দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের, সম্ভাব্য সময় জানালেন উপাচার্য

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৯ AM , আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৮ AM
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৩৩ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো সমাবর্তন আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বর্ণাঢ্যভাবে এ আয়োজন করার জন্য ইতিমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। দায়িত্ব নিয়েই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক নানামুখী সংস্কার কাজে হাত দেন। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত না হওয়া সমাবর্তন আয়োজনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার উপাচার্য বলেন, সমাবর্তনের সব প্রস্তুতি আমাদের সম্পূর্ণ রয়েছে। আমরা গত বছরই এ সমাবর্তন করতে চেয়েছি। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার সময় না পাওয়া এটি বিলম্ব হয়েছে। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে আমরা দ্বিতীয় সমাবর্তন করব ইনশাল্লাহ। ইতিমধ্যে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়েছি। সময় পেলেই নির্ধারিত দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে। গত ৩৩ বছরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র একবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিভুক্ত কলেজ থেকে পাশ করে বের হওয়া লাখ লাখ গ্র্যাজুয়েট বঞ্চিত হচ্ছেন সমাবর্তনে অংশগ্রহণ থেকে। পাশাপাশি মূল সনদ তুলতে গিয়েও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। সমাবর্তনের দাবিতে কয়েকবার আন্দোলনেও নেমেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

সমাবর্তনের সকল প্রস্তুতি আমাদের সম্পূর্ণ রয়েছে। আমরা গতবছরই এই সমাবর্তন করতে চেয়েছি। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার সময় না পাওয়া এটি বিলম্ব হয়েছে। তবে এই চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে আমরা দ্বিতীয় সমাবর্তন করবো ইনশাল্লাহ। ইতিমধ্যে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়েছি। সময় পেলেই নির্ধারিত দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হবে।— অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পর প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি। বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে এ সমাবর্তন হয়। এরপর ৮ বছরে একাধিক বার সমাবর্তন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের দাবি, নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজন করা হোক। এরমধ্য দিয়ে শিক্ষা জীবনের আনুষ্ঠানিক পাঠ সম্পন্ন করে মূল সনদ তুলতে আর বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না তাদের।

জানা গেছে, অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন সময়ে ২০১৭ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কোনো উপাচার্য এই উদ্যোগ নেননি। প্রথম সমাবর্তনে ১৯৯৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ হাজার ৯৩২ জন নিবন্ধনকৃত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। এদের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করায় আট শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ২ হাজারের অধিক। এখান থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট বের হলেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন সমাবর্তন থেকে। নিয়মানুযায়ী, শিক্ষাজীবন শেষ বা পরীক্ষা-ফলাফল সব শেষ হয়ে গেলেও সমাবর্তন ছাড়া মূল সার্টিফিকেট তোলা যায় না। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেয়া সাময়িক সার্টিফিকেট নিয়ে কাজ চালান শিক্ষার্থীরা। তবে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সাময়িক সনদপত্র গ্রহণযোগ্য হয় না অনেক ক্ষেত্রেই। গ্রহণ করলেও শর্ত জুড়ে দেয়া হয় ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে মূল সনদপত্র জমা দেয়ার।

tdc (3)

তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের গ্র্যাজুয়েটদের তাদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে সাময়িক সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। তবে মূল সনদ নিতে তাদের আসতে হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস গাজীপুরে। দেশের দূরদূরান্ত থেকে সনদ নিতে আসা গ্র্যাজুয়েটদের নানা ভোগান্তির পাশাপাশি গুনতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। তবে নিয়মিত সমাবর্তন হলে মূল সনদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে নিতে পারবে। তাই নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজনের দাবি অধিভুক্ত কলেজের গ্র্যাজুয়েটদের।

আরও পড়ুন: একই দিনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষা?

সার্টিফিকেট তুলতে গিয়ে ভোগান্তির কথা জানান নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েট হওয়া শামিম রহমান। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার চেষ্টা করছি। যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার আসে তাহলে মূল সনদ প্রয়োজন হবে। এখন আমি বাড়িতে বসেই এসব কাজ সম্পন্ন করতে পারি। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সার্টিফিকেটের জন্য আমাকে গাজীপুর যেতে হবে। পাশাপাশি এটা তুলতে গিয়ে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হবে। তাই নিয়মিত সমাবর্তন হলে আমি কলেজ থেকেই এটা তুলতে পারতাম।

জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন যুগ পার হলেও মাত্র একবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেক বড় তাই আমাদের সমাবর্তন করতে হলেও সময়ের প্রয়োজন আছে। যদিও আমরা ইতিমধ্যে সমাবর্তনের সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছি। সেই হিসেবে এ বছরের শেষের দিকে অর্থ্যাৎ ডিসেম্বরে আমরা সমাবর্তন অনুষ্ঠান করার চিন্তা করছি। ইতিমধ্যে এই সমাবর্তন আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে অনুমতির জন্য চিঠি পাঠিয়েছি, উনি (প্রধানমন্ত্রী) সম্মতি দিলেই আমরা তারিখ নির্ধারণ করে কাজ শুরু করবো।

ইলানের মাকে হারাতে চাই না!
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন …
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
গাকৃবিতে শিল্প-সহযোগিতা ও ক্যারিয়ার গঠনে দিনব্যাপী সেমিনার
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
ইউআইইউর সহযোগিতায় জামালপুরে ‘রোবো ফেস্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
এলপি গ্যাসে আরও একলাফ, বাড়ল ২২৩ টাকা
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, আটক ৪১
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950