বদলে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৬ AM , আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৯ AM
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের গতানুগতিক ধারা ভেঙে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা যাচাইয়ে প্রশ্নের ধরনে বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা মূল্যায়নের লক্ষ্যেই এই নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত শিক্ষার্থীদের মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে মূল পাঠ্যবইমুখী করার লক্ষ্যেই এ নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে শিক্ষার্থীরা কেবল গাইড বা নোট বইয়ের ওপর নির্ভর না করে বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কমিটির এক সদস্য দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছি, শিক্ষার্থীরা কেবল বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান বা গাইড বইয়ের কিছু গতানুগতিক তথ্য মুখস্থ করে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতে করে তাদের প্রকৃত মেধা যাচাই করা সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, ‘এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতেই উপাচার্যের নির্দেশনায় আমরা প্রশ্নের ধরনে ক্রিয়েটিভিটি বা সৃজনশীলতাকে প্রাধান্য দিচ্ছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি পরীক্ষা পদ্ধতি দাঁড় করানো, যেখানে একজন শিক্ষার্থীকে পাঠ্যবইয়ের মূল বিষয়বস্তু বুঝতে হবে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা কেবল পাসের জন্য নয়, বরং গভীর পড়াশোনা করে নিজের যোগ্যতায় আসন নিশ্চিত করুক।

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের, সম্ভাব্য সময় জানালেন উপাচার্য

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে প্রশ্নের ধরনে বৈচিত্র্য আনার কথা জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, পরীক্ষার প্রচলিত নম্বর বা মান বণ্টনে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না, তবে প্রশ্নের ধরনে সৃজনশীলতাকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

উপাচার্য বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নের মান বণ্টনে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে আমরা প্রশ্নের ধরনটি আরও সৃজনশীল করার চেষ্টা করছি। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যথাযথভাবে পড়াশোনা করে তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখুক এবং কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হোক।’

পরীক্ষার ধরণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি
ভর্তি পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে, মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্নপত্রে। সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ ঘণ্টা। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাওয়া যাবে এবং ভুল উত্তরের জন্য কোনো নম্বর কাটা হবে না। বিজ্ঞান শাখা, মানবিক/গার্হস্থ্য অর্থনীতি এবং ব্যবসায়ে শিক্ষা শাখায় বাংলায় ২০, ইংরেজিতে ২০, সাধারণ জ্ঞানে ২০ এবং প্রত্যেক শাখার জন্য আলাদাভাবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন ৪০ নম্বরসহ মোট ১০০ নম্বরে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার পাস নম্বর ৩৫।

বিজ্ঞান, মানবিক/গার্হস্থ্য অর্থনীতি এবং ব্যবসায়ে শিক্ষায় এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ–এর ৪০ শতাংশ (চতুর্থ বিষয়সহ) ৪০ নম্বর, এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ–এর ৬০শতাংশ (চতুর্থ বিষয়সহ) ৬০ নম্বরসহ মোট ২০০ (১০০‍+৪০‍+৬০) নম্বরে মেধাতালিকা প্রণয়ন করা হবে।

ভর্তিযোগ্য আসন ও কোটা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশের ৮৮১টি কলেজে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু রয়েছে। এর মধ্যে ২৬৪টি সরকারি ও ৬১৭টি বেসরকারি কলেজ। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে আসন সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৮৫টি। ডিগ্রি (পাস) কোর্সে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আসন সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৯০টি। প্রত্যেক বিষয়ে সর্বোচ্চ ৮টি আসন সংরক্ষিত থাকবে বিভিন্ন কোটার জন্য। বীর মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩টি, আদিবাসী কোটা ১টি, প্রতিবন্ধী কোটা ১টি এবং পোষ্য কোটা ৩টি।

চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে চোখ হারানো বাউবি শিক্ষার্থীকে আর্…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ওপর নিউমার্কেট যুবদলের হামলায় আহত ৮
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
ঢাবিতে ফের সমকামিতার অভিযোগ, দুই ছাত্রকে হল থেকে বহিষ্কার
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ওপর নিউমার্কেট যুবদলের হামলার অভিযোগ
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকর্মী কারাগারে
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভার…
  • ১১ আগস্ট ২০২৬