জাকসু প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিনিময়ে বন্ধুসহ ট্যুরের অফার শিক্ষকের, ছাত্রদল নেত্রীর বিস্ফোরক পোস্ট

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬ PM , আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯ PM
ছাত্রদলের নেত্রী ও জাকসুর ‘বিদ্রোহী’ সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া। ‎

ছাত্রদলের নেত্রী ও জাকসুর ‘বিদ্রোহী’ সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া। ‎ © টিডিসি সম্পাদিত

‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের বিনিময়ে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার টিকিট কেটে দেয়ার অফার দিয়েছিলেন এক শিক্ষক এমন অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেত্রী ও জাকসুর ‘বিদ্রোহী’ সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া।
‎
‎শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাবি ছাত্রদল নেত্রী আঞ্জুমান ইকরার সদস্যপদ বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় নিজের ফেসবুক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
‎
‎পোস্টে অনন্যা ফারিয়া বলেন, জাকসু নির্বাচনের আগে তিনি অরাজনৈতিক একজন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরিবেশ নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তার। পরে দলীয় প্যানেল থেকে যোগাযোগের পর তিনি যথাক্রমে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
‎
‎শিক্ষকের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘তারপর কি কি হলো সেটা ওপেন সিক্রেট। সেই সময় বুঝলাম জাহাঙ্গীরনগরে কিছু শিক্ষক কিভাবে নিজের স্বার্থে ছাত্ররাজনীতিকে বিষিয়ে তুলছে। তাদের অফিসে কোনো কাজে গেলেই দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থী বসে আছে বিনা কাজে, তেল দিতে। যে শিক্ষক বয়ফ্রেন্ড নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার টিকিট কেটে দেয়ার অফার করে প্রার্থীতা ছেড়ে দিতে বলে তাকে তো সালাম দেয়াও আর রুচিতে আসে না।’ 

‎অনন্যা ফারিয়া বলেন, জাকসু নির্বাচনের সময় অনেকে তাকে বহিষ্কারের ভয় দেখালেও অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন রুনু তাকে রাজনৈতিক ফোকাস না হারিয়ে নিজের স্বকীয়তা ও অ্যাক্টিভিজম ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
‎
‎তিনি আরও বলেন, “উপাচার্য কামরুল আহসান স্যারের সম্মানে কোন বিনিময় ছাড়াই আমি প্রার্থীতা ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমি স্রেফ জাহাঙ্গীরনগরে নিজের অবস্থান এবং ক্যালিবার প্রমাণ করতে চেয়েছি, করেছিলাম।”
‎
‎ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অনন্যা ফারিয়া বলেন, এখানে মেধা বা নেতৃত্বের মূল্যায়ন হয় না। তার দাবি, কিছু তথাকথিত নেতা মেধাবী কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেও ভয় পান এবং শিক্ষকদের কথায় সিদ্ধান্ত নেন।
‎
‎নারী হিসেবে বিষয়টিকে ‘লজ্জার’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি ও ইকরা পরিশ্রম করে যেসব অর্জনের চেষ্টা করছেন, কেউ কেউ তা ‘ঘুমিয়ে’ অর্জন করছেন বলে তিনি শুনেছেন।
‎
‎পোস্টের শেষ দিকে অনন্যা ফারিয়া বলেন, ‘একজন মানুষ তার মতামত, সমর্থন দিতে পারবে না? যৌক্তিক সমালোচনা করলেই গলা টিপে ধরা হবে?’
‎
‎তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা স্রোতের বিপরীতে হাঁটছি, হাঁটব। আমরা টাকা খেয়ে বা শুয়ে কিছু অর্জন করি না, তাই আমাদের কিছু হারানোর ভয় নাই। আমাদের সংগ্রাম আদর্শকে রক্ষার জন্য।’ পোস্টে তিনি ছাত্রদল নেত্রী আঞ্জুমান ইকরার প্রতি সংহতি জানান।
‎
‎এ বিষয়ে জানতে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
‎
‎উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট ২০২৫ জাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একই দিন বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া। সেখানে স্বতন্ত্র ‘বিদ্রোহী’ সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন তিনি। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচনের দুই দিন আগে পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

অন্তত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপির এমন বেঈমানী চিন্তাতীত: আব…
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভেরিফিকেশনে কেন বাদ, প্রার্থীকে কারণ জানানোর দাবি ছাত্রশিবি…
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাকসু প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিনিময়ে বন্ধুসহ ট্যুরের অফার …
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক সমিতির একাত্মতায় কর্মবি…
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নির্বাচিত হয়েও নিয়োগপত্র নেই, অধরাই রয়ে যাচ্ছে সরকারি চাকরি!
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অজ্ঞাত নাম্বার থেকে গালিগালাজ ও হুমকি, নিরাপত্তাহীনতায় পরিব…
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬