্ট, সাব ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার, সহকারী অধ্যাপকও এই বেতনই পান)। অর্থাৎ ৯ বছর বেতন বেড়েছে মাত্র ১৮ হাজার টাকা।
২০১৭ সালে স্বর্ণের দাম ছিল ভরিপ্রতি ৪৪ হাজার টাকা, ৯ বছর পর এখন ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ২০১৭ সালে রিচম্যানের প্যান্ট কিনতাম ১৪০০ টাকা, এখন সেই প্যান্ট ২৮০০ টাকা।
আমার বউ, বাচ্চা, বাবা-মায়ের পেছনে কোন টাকা খরচ করতে হয় না। তবুও ৯ বছর পর আমার সেভিংস জিরো। রং জ্বলা জামা পড়লে আর অটো-লোকাল বাস ইউজ করলে প্রতি মাসে হাজার পাঁচেক টাকা জমা করতে পারতাম এটা সত্য। কিন্তু বউ, বাচ্চা আর বাবা মাকে ফাইনান্সিয়ালি টেইক কেয়ার করলে নিজে কীভাবে চলতাম! আর আমার নিচের ১০-২০ গ্রেডের কর্মচারীরাই বা কীভাবে চলছে! বউ, বাচ্চা, বাবা-মা, ভাইবোনকে কি দিচ্ছে!
এগুলা লিখছি বলে ভাববেন না নতুন পে-স্কেল চাইতেছি। পে-স্কেল সরকারের সিদ্ধান্ত, এর বাস্তবায়ন হবে বলেও আর মনে হয়না। এসব লিখার উদ্দেশ্য হলো, যারা সরকারি চাকরির জন্য জীবন যৌবন প্রিপারেশন নিচ্ছো, তাদের বলি, এটা একটা হাইপ, একটা ট্রাপ আর সমাজ ও পরিবারের চাপিয়ে দেয়া একটা প্রত্যাশা মাত্র।
এই মেধা দিয়ে প্রাইভেট জব করলে আজ কয়েক লাখ টাকা স্যালারি পেতাম। ব্যবসা করলে ব্যবসার বয়স হতো ৯ বছর, গ্রোথ আপনিই বের করুন। আর বিদেশ গেলে এতোদিনে বাকী জীবন চালানোর ব্যবস্থা হয়ে যেতো। কিন্তু হাইপের ট্রাপে আটকে গেছি।
অর্থ অনর্থের মূল, কিন্তু দিনশেষে ধর্মীয় উপসনালয়, এলাকার দাতব্য ক্লাব এমনকি পাগলও আপনার কাছে দুইটা টাকা চায়।’