পরিত্যক্ত স্কুল গুয়াখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় © সংগৃহীত
১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে প্রায় ১০ বছর পূর্বে। বর্তমানে কক্ষের অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে পাঠদান। বিভিন্ন সময় পরিত্যক্ত ভবনের ছাদের প্লাস্টার খসে পরে এ পর্যন্ত ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বর্তমানে ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। তবুও মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার গুয়াখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের দেখা মিলছেনা বলে অভিযোগ অনেকের।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটি অন্ধকার ও এর পরিবেশ স্যাঁতস্যাঁতে। মেঝেতে উঁচু-নিচু গর্ত, ছাদের প্লাস্টার খসে রড বের হয়ে মরিচা পরে সরু হয়েছে। জানালা-দরজা ভাঙ্গা। পিলার ও ওয়ালে বড় বড় ফাটল, বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে পানি পরে। পরিত্যক্ত মূল ভবনের পার্শ্বে ২ কক্ষের একটি নতুন ভবন তৈরি হয়েছে প্রায় ৫/৬ বছর পূর্বে। কিন্তু বিদ্যালয়ের ঐ ২কক্ষে ৬শ্রেণির ২৫০জন ছাত্র-ছাত্রীর পড়ালেখা কোনোভাবেই সম্ভব হয় না। অধিকাংশ সময় দুই কক্ষ বিশিষ্ট ভবনটির এক কক্ষের ভিতর দুই ক্লাস নেয়া হয়।
৪২ জন ছাত্র-ছাত্রী ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এক রুমে যখন দুই ক্লাসের ৯০থেকে ১০০জন শিক্ষার্থী বসে। তখন শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হয়। শিশু শিক্ষার্থীদের চিৎকার ও কথা-বার্তায় কোন কিছুই বুঝা যায়না বলে জানান বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতিকুল ইসলাম। তাই শিক্ষক ক্লাস নিতে বাদ্য হয় ঝুঁকিওয়ালা পরিত্যক্ত ভবনে। তবে বৃষ্টির সময় ছাদ চুয়ে পানি পরার কারণে ক্লাস নেয়া সম্ভব হয়না। আবার কোন কোন সময় শিক্ষার্থীদের গাছের তলায়ও ক্লাস নিতে দেখা যায়।
বিদ্যালয়টির পড়াশুনার মান আগে ভাল থাকলেও বর্তমানে ভবনের সমস্যার কারণে ফলাফল খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে জানান বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সামসুজ্জামান পনির। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের জন্য প্রায় ১০ বছর যাবত কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন জানানো হয়েছে। ভবনের দুরবস্থার চিত্র বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে একাধিকবার প্রচারিত হয়েছে। পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ তদন্তে এসে সত্যতার প্রমাণ পেয়েছে। তারপরও রহস্যজনক কারণে নতুন ভবন হচ্ছেনা। অথচ উপজেলার অনেক বিদ্যালয় আছে যেখানে এই বিদ্যালয়ের চেয়ে ছাত্র-ছাত্রী কম এবং ভবনের প্রয়োজন না থাকার পরও ভবন তৈরি হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমানুল্লাহ জানান, শুধু ছাত্র-ছাত্রীই নয়, ৭ জন শিক্ষকদের বসার ও অফিসের কাজের জন্যও কোন রুম নেই।
সিরাজদিখান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে সত্যতার প্রমাণ পেয়েছি। সেখানে একটি নতুন ভবন অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু বরাদ্দ না পেলে কিছু করার নেই।