জর্জিস আনোয়ার নাইম ও সাদিয়া সুলতানা নেলী © টিডিসি সম্পাদিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাইমের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলীর বিরুদ্ধে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) ৮ম ইনডোর গেমস প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে এ ঘটনা ঘটে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের সামনে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ। তিনি বলেন, জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাইমের ওপর হামলা করেছে ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলী। তিনি জকসু নির্বাচনে হল সংসদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী ছিলেন। থাপ্পড় মারার স্বীকারোক্তি তিনি নিজে ফেসবুকেও দিয়েছেন। জর্জিসকে ‘টুকরো টুকরো’ করে ফেলবেন এবং ‘পরে দেখে নেবেন’ বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি। তার এমন আচরণ শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং একই সঙ্গে ফৌজদারি অপরাধ। জর্জিসের ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এই হেনস্থা ও হুমকির বিচার করতে হবে।
সাদিয়া সুলতানা নেলী ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জকসু নির্বাচনে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী ছিলেন। তিনি জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের কর্মী বলে জানা গেছে।
জর্জিস আনোয়ার নাঈম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ৮ম ইনডোর গেমসে মেয়েদের ক্যারাম খেলায় দুই দল ফাইনালে উঠে, এরমধ্যে ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাদিয়া সুলতানা নেলীর দল, অন্য আরেক দল, সেই দলে দুইজন দুই বিভাগের ছিলেন, নিয়ম অনুযায়ী এক দলে এক বিভাগ থেকে হতে হবে। কিন্তু এ বিষয়টি ফাইনালে উঠা দলগুলোর মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়, পরে আমি ও শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ডিরেক্টর গৌতম দাস স্যার সেখানে যাই। বিচারক ও স্যার তাদের সমস্যা শুনে দুইদলকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে চাইলে তা মানেনি। পরে আমি বিচারক ও স্যারকে পরামর্শ দেয় যেন এ বিভাগটি আপতত স্থগিত রাখা হয়। যেন ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক ও বাণিজ্য অনুষদের ডিন আলী নূর স্যারসহ সংশ্লিষ্টা যেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে।এরপর সাদিয়া সুলতানা নেলী আমাকে স্যারের সামনেই থ্রেট করে ও অসাদাচরণ করেন।
এদিকে আজকের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাদিয়া সুলতানা নেলী আমাকে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক স্যার, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ডিরেক্টর গৌতম দাস স্যার, জকসুর ভিপির সামনেই আমাকে হুমকি ও থাপ্পড় মারে। এ সময় সে আমাকে পাশে আসতে বললে আমি যায়নি। কারণ বিষয়টি ক্রীড়া কমিটি দেখবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে এমন আচরণে ভিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি, স্যার একটা প্রতিবেন জমা দিতে আলী নূর স্যারকে বলেছেন। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে জানতে সাদিয়া সুলতানা নেলীকে একাধিকবার কল দিলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। থাপ্পড় মারার বিষয়টি স্বীকার করে ফেসবুকে নিজ আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘মিস্টার জর্জিস আনোয়ার নাইম (ক্রিড়া সম্পাদক জকসু) এর পর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পড় খাবেন। এখন ত শুধু একটা দিছি। আপনার স্বজনপ্রীতির সব প্রমাণ কিন্তু আছে আমার কাছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই আপনার ছাত্রীসংস্থার মেয়েরা লিখতেছে আমি নাকি স্যারের পাওয়ার দেখিয়ে আপনার গায়ে হাত তুলছি। যেখানে অন্যায় আপনার, অন্যায়ভাবে রুলসের বাইরে গিয়ে ২টা টিমকে একসাথে চ্যাম্পিয়ন করতে চাইছেন সেখানে কারোর পাওয়ার লাগে না। ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেন। অবৈধভাবে কাউকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টাও করবেন না।’
এ বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিষয়টি শুনার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ককে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছি, সে যেই হোক এর বিচার আমরা করবোই। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে কেউ হাত তুলবে, তা হতে দেব না। এমন বিচার করা হবে, যেন কেউ আর এমন আচরণ করার সাহস না করে।’