সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ঢাকা © সংগৃহীত
সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোতে ২০২০-২১ সেশনের ৭ম সেমিস্টারের ফি বৃদ্ধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আগের ব্যাচে যেখানে এ সেমিস্টারের ফি সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা ছিল, সেখানে বর্তমান ব্যাচে তা বাড়িয়ে ৩৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দেশের ১৪টি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে সাক্ষাৎ এবং লিখিত আবেদন জানান। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্য সরাসরি সাক্ষাৎ না করে অধীনস্থ দপ্তর কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন এবং শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। কিন্তু কিছুদিন পরেই আবার পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ে।
এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তর কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের একাধিক অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তুলনামূলকভাবে বেশি ফি নেওয়া হয়। এখানকার বর্তমান ফি অতিরিক্ত নয়। বিষয়টি প্রশাসনিক ‘প্রসেস’ কিংবা ‘সিস্টেম’-এর অংশ বলেও তিনি দাবি করেন। তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে তিনি কথা সম্পূর্ণ না বলে আলোচনার সমাপ্তি টানেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের ন্যায্য দাবিকে ‘মব’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তারা দাবি করেন, প্রশাসন কার্যকর সমাধান না দিয়ে অতিরিক্ত ফি আদায়ের সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ৭ম সেমিস্টারে সাধারণত ফি তুলনামূলকভাবে কম থাকে, কারণ এ সেমিস্টারে কোনো লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় না। বরং শিক্ষার্থীরা বিনা পারিশ্রমিকে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতার ইন্টার্নশিপ করে থাকেন এবং একটি ভাইভার মাধ্যমে সেমিস্টার সম্পন্ন হয়। এ অবস্থায় পরীক্ষা ফি, কেন্দ্র ফি আরও অতিরিক্ত বিষয়ের ফি ইত্যাদি যুক্ত করে ফি বৃদ্ধি করাকে তারা অযৌক্তিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ১৪টি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধান দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ফি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠবে। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের প্রতি বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।