শিক্ষায় ‘প্যারাডাইম শিফট’ হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে

০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ AM , আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৪ PM
অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের হয়। এরপর ওই বছরের ২৭ আগস্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। দায়িত্ব নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংস্কারে হাত দেন। সেই হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন সিলেবাসে টেকনিক্যাল এবং ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। 

তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি ‘প্যারাডাইম শিফট’ বা আমূল পরিবর্তন আনতে কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো রিভাইজড সিলেবাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে সফট ও হার্ড স্কিল বা কারিগরি দক্ষতা নিশ্চিত করা, যাতে ডিগ্রি অর্জনের পর তাদের চাকরির পেছনে ছুটতে না হয়, বরং তাদের যোগ্যতাই যেন কাজ খুঁজে নেয়।’

আগামী আগষ্টে অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের ২ বছর পূর্ণ হবে। এ উপলক্ষ্যে সম্প্রতি তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন। এতে তিনি দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি, সংস্কার-উদ্যোগ ইত্যাদি বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। পাশাপাশি তুলে ধরেন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। বিশ্ববিদ্যালয়টির ধানমন্ডি নগর কার্যালয়ে দেয়া সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব প্রকাশিত হলো। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের স্টাফ রিপোর্টার মো. আবদুর রহমান

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের একটি বড় অংশ বেকার থাকার পেছনে মূল কারণ কী এবং এ সংকট নিরসনে আপনারা বর্তমানে কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: বর্তমানে গ্র্যাজুয়েটদের একটি বড় অংশ বেকার থাকছে অথবা তাদের যোগ্যতার বাইরে কাজ করছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বর্তমান সিলেবাসের সাথে কর্মক্ষেত্রের অসামঞ্জস্যতা। এ সমস্যা সমাধানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করছে, যার ৪০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।

যদি এক বছরে ৪ লক্ষ শিক্ষার্থী চাকরি না পায়, তবে ১০ বছরে ৪০ লক্ষ গ্রাজুয়েট বেকার থাকবে। অর্থাৎ, আমরা এমন গ্রাজুয়েট তৈরি করছি যারা হয় চাকরি পাচ্ছে না, অথবা এমন চাকরি করছে যা তাদের যোগ্যতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—ফলে তাদের মধ্যে ‘জব স্যাটিসফ্যাকশন’ নেই। এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা গেছে আমাদের সিলেবাস। এটি ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমি ভিত্তিক নয়।

668
অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ

এটি দেখার পর আমরা সিলেবাস সংস্কারের কাজ শুরু করেছি। আমরা অনেকগুলো কমিটি গঠন করেছি, যেখানে জাতীয় পর্যায়ের বিশেষজ্ঞসহ প্রবাসে কর্মরত দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রথম রাউন্ডের রিভিশন শেষে আমরা সংশোধিত সিলেবাস সারাদেশে আপলোড করেছি। বর্তমানে আমাদের প্রায় ৩০-৩১টি অনার্স এবং ২৯টির মতো মাস্টার্স কোর্স, বিএড, লাইব্রেরি সায়েন্স এবং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটগুলোতে এই রিভাইজড সিলেবাস চলছে।

এতে কি আমরা সন্তুষ্ট কি না? উত্তর হলো যে না, এতে আমরা সন্তুষ্ট না। এটা হয়তো আমাদের কাম্য যে সিলেবাসটা সংস্কার সেটার অ্যারাউন্ড।আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করেন আমি বলব অ্যারাউন্ড ৪০ শতাংশ, তার মানে আরও ৬০ শতাংশ সিলেবাস সংস্কারের কাজ রয়ে গেছে এবং সেই ৬০ শতাংশ সিলেবাস সংস্কারের কাজে আমরা হাত দিয়েছি। সেগুলোকে আমরা ধাপে ধাপে আমরা সংস্কারের দিকে যাব। কারণ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী সিলেবাস যদি আমি বলি একটা দেশের জন্য দরকার অথবা পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের কথা বলছে, এখন আমাদের এটা ইভেন প্রথম অথবা দ্বিতীয়র কাছাকাছি নাই। 

‘শিফটিং অব প্যারাডাইম’ অংশ হিসেবে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে প্রথমবারের মতো দুইটা সাবজেক্ট বাধ্যতামূলকভাবে চালু করেছি। এটা গত ইয়ার থেকে শুরু হয়েছে। আমরা সেখানে আইসিটি এবং ইংরেজি এই দুইটা সাবজেক্টকে আমরা ম্যান্ডেটরি করে দিয়েছি। তারমানে আপনি যেকোনো সাবজেক্ট পড়েন ইভেন আপনি যদি বাংলাও পড়েন তাহলে আপনাকে আইসিটির এই কোর্সগুলো পড়তে হবে। ইভেন আপনি যদি হিস্ট্রি পড়েন তাহলে আপনাকে ইংরেজি বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে।

এইরকম একটা অবস্থার ভেতরে আমরা এই জায়গাটাতে কাজ শুরু করেছি। এবং আমরা আশা করছি যে আগামী বছর দুই-একের ভেতরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত সিলেবাসগুলো একদম আন্তর্জাতিক মানের না হলেও দেশীয় মান এবং সাউথ এবং সাউথ ইস্ট এশিয়ার অন্যান্য ওপেন ইউনিভার্সিটি অথবা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে যে লেভেলের সিলেবাস পড়ানো হয় সে সমস্ত সিলেবাসগুলো আমরা পড়ানোর চেষ্টা করব।

আরও পড়ুন: সাটিফিকেট সংশোধনসহ মূল সনদ উত্তোলনে নতুন পরিকল্পনা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

তবে আমরা এতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। আমাদের কাম্য সংস্কারের হয়তো ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি ৬০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি। চতুর্থ বা পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের উপযোগী সিলেবাস তৈরির লক্ষ্যে আমরা ধাপে ধাপে এগোচ্ছি। আশা করছি, আগামী দুই বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস আন্তর্জাতিক মানের না হলেও অন্তত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওপেন বা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিগুলোর সমপর্যায়ে নিয়ে যেতে পারব।

এছাড়াও আমরা আরেকটা জায়গাতে হাত দিয়েছি সেটা হলো শিফটিং অব প্যারাডাইম। আমাদের এখানে একটা প্যারাডাইম শিফট দরকার পড়েছে। কী প্যারাডাইম শিফট? আমরা যে পড়াশোনা করাচ্ছি সে পড়াশোনার সাথে তাকে যে সিলেবাস দিচ্ছি রিভাইজড সিলেবাস তাতে কি তার সফট স্কিল ডেভেলপ করছে? অথবা তার কি কোন ধরনের কোন হার্ড স্কিল ডেভেলপ করছে? যেটা সে চাকরি থেকে পাশ করার পরে সেটাতে সে কাজ করতে পারবে অথবা কাজ তাকে খুঁজে নেবে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনি ‘শিফটিং অব প্যারাডাইম’ বা শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথা বলছেন। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল ও হার্ড স্কিল নিশ্চিত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কী ধরনের যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: ‘শিফটিং অব প্যারাডাইম’ অংশ হিসেবে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে প্রথমবারের মতো দুইটা সাবজেক্ট বাধ্যতামূলকভাবে চালু করেছি। এটা গত ইয়ার থেকে শুরু হয়েছে। আমরা সেখানে আইসিটি এবং ইংরেজি এই দুইটা সাবজেক্টকে আমরা ম্যান্ডেটরি করে দিয়েছি। তারমানে আপনি যেকোনো সাবজেক্ট পড়েন ইভেন আপনি যদি বাংলাও পড়েন তাহলে আপনাকে আইসিটির এই কোর্সগুলো পড়তে হবে। ইভেন আপনি যদি হিস্ট্রি পড়েন তাহলে আপনাকে ইংরেজি বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে। তার মানে আপনি কম্পিউটার সায়েন্স, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান পড়েন আপনার কোনো অসুবিধা নেই। আপনাকে আইসিটিটা বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে। 

national_university_210723
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস, গাজীপুর

এই আইসিটিটা বাধ্যতামূলক পড়তে হবে বললেই তো হবে না। আমাদের তো শিক্ষক লাগবে। আইসিটি পড়ানোর শিক্ষকের পরিমাণ অনেক কম। সেজন্য আমরা আইসিটিতে এটুআই, আইসিটি ডিভিশন এবং ইউনিসেফ তাদের সহযোগিতায় আমরা আইসিটির উপরে আমরা প্রায় কো-ট্রেইনার তৈরি করেছি। ওনারা প্রায় ৯০০-র মতো মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করেছেন। এই ৯০০ মাস্টার ট্রেইনার এখন সারাদেশে প্রায় ১২ হাজার আইসিটি শিক্ষককে ট্রেনিং দেওয়া শুরু করেছে। আইসিটি শিক্ষক তাহলে আমরা রেডি পাচ্ছি কোথায়?

যারা সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড, ম্যাথ পড়াচ্ছেন, কেমিস্ট্রি পড়াচ্ছেন, ফিজিক্স পড়াচ্ছেন। এর আগে ছোটখাট আইসিটি ট্রেনিং পেয়েছেন বিভিন্ন জায়গা থেকে। যাদের সায়েন্স টেকনোলজি সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা আছে তাদেরকে আমরা আপাতত রেডি করছি। একসাথে তো আমি এখন ১২,০০০ শিক্ষক পাবো না আইসিটি পড়ানোর জন্য। আমাকে এখন তাদেরকে রেডি করতে হচ্ছে এবং এই ট্রেনিংটা এখন এই মুহূর্তে চলবে। এই শিক্ষকরা আমাদের ক্লাসে আইসিটি পড়াবে। 

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের, সম্ভাব্য সময় জানালেন উপাচার্য

দুইটা জায়গাতে আমি এটা বললাম আমাদের ইংরেজি এবং আইসিটিটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং আরও কতগুলো কোর্স আমরা করতে যাচ্ছি যেগুলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডাটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং—এই সমস্ত সাবজেক্টগুলো। আমরা হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং এই রিলেটেড কিছু সাবজেক্ট আমরা আমাদের সারা দেশের সমস্ত প্রফেশনাল কলেজগুলোতে আমরা লঞ্চ করতে চাই। কারণ তার প্রচুর ডিমান্ড দেশের ভিতরে এবং দেশের বাহির থেকে আমাদের কাছে আসছে। আমাদের কাছে তারা অন অ্যাভারেজে ৫০০ এই হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট চাচ্ছে অথবা টেকনিক্যাল হ্যান্ড চাচ্ছে কিন্তু আমরা বছরে আমাদের গ্রাজুয়েশন হয় হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে অ্যারাউন্ড ৪০০ সারাদেশে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায়। 

আরও দুই-একটা টেকনিক্যাল সাবজেক্ট আমরা ইন্ট্রোডিউস করার চেষ্টা করছি গুচ্ছ আকারে যে যেটা পছন্দ করে সে সেটা সেখান থেকে নিবে। মেয়েরা যদি পছন্দ করে ফ্রিল্যান্সিং তাহলে তারা সেখান থেকে ফ্রিল্যান্সিং, তারা যদি কুকারি কোর্স পছন্দ করে তারা সেখান থেকে কুকিং-এ কোর্স সেখান থেকে তারা পিকআপ করে। ছেলেরা যদি পছন্দ করে অন্য কোন ধরনের কোন কোর্স পড়তে চায়, তারা যদি এমন কিছু কোর্স পড়তে চায় যেগুলোতে গালফ স্টেটগুলোতে চাকরির বাজার আছে, আমাদের এখানে যথেষ্ট ডিমান্ড আছে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে, তার সাবজেক্টে সে অনার্স পড়বে কিন্তু সাথে আমরা এই স্কিলগুলো এক দুইটা স্কিল আমরা তাদেরকে দেব এবং এটা নিয়ে আমরা ইউনিসেফের সাথে কাজ শুরু করেছি।

069

এটা নিয়ে আমরা ম্যানচেস্টারের সলফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাথে কাজ শুরু করেছি অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম কীভাবে করা যায়। তারা সলফোর্ড ইউনিভার্সিটি একটা ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম চালায় ব্রিটেনে এবং সেটার মডেলটা খুব সুন্দর। তারা তাদের মডেলটা আমাদের এখানে দিতে চাচ্ছে। আমরা তাদের সাথে এমইউ করেছি।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: অনেকেই মনে করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেবল বিসিএস বা সরকারি চাকরির পেছনে ছোটে, গবেষণায় তাদের আগ্রহ কম। কিন্তু আপনি বলছেন পরিবেশ ও সক্ষমতা—দুই-ই আছে। এই বিপুল ছাত্রসমাজকে গবেষণামুখী করতে আপনাদের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ কী?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের জন্য শিক্ষকদের জন্য সামান্য কিছু সহায়তা গবেষণা সহায়তা আছে এখন, আর ছাত্রদের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন গবেষণা কোনো সহযোগিতা নাই এই মুহূর্তে। কিন্তু পরিবেশটা সেরকম আছে কি না যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা গবেষণা করবে—হ্যাঁ আছে। তাদেরকে যদি আমরা গাইডেড ভাবে যদি আমরা গ্রুপওয়াইজ ফান্ড দিতে পারি তাহলে তারা কি সেই গবেষণা কর্মটা শেষ করতে পারবে সে সক্ষমতা আছে। শিক্ষকরা আছেন গাইড করার জন্য? আছে। আমাদের এখানে কিন্তু আপনাদের মনে রাখতে হবে যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বেশ কয়েকজন এই শতবর্ষব্যাপী শতবর্ষের কলেজ রয়েছে।

আমাদের এখানে প্রায় ২৫০-র মতো মডেল কলেজ আছে সারাদেশে এবং সারাদেশের সরকারি উচ্চ শিক্ষা সরকারি কলেজ যেগুলো স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর কলেজগুলো সেগুলো কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সেখানে উপযুক্ত শিক্ষকরা কিন্তু আছে এবং আমাদের কোনো কোনো কলেজ থেকে যে জার্নাল বের হয় সেই জার্নালের কোয়ালিটি যে খুব খারাপ তাও বলা যাবে না। কিন্তু তাকে আরেকটু গাইড করলে সেটা হয়তো আন্তর্জাতিক মানের সেই জার্নালে পৌঁছাতে পারবে। 

আটটা ডিভিশন থেকে আপাতত প্রাইভেট কতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমাদের বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনেকের সাথে আমরা এমইউ করেছি। তাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা শিক্ষকদের ভিতরে অন্ততপক্ষে এক বছরে ২০ থেকে ২৫ টা রিসার্চ গ্রান্ট শিক্ষকদের জন্য করা এবং শিক্ষকরা সেখানে রিসার্চ করবেন তাদের ছেলেমেয়েদেরকে নিয়ে। আমরা ছোট লেভেলেই শুরু করি যেহেতু আমরা সরকারের কাছ থেকে আমরা কোনো ধরনের কোনো গ্রান্ট পাই না অথবা অনুদান আমরা পাই না। 

আমরা নিজেরা নিজেরা ম্যানেজ করতে হয় সেলফ ম্যানেজ ইউনিভার্সিটি। আমরা আমাদের নিজস্ব ফান্ড থেকে আমরা এই কাজটা আমরা করার চেষ্টা করছি এবং এই নিয়ে আমাদের একটা কমিটি এখন এই মুহূর্তে কাজ করছে। আপনারা শীঘ্রই আপনারা দেখতে পাবেন যে গবেষণার বিভিন্ন জায়গাতে আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটা ইন্টারভেনশন আসবে। তবে হ্যাঁ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এমফিল এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম যেটা ছিল সেটা একটা হাস্যকর ব্যাপার ছিল। সেই এমফিল এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম হাস্যকর ব্যাপার থেকে আমরা একটা মোটামুটি জায়গাতে আনার চেষ্টা করতে পেরেছি। 

আরও পড়ুন: বদলে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন

বাংলাদেশে যারা খুব নামকরা রিসার্চ স্কলার আছেন যারা রিসার্চ মেথডোলজি সম্পর্কে খুব ভালো জানেন এদেশে বিগ সোশ্যাল সায়েন্স, বিজনেস সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স, ফিজিক্স যেকোনো এরিয়াতে যারা ভালো রিসার্চার এদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রফেসরদেরকে আনা হয়েছে। বুয়েটের সিনিয়র প্রফেসরদেরকে আনা হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রফেসরদেরকে ইনভলভ করে আমরা আমাদের এমফিল এবং পিএইচডি প্রোগ্রামটাকে মোটামুটি এই গত এক দেড় বছরে একটা লাইনে আনতে পেরেছি।

এখন আমাদের এখানে এমফিল এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে যারা পড়াশোনা করবেন তারা এমফিল এবং পিএইচডিটা পড়বেন আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি। আমাদের এখান থেকে যারা এমফিল পিএইচডি প্রোগ্রাম করে বের হবেন তাদেরকে আটকানো খুব কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। তাদেরকে একটু পড়াশোনা করে রিসার্চ মেথডোলজি জেনে তার সাবজেক্টটা জেনে নলেজ অ্যাডিশন করে এক্সিস্টিং নলেজে নলেজ অ্যাডিশন করে তারপরে তার একজন পিএইচডি এখানে করতে হবে এবং আমরা ভালো সাড়াও পাচ্ছি।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: বেসরকারি কলেজগুলো নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই লাঘামহীন ফি বন্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় আপনাদের প্রস্তাবিত ‘মনিটরিং সেল’ ঠিক কীভাবে কাজ করবে?

023

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি গত এক যুগেও সেভাবে পুনর্বিন্যাস করা হয়নি, সর্বশেষ ২০১৫ সালে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তবে বর্তমানে কাগজের দাম রিম প্রতি ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং ডলারের দাম ৮২ টাকা থেকে ১২৪ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মূলত শিক্ষার্থীদের ফি দিয়েই পরিচালিত হয় এবং এখান থেকেই বড় অঙ্কের ট্যাক্স ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির কারণে শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন ও মডারেশনের সম্মানী একই রাখা সম্ভব হচ্ছে না, কারণ আগের অল্প পারিশ্রমিকে শিক্ষকরা কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এই সামগ্রিক ব্যয় নির্বাহের কথা চিন্তা করেই ফিতে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। 

আর সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের কলেজে পরীক্ষা সংক্রান্ত সব ফি সমান রাখার নিয়ম থাকলেও অনেক প্রাইভেট কলেজ ম্যানেজমেন্ট বা ডেভেলপমেন্ট কস্টের নামে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিবিএ, এমবিএ বা কম্পিউটার সায়েন্সের মতো প্রফেশনাল কোর্সগুলোতে একেক প্রতিষ্ঠান একেক রকম ফি চার্জ করছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না তা তদারকি করতে শিগগিরই দেশব্যাপী কঠোর মনিটরিং শুরু করব।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: নকলমুক্ত পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতে আপনি কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বা ‘পাওয়ার রিলেশনশিপ’-এর কারণে শিক্ষকরা অসহায় বোধ করেন; এমন পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে আপনাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কতটুকু কার্যকর হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন? 

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর একটি বড় সমস্যা দেখেছি সারাদেশে পরীক্ষার সময় নকলের ব্যাপক প্রবণতা, যা প্রফেশনাল কোর্সসহ প্রায় সবক্ষেত্রেই অনেকটা মহোৎসবের মতো চলছিল। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলেজ প্রশাসনগুলোকে নির্দিষ্ট কিছু নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নকলের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট কলেজের অধিভুক্তি বাতিল করা হবে। 

এছাড়াও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আকস্মিক পরিদর্শনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতিটি অনার্স পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শত শত অতিরিক্ত পরিদর্শক পাঠানো হচ্ছে। কলেজের নিজস্ব পরিদর্শকদের পাশাপাশি এখন স্থানীয় পর্যায়ের সুধীজন ও শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তিদেরও ইনভিজিলেশন বা হল পরিদর্শনে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যদিও এটি একটি সামাজিক সমস্যার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে পারিবারিক পরিচয় বা ক্ষমতার প্রভাব কাজ করে, তবুও এই জায়গাটিতে একটি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। 

বিশেষ করে ল কলেজগুলোতে নকলের প্রবণতা রোধে পরীক্ষাগুলো গুচ্ছ ভিত্তিতে স্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধীনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, এটি ইতিমধ্যে কার্যকর হতে শুরু করেছে। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন অতীতেও নকলমুক্ত পরিবেশ তৈরিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন, তাই তার দিকনির্দেশনায় বর্তমানেও নকলের ব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন একটি বর্ণাঢ্য সমাবর্তন। আপনি এর আগে দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন কি আপনার মেয়াদকালেই শিক্ষার্থীরা দেখতে পাবে?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন একটা নেসেসিটি। এটা মোর দ্যান নেসেসারি। এবং এখানে প্রথম সমাবর্তনের পরে আর কোনো সমাবর্তন হয়নি। দ্বিতীয় সমাবর্তনের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা আছে এই মুহূর্তে। গত অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় আমরা চেয়েছিলাম দ্বিতীয় সমাবর্তন করব। কিন্তু অনেক চেষ্টা করার পরেও প্রধান উপদেষ্টার টাইম এবং সময়টা না ম্যাচ করার কারণে করতে পারিনি। 

এছাড়াও আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন একটা বড় পরিসরে করতে হয়, বড় ভেনুর দরকার পড়ে, প্রচুর ছেলেমেয়েরা সেখানে উপস্থিত হবে, লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়েরা সমাবর্তনে উপস্থিত হবে—একটা বিশাল আয়োজন। তো সেই সময়টা ওনারা আমাদেরকে দেননি। 

তিনি বলেন, এ বছর আমরা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন নিয়ে চিঠি লিখেছি এবং মন্ত্রণালয় এটা পজিটিভ এবং আমি আশা করি যে এই বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন করতে পারবো। এছাড়াও আমরা ন্যাশনালি একটা অধ্যক্ষ সম্মেলন করি, সেইটাও এইবছর করা হবে। এই দুইটা বড় ইভেন্ট আমাদের সামনে আসছে এবং মন্ত্রণালয় খুবই পজিটিভ এই ব্যাপারে। আমরা সময় চাচ্ছি। আমরা বিশেষত প্রধানমন্ত্রীর সময়টা চাচ্ছি। আমরা সময়টা পেলেই আমরা সময় ঘোষণা করব।

গোপালগঞ্জে পুকুরে লুকানো ২০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার, ব্যবসায়ীকে…
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
খুমেবির তিন প্রফের রুটিন প্রকাশ
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
স্থায়ীভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্ট…
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষকদের ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব নাকচের কারণ জানাল মন্ত্রণালয়
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
মরণফাঁদে পরিণত আন্ধারমানিক সেতুর ফুটপাত, ঝুঁকিতে পথচারীরা
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পরিচালনা-নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে মন্…
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬