চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও নিয়োগপত্র পান নি অনেকেই © সংগৃহীত ছবি
সরকারি চাকরির স্বপ্নটা যেন এবার সত্যি হতে চলেছিল। সব ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতও হয়েছিলেন তারা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, যাচাই-বাছাইও শেষ হয়েছে। এরপর শুধু অপেক্ষা ছিল কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্রটি হাতে পাওয়ার। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হলেও হঠাৎ করেই থমকে গেছে সেই স্বপ্ন। হতাশার কালো মেঘে ছেয়ে গেছে মন। নিয়োগপত্র পান নি তারা। কেন তাদের নাম নেই, সেই প্রশ্নেরও মিলছে না স্পষ্ট উত্তর। সরকারি চাকরির স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে এসে এমন ঘোর অনিশ্চয়তার অন্ধকারে পড়েছেন এই প্রার্থীরা।
সোমবার (২৫ সেপ্টম্বর) রাতে প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলার সহস্রাধিক প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। তবে সব জেলার তথ্য এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
নিয়োগপত্র না পাওয়া বেশ কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় সবাই নিরীহগোছের। নিজে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এমনকি পরিবারের কোনো সদস্যও যুক্ত নেই বা ছিলেন না, কোনো প্রকার মামলা বা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার নজির নেই, একাডেমিক সনদেও নেই কোনো সমস্যা। তবুও নিয়োগপত্র অধরাই রয়ে গেল তাদের।
সাথিয়া উপজেলার একজন প্রার্থী কামরুন নাহার। অল্প বয়সেই বিয়ে হয়ে যায় তার। দুই সন্তান ও সংসার সামলেও প্রতিদিন পড়ার টেবিলে বসতেন। একটি সরকারি চাকরির প্রত্যাশায় দীর্ঘ এই পথে নানা প্রতিকূলতায়ও মনোবল হারান নি। এত সাধনার পর অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণও এলো। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ১৪ হাজারের বেশি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর তালিকার তার নামও যোগ হলো! এখন শুধু যোগদানের পালা। কিন্তু এত প্রতীক্ষার পর গতকাল যখন নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো, তখনই মলিন হয়ে যায় তার মুখ। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও তাদের হাতে পৌঁছেনি নিয়োগপত্র।
নিয়োগ না পাওয়ার বিষয়ে এই প্রার্থী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমার তো কাগজপত্রে কোনো সমস্যা ছিল না। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও আমার পরিবারের কারও সম্পৃক্ততা নেই। ফলাফলও খারাপ ছিল না। তাহলে কেন পাইনি?’
তিনি বলেন, 'আমার সরকারি চাকরির বয়স শেষ। যেদিন আমার এই চাকরি হয়, তখন আমার বয়স ৩১ বছর ৯ মাস। এখন আমার বয়স শেষ হয়ে গেছে। এনটিআরসিএ-এর ৭ম শিক্ষক নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি যখন প্রকাশ হলো সেখানেও চাকরি হলো। কিন্তু এখানে করবো বলে সেখানে যোগ দিই নি। কেন আমাকে নেওয়া হলো না? এখন আমি কী করবো?’
তিনি আরও বলেন, 'আমার কাগজপত্রে যদি কোনো সমস্যা থাকত, তাহলে আমাদের ডিইপি অফিসের কর্মকর্তারা আমার আবেদনপত্র ও অন্যান্য ডকুমেন্ট নিয়ে সেগুলো একে একে মিলিয়ে দেখেছেন। তাঁরা দুইবার আমার কাগজপত্র নিয়েছেন। কোনো কাগজে ভুল বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সেটি সংশোধন করে আবার জমা দিতে হয়েছে। একটা কাগজও যদি এদিক-ওদিক হতো, সেটা ঠিক করে নিয়ে আসতে হয়েছে। ভুল কাগজপত্র থাকার কোনো সম্ভাবনাই নেই। কারণ ভুল থাকলে তাঁরা কাগজ গ্রহণই করতেন না।'
কান্না বিজরিত কন্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘ঘরের বাইরে বের হতে পারছি না। আট মাস ধরে সবাই জানে আমার সরকারি চাকরি হয়েছে। এখন যদি নিয়োগপত্র পাই নি জানাই তাহলে মানুষ কী ভাববে। আমার পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেছে। ২৭-২৮ বছর পড়াশোনা করে জীবনটা কাটিয়েছি। এখন মুখ দেখানোর উপায় নেই।’
ওই প্রার্থী জানান, নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছেন। সেখানে তাকে বলা হয়েছে, অধিদপ্তর থেকে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তারা সেভাবেই কাজ করছেন।
পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার প্রাথী মো.ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার এমন কোনো কারণ নেই যে আমি নিয়োগপত্র পাব না। কেন পাইনি, এর কোনো কারণই আমি খুঁজে বের করতে পারিনি। আমি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। আমার পরিবারেরও কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়, কারও কোনো পদ-পদবিও নেই।’
নিজের পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই নিরীহ কৃষক পরিবারের সন্তান। আমার ভাইয়েরাও স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা সমস্যা আমাদের নেই। কখনো আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জিডি নেই।’
পাবনা জেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রার্থী বলেন, ‘ডোপ টেস্টের কাগজপত্রসহ সবকিছু ঠিক আছে। বিশ্ববিদ্যালয়েও রাজনীতি করিনি। পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনদের কেউই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন।নিজের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।'
নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ জানতে তিনি ডিএসবি—পুলিশের ভেরিফিকেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানান। তার ভাষ্য, তারা আমাকে বলেছে, আপনার রিপোর্ট সম্পূর্ণ পজিটিভ। এছাড়া পাবনা জেলায় আমরা কাউকে নেগেটিভ দিইনি।
ফরিদপুরের এক প্রার্থী জানান, তিনিও নিয়োগপত্র পাননি। তাঁর ধারণা, রাজনৈতিক কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, এটা হয়তো রাজনৈতিক কারণ। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছিলাম। ছাত্রজীবনেই বিয়ে করেছি, আমার সন্তানও আছে। আমার বাবা কৃষক। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি প্যারালাইজড। তবে আমার এক চাচা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমাদের গ্রামে রাজনীতি নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা ছিল না। তারপরও মনে হচ্ছে, এনএসআই ভেরিফিকেশনের সময় হয়তো বিষয়টি ধরা হয়েছে।’
জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, 'জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেছি। তাঁরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তাঁরা বলেছেন, অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে। তাঁরা এখান থেকে কিছু বলতে পারছেন না।'
কক্সবাজারের টেকনাফের এক প্রার্থীর ধারণা, নিয়োগপত্র না পাওয়ার পেছনে এনএসআইয়ের ভেরিফিকেশন অথবা স্থানীয় কারও ব্যক্তিগত বিরোধ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে আমাদের পারিবারিক জায়গা-জমি নিয়ে কিছু ঝামেলা আছে। এ নিয়ে স্থানীয় কিছু লোকের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। তাঁরা আমাকে যতটুকু সম্ভব সমস্যায় ফেলতে পারে। এনএসআই যে ভেরিফিকেশন করেছে, সেটাও আমি জানতে পারিনি। ওই সময় আমি ঢাকায় ছিলাম। এখানে কী হয়েছে বুঝতে পারিনি। আমি স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিয়েছিলাম, আমার নিয়োগপত্র আসবে। কিন্তু আসে নি।’
তিনি বলেন, 'আমার ডিএসবি ভেরিফিকেশন সঠিক ছিল। ডিএসবি থেকে আমাকে ফোনও দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা পজিটিভ রিপোর্ট দিয়েছেন এবং বলেছেন, আমার কোনো সমস্যা নেই।’
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। আমরা হলে থেকেও পড়াশোনা করেছি। সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল আমাদের মূল চিন্তা।'
এদিকে কক্সবাজারের প্রার্থী রিদোয়ানুল হক বলেন, 'আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। তবে আমার আব্বু স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং বর্তমান যে কমিটি আছে সেখানেও তিনি সদস্য। কিন্তু আমরা বিএনপির পরিবারে হওয়ার পরও আমার নিয়োগপত্র কেন আসেনি, সেটা জানি না।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জিডিও নেই। এমনকি কোনো বিষয়ে কখনও থানায় যাওয়ার ঘটনাও নেই আমার।'
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার প্রার্থী আইনুল ইসলাম জানান, নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার কোনো কারণ এখনো জানতে পারেননি। তিনি বলেন, 'এখন পর্যন্ত আন্দাজ করার মতো কোনো কারণও জানতে পারছি না। কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটা বুঝতে পারছি না।'
নিজের পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে আইনুল ইসলাম বলেন, 'আমার বাবা-চাচাদের মধ্যে কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। আমিও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। নিজের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জিডি এ ধরনের কোনো বিষয় কখনো ছিল না।'
তিনি বলেন, 'জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, নিয়োগপত্রের তালিকা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছে এবং ভেরিফিকেশনের কারণে যাঁদের নাম আসেনি, তাঁদের জন্য নিয়োগপত্র তৈরি করা সম্ভব হয়নি।’
কুমিল্লা জেলার ফারুক নামে এক প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি নিয়োগপত্র পাননি। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষার সব রিপোর্টই ইতিবাচক এসেছে।
তিনি বলেন, 'আমি কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কাজের সঙ্গে জড়িত নই, কোনো উচ্ছৃঙ্খল কাজের সঙ্গেও জড়িত নই। কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে আমরা জড়িত নই। পরীক্ষাগুলোর রিপোর্ট পজিটিভ। তারপরও কেন নিয়োগপত্র পেলাম না, এটা বুঝতে পারছি না।’
পাবনার এক প্রার্থী মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, 'ছাত্র অবস্থায় রাজনীতি পরিবারের কেউ নাই। কোনও পুলিশি ঝামেলাও নেই। '
নিয়োগপত্র না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি ছোটকাল থেকে ভালো ছাত্র। প্রাথমিকে বৃত্তি পেয়েছি। এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ। ইন্টারেও ভালো রেজাল্ট। অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস—বুঝছেন? আর আমার সঙ্গে এরকম হচ্ছে।’
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রত্যাশী ১৪ হাজারের বেশি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর অনুকূলে গত বৃহস্পতিবার নিয়োগপত্র জারি করা হয়। বিভিন্ন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে সরাসরি অথবা ডাকযোগে এসব নিয়োগপত্র পাওয়ার কথা। কিন্তু এখনও অনেকেই নিয়োগপত্র পাননি। নিয়োগপত্র যারা পেয়েছেন তাদের আগামী ১ অক্টোবর নিজ নিজ জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর থেকে পদায়ন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সব নির্বাচিত প্রার্থীরা কেন নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো বার্তা আসে নি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ফোনেও পাওয়া যায়নি।
এদিকে ১৪ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশনে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে প্রায় ১২ শতাধিক প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি বলে জানিয়েছে ‘চূড়ান্ত সুপাররিপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’। গত ৮ মাস ধরে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম এটি। আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এই প্ল্যাটফর্মের একজন মুখপাত্রের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সরকারের প্রতি ৫টি দাবিও তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনের দোহাই দিয়ে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ব্যতিরেকে অসংখ্য যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১২০০ জনের নিয়োগপত্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইস্যু করা হয়নি বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
অপরদিকে, এসব সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীরা আগামী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। এদিন সকাল ১০টার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হবেন বলে জানিয়েছেন সুপারিশবঞ্চিতদের একজন মো. লোকমান। ঢাকা কলেজে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কিছু জেলার তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে, প্রায় ১৫০০ জন প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি। সব জেলা মিলিয়ে সেটা আড়াই থেকে তিন হাজার হতে পারে বলে ধারণা করছি। আমরা আগামী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হবো। এরপর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত চেয়ে আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম তাদের বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের প্রতি ৫টি দাবি তুলে ধরা হয়।
এসব দাবির মধ্যে মধ্যে রয়েছে-তাৎক্ষণিক পুনর্বিবেচনা: ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি অবিলম্বে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুনঃযাচাইযোগ্য প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাই করতে হবে; আপিল ও শুনানির অধিকার: তথ্যগত ভুল বা অসংগতির শিকার প্রার্থীদের নিজেদের নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে; প্রশাসনিক ভুল সংশোধন: কোনো দপ্তর বা কর্মকর্তার গাফিলতি, ভুল তথ্য কিংবা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কোনো প্রার্থী বাদ পড়ে থাকলে তা অবিলম্বে সংশোধন করে তার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে; আটকে থাকা নিয়োগপত্র অবিলম্বে প্রদান: চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়া সকল প্রার্থীর বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং কোনো অযৌক্তিক কারণে এই প্রক্রিয়া আর বিলম্বিত করা যাবে না; দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ: পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং কোন প্রক্রিয়ায় এতসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়লেন-তার সুস্পষ্ট ও দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।