সাত কলেজের পরীক্ষার ফলাফলে অসঙ্গতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন © টিডিসি
সরকারি সাত কলেজের বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষার ফল মূল্যায়নে একাধিক অসঙ্গতি ও স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ তুলে খাতা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নানা অভিযোগ তোলে এ দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের অভিযোগ, ফল প্রকাশে ভুল, গণহারে একই গ্রেড প্রদান, ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষায় অস্বাভাবিকভাবে কম নম্বর এবং পরীক্ষা না দেওয়া কোর্সে ফল প্রকাশের মতো গুরুতর ত্রুটি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা জানান, সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্ত ইংরেজি, বাংলা, প্রাণীবিদ্যাসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনায় মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় নানান অসঙ্গতি উঠে এসেছে। বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য, নথি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফল মূল্যায়নের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তাদের দাবি, অনার্স তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের একাধিক কোর্সে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে একই গ্রেড দেওয়া হয়েছে। আবার সরকারি কবি নজরুল ইসলাম কলেজের এক শিক্ষার্থী দুটি বিষয়ে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিলেও ফল প্রকাশ হয়েছে অন্য দুটি বিষয়ে, যেখানে তিনি পরীক্ষাই দেননি।
খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করার পরও ১৪টি বিভাগের বিপুলসংখ্যক আবেদনের মধ্যে মাত্র ছয়জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
আরও পড়ুন: ঢাকা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবি নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
ইংরেজি বিভাগের উদাহরণ তুলে শিক্ষার্থীরা বলেন, কয়েকটি কোর্সে মেধাবী ও দুর্বল শিক্ষার্থীদের একই সিজিপিএ দেওয়া হয়েছে। কোথাও ভালো পরীক্ষা দিয়েও কম গ্রেড, আবার খারাপ পরীক্ষা দিয়েও তুলনামূলক বেশি গ্রেড পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষাতেও আগের চেয়ে কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরীক্ষা না দেওয়া কোর্সে ফল প্রকাশ বা পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোর্সের পরিবর্তে অন্য কোর্সের ফল প্রকাশের ঘটনাও সামনে এনেছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই কিছু কোর্সে গণহারে ফেল করানো বা অস্বাভাবিকভাবে কম নম্বর দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যার ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে পরবর্তী সময়ে ইমপ্রুভমেন্ট বা রিটেক পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ফলাফল মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নির্ভুল ও জবাবদিহিমূলক করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই অবিলম্বে পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নিতে হবে, যেন কোনো শিক্ষার্থী মূল্যায়নজনিত ভুল বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, দীপ্রদীপ, মাহফুজ ও মিজানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।