চাঁদা না দেওয়ায় খাবার টেবিলেই কলেজ শিক্ষকদের মারধর ছাত্রদল নেতাদের

৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৯ AM
চাঁদা না দেওয়ায় খাবার টেবিলেই কলেজ শিক্ষকদের মারধর ছাত্রদল নেতাদের

চাঁদা না দেওয়ায় খাবার টেবিলেই কলেজ শিক্ষকদের মারধর ছাত্রদল নেতাদের © সংগৃহীত

নোয়াখালী সরকারি কলেজে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের ওপর হামলা, শারীরিক হেনস্তা, হত্যার হুমকি এবং অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসানসহ কয়েকজন এতে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

কলেজ প্রশাসন ও শিক্ষকরা জানান, দুপুরে সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকির হোসেন অফিসসংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র নিতে সস্ত্রীক কলেজে আসেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে খাবার খেতে বসেন। তখনই ছাত্রদল নেতারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং খাবার টেবিলে গিয়ে শিক্ষকদের গালিগালাজ ও হুমকি দেয়।

এ সময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে মারধর করে টেনে-হিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকেও হুমকি দেওয়া হয়। তার ভাষ্যমতে, এলাকায় তাদের লোকজন দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার পরপরই কলেজ শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে জরুরি সভা করে। সভায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি, কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের কাছে অভিযোগ জানানো, থানায় মামলা করা এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, পিআরএল-সংক্রান্ত জরুরি কাগজপত্রের কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। তারা খাবার শুরু করার আগেই একদল হামলাকারী ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং প্লেট-বাটি ছুড়ে ফেলে। পাশাপাশি বারান্দার ফুলের টবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করা হয়।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে উদ্দেশ্য করে আগের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তোলে। তারা শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে গুরুতর ক্ষতির হুমকি দেয়। প্রতিবাদ করতে গেলে এক শিক্ষককে মারধর করে তার জামা ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও তিনি জানান।

হামলার কারণ হিসেবে অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, মূলত অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা দাবি করা হচ্ছিল, যা না দেওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনার সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে শিক্ষকরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে দায়িত্ব পালন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হলেও শিক্ষকরা তা গ্রহণে অনীহা জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ছাত্রদল সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তাদের জানা আছে। কলেজ প্রশাসন নিরাপত্তা চাইলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালী কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতিকে শোকজ
  • ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৪, টিটিপি মতাদর্শী বলছে…
  • ৩০ এপ্রিল ২০২৬
চাঁদা না দেওয়ায় খাবার টেবিলেই কলেজ শিক্ষকদের মারধর ছাত্রদ…
  • ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সবার সামনে জকসু সম্পাদককে থাপ্পড়-হুমকির অভিযোগে ছাত্রদলের ন…
  • ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সকালের মধ্যে ঢাকাসহ ১৯ অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে লিমনের প্রথম জানাজা বৃহস্পতিবার
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬