সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

৭১ ও ২৪-এর অপরাধীদের জন্য এখন অভ্যুত্থানের নেতারাও মোনাজাত ধরছে

০৮ জুন ২০২৬, ০১:১৫ PM , আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:৫০ PM
সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম © সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ১৬ জন প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নামে শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়া এবং তাদের স্মরণে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

রবিবার (৭ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সংসদের শোক প্রস্তাবের সমালোচনা করে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের সহযোগী এবং ২০২৪ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের একই পরিসরে স্মরণ করার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।

ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, ‘এটাই। এখানে Truth, Justice and Reconciliation হবে না। ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধের সহযোগী ও ’২৪-এর মানবতাবিরোধী অপরাধী উভয়ের জন্যই শোক প্রস্তাব হবে। কোনো বিচার না, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং না, ক্ষমাপ্রার্থনা না। এটাই হয়ত সিন্থেসিস! আমরাই বুঝি নাই এতদিন।’

এমনকি মোনাজাত ধরার বিষয়ে তিনি লেখেন, ‘সবাই দেখসি মোনাজাত ধরসে। অভ্যুত্থানের নেতারাও। পরিবেশ সুন্দর। কোথাও কোলাহল নেই!’

মাহফুজ আলমের এই মন্তব্যকে সংসদে গৃহীত শোক প্রস্তাব এবং মোনাজাতকে ঘিরে তার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। পোস্টে তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও বিচার, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে রবিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাবেক সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদসহ মৃত্যুবরণকারী ১৬ জন  সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নামে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে তা সংসদে গৃহীত হয়। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম, এ কে এম রহমত উল্লাহ, মিজানুর রহমান সিনহাসহ আওয়ামী লীগের সাতজন নেতা। এছাড়া বিএনপির পাঁচজন এবং জাতীয় পার্টির তিনজন সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর নামও শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সংসদের ওই শোক প্রস্তাব ও মোনাজাতের পর মাহফুজ আলমের পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। পোস্টটি ঘিরে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও এ বিষয়ে সংসদ কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি অনুযায়ী প্রয়াত বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়ে থাকে। শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর সাধারণত নীরবতা পালন ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

‘এইরকম এতিম দশায় ওপেন করা হইলো কেনো’—জুলাই জাদুঘর নিয়ে ফারু…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
বিএম কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সমঝোতা বৈঠক, শান্ত হলো ক্যা…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
ঢামেকে ছাত্রশিবিরের ৩.৬ কিলোমিটার ‘জুলাই লিগ্যাসি রান’
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুলের ১২ অনুসারী বিএনপিতে…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
‘গাঁজা-বাবা কি তোর বাপের টাকায় খাই’— বলেই ছাত্রদল সভাপতিকে…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
চমেকের ইন্টার্ন চিকিৎসকের সমকামিতার তথ্য প্রকাশ্যে, বয়কটের …
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬