চুরি ও অনিয়মের অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার

০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১০ AM , আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০১ PM
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় © ফাইল ছবি

চৌর্যবৃত্তি (প্লেজিয়ারিজম) ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১২টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে। গবেষণাপত্রে লেখকত্ব বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে সমস্যা, তথ্যসূত্র বা রেফারেন্স সংক্রান্ত সমস্যা, চিত্র সংক্রান্ত অসঙ্গতি বা ডুপ্লিকেশন, অবিশ্বস্ত ফলাফল বা উপসংহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন সময় বিশ্বের বিভিন্ন জার্নাল থেকে এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী রিট্রাকশন ওয়াচ ডাটাবেইজে সম্প্রতি অনুসন্ধান করে এ তালিকা পাওয়া গেছে। রিট্রাকশন ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট মোট ১০টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্র গুলোর মধ্যে কো-অথর হিসেবে থাকায় বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান করে নেওয়া ইবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. হাবিবুর রহমানের নামও রয়েছে। এছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন অধ্যাপক ড. সাদেক আলী, অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল ও ড. মো. সজিব আলী সহ একাধিক বিভাগের বর্তমান ও প্রাক্তন গবেষকদের নাম। প্রকাশিত নাম, বিভাগ ও পরিচয়-তথ্য মিলিয়ে ১৩টি পৃথক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-সংযুক্ত লেখক-পরিচয় এবং ১৭টি লেখক-রেকর্ড উপস্থিতি পাওয়া গেছে। 

প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১টি, গণিত বিভাগের ৪টির মধ্যে ড. মোস্তফা কামালের ২টি এবং ড. মো. সজিব আলীর ২টি গবেষণাপত্র রয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ২টি গবেষণাপত্রের মধ্যে একটি শিক্ষার্থী এন. গাফারের এবং অপরটি বিভাগের শিক্ষক ড. মো. সাদেক আলীর।

এছাড়া ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের ৩টি গবেষণাপত্রের মধ্যে একটি বিভাগের শিক্ষক ড. কামরুজ্জামানের এবং অপর দুটি আতিকুর রহমান ও সাবেক শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেনের। বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শাহেদুর রহমান ও আসিফ ইকবালের ২টি গবেষণাপত্রও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল বাজারের সবজিতে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি, কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে স্তন ক্যানসার শ্রেণিবিন্যাস, তরুণ আদার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও স্তন ক্যানসারবিরোধী কার্যকারিতা, কোয়ান্টাম-ডট প্রযুক্তিভিত্তিক শিফট রেজিস্টার, ডিপ লার্নিংয়ের মাধ্যমে পালমোনারি ফাইব্রোসিস ও লাম্বার স্পন্ডাইলোলিসথেসিস রোগ নির্ণয়, ভেহিকল-টু-ভেহিকল (V2V) যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন, ৩ডি-সিএনএন ব্যবহার করে আলঝেইমার রোগ শনাক্তকরণ এবং কোভিড-১৯ সময়ে জীবনমান ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব বিশ্লেষণ। 

জানতে চাইলে বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় থাকা ইবির সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ভারতের একজন প্রফেসর ডেভেলপিং কান্ট্রি হিসাবে বাংলাদেশের ফি ওয়েভার সুবিধা নেওয়ার জন্য আমার নাম যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তার সুবিধা হবে ভেবে আমি আমার নাম ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলাম। উল্লিখিত রিসার্চের কোন অংশে আমার কোন ভুমিকা ছিল না।

আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাদেক আলী গণমাধ্যমে বলেন, ‘গবেষণাটি সব নিয়ম মেনেই জমা দেওয়া হয়েছিল। গবেষণাপত্রটিতে তিনি কো-অথর ও করেসপন্ডিং অথর ছিলেন, তবে গবেষণার মূল দায়িত্বে ছিলেন না। তার এক শিক্ষার্থী ছিলেন মূল কো-অথর।তবে প্রকাশের অনেক পরে কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, গেস্ট এডিটর যথাযথভাবে পিয়ার রিভিউ সম্পন্ন না করায় জার্নালের মান নিয়ন্ত্রণে ত্রুটি থাকায় এটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হলে মূল নিবন্ধে রিট্রাকশন নোটিশ যুক্ত হয়। জার্নাল কর্তৃপক্ষ পেপারটি কেন বাতিল হলো তার কারণ দর্শিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশ করে, যা স্কোপাস বা পিউমেডের মতো আন্তর্জাতিক ইনডেক্সে স্থায়ীভাবে থেকে যায়। এতে করে ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান পাওয়ার সুযোগ কমে যায় এবং একাডেমিক রেকর্ড থেকে গবেষণার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়।

জাবির রেজিস্ট্রার ভবনে তালা, আটকে পড়া উপাচার্যকে উদ্ধার ছাত…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
অনুমোদন ছাড়াই হলের জায়গা দখল করে ছাত্রদলের বিতর্ক সম্পাদকের…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
‘মাদক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরী করতে হবে’: ব্যারিস্…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
পদোন্নতির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর ৩৮তম বিসিএস শিক্ষা ক্…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ শর্ত কমানোর আহ্বান আবিদের
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সংবিধান সংশোধন কমিটির নামের প্রহসন মানি না: ছাত্রশক্তি
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950