বছরজুড়ে যেসব ঘটনায় সংবাদের শিরোনাম ইবি ছাত্রদল

০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৩ PM
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রদলের লোগো

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রদলের লোগো © সংগৃহীত

গত হলো ২০২৫ সাল। শুরু হলো নতুন বছরের পদধ্বনি। দেশের প্রতিতি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও (ইবি) ইতিবাচক-নেতিবাচক উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা ঘটেছে সদ্য গত হওয়া বছরে। বছরজুড়ে ঘটেছে নানান ঘটনা, যা নিয়ে সরগরম ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, সংবাদের শিরোনাম হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। সংবাদের শিরোনাম হওয়া সেসব আলোচিত সমালোচিত ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ওয়াসিফ আল আবরার।

টেন্ট নির্মাণের অর্থ ছাড়ে সমালোচনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝাল চত্বরের পাশে বসার স্থান নির্মাণের জন্য ছাত্রদলকে আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় প্রশাসন। টেন্ট নির্মাণের কাজ শুরু হলে প্রশাসনের বরাদ্দের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এতে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হতে থাকে ইবি ছাত্রদল। মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের বসার স্থানের জন্য আবেদন দিলেও আবেদনপত্রে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের স্বাক্ষর পাওয়া যায়। আর এতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ঝাড়েন একাধিক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের টাকায় নিজ দলের টেন্ট বানানোকে ভালোভাবে নেয়নি তারা৷ তবে স্থাপনা নির্মাণ সমাপ্ত হওয়ার পরে সেখানে স্থায়ী কোন দলীয় ফলক বসাতে দেখা যায়নি ছাত্রদলকে।

রেজিস্ট্রার অফিস ভাঙচুর ইবি ছাত্রদলের
গত ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আলী হাসানকে রেজিস্ট্রারকে পদ ছাড়তে তার অফিস ভাঙচুর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান তার অফিসে নাস্তা করার সময় ছাত্রদলের ১০-১২ নেতাকর্মী তার রুমে প্রবেশ করেন। রুমে ঢুকে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে এবং আগামীকাল থেকে অফিসে না আসতে হুমকি দেন তারা। পরে তারা রেজিস্ট্রারের টেবিলের ওপর থাকা নাস্তার কাপ-পিরিচগুলো ভেঙে চলে যান। সরেজমিন রেজিস্ট্রারের টেবিলের পাশে ভাঙা কাপ-পিরিচ দেখা গেছে। বিভিন্ন অফিসে ভাঙচুর ও হুমকি প্রদান শেষে তারা স্বৈরাচারের দোসরদের অপসারণসহ ৯ দফা দাবি নিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন।

বহুল আকাঙ্ক্ষিত কর্মিসভা হঠাৎ স্থগিত 
হঠাৎই ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়তার ভারে ন্যুব্জ ইবি ছাত্রদলের বহুল আকাঙ্ক্ষিত কর্মিসভা স্থগিত করা হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, কর্মিসভা হলেই বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত হতে পারে এমন আশঙ্কায় কৌশলে এই কর্মিসভা বাতিল করানো হয়েছে। ক্যাম্পাসের পেছনেই ত্রিপল মার্ডারের ঘটনা এবং রোজার ছুটির আগে ক্যাম্পাস শিক্ষার্থী শূন্য- এমন তথ্য দিয়ে কর্মীসভা স্থগিত করা হয়। তবে যেদিন কর্মিসভা হওয়ার কথা ছিল, সেদিনও ক্যাম্পাসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বইমেলার শেষ দিনে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়।
 
সাজিদ, সাম্য, পারভেজ ও জোবায়েদ হত্যার বিচার দাবিতে সরব
বছরজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজপথে সরব ছিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাম্য হত্যা, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পারভেজ হত্যা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যার বিচার দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে ইবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, প্রশাসন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দিয়ে নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবি জানায় ছাত্রদল।

দীর্ঘ দুই যুগ পর ফর্ম ছেড়ে সদস্য সংগ্রহ
দীর্ঘ ২২ বছর পর ফরম বিতরণ করে সদস্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে ইবি ছাত্রদল। গত ২০ মে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে নবীন সদস্য সংগ্রহে সদস্য ফরম বিতরণ ও ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে সংগঠনটি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি জহির রায়হান। উদ্বোধনের পর আরো কিছুদিন ফরম বিতরণের পরে সর্বমোট প্রায় সাড়ে ৪ শো ফরম বিতরণ করে সংগঠনটি।

আহ্বায়ক কমিটিতে ৪ বছর পার
আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার ৪ বছর পার করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। ২০২১ সালের ১৬ জুন  লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের সাহেদ আহম্মেদকে আহ্বায়ক এবং ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের মাসুদ রুমী মিথুনকে সদস্য সচিব করে শাখা ছাত্রদলের ৩১ সদস্যের তিন মাস মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হলেও দীর্ঘ চারটি বছর পেরিয়ে গেলেও বিভিন্ন কারণে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করতে পারেননি তারা। এতে সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তার পাশাপাশি প্রতিযোগিতার রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়ছে ছাত্রদল। দীর্ঘ চার বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় বহু নেতাকর্মী একদিকে যেমন সাংগঠনিক পরিচয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তেমনি নতুন নেতৃত্ব তৈরির বিষয়টিও পিছিয়ে যাচ্ছে। দলের দুঃসময়ে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির সিংহভাগ নেতাই ছিলেন কার্যত নিষ্ক্রিয়। 

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশে
গুচ্ছ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে আগত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে ইবি ছাত্রদল। ভর্তিপরীক্ষা উপলক্ষে শাখা ছাত্রদলের শহীদ ওয়াসিম সহায়তা কেন্দ্র ও শহীদ মুগ্ধ পানি কর্নার স্থাপন করা হয়।এতে ভর্তি তথ্য সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন, কলম, ফুল ও উপহার প্রদান, ইমারজেন্সি ওষুধ, সুপেয় পানি ও বিশ্রামের ব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরীক্ষা চলাকালে অভিভাবকদের মাঝে নাস্তা এবং বিএনপির ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করতেও দেখা যায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের। 

বিভিন্ন দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান
বছরজুড়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ইবি ছাত্রদল। কখনো ১০ দফা, কখনো ১৯ দফা, কখনো ৭ দফাসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া উপস্থাপন করেছে তারা। এসব দাবির কতটি এখন পর্যন্ত পূরণ হয়েছে তার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, মহাসড়ক সংস্কার, ডাস্টবিন স্থাপন, হলের খাবারের মান বৃদ্ধি, চিকিৎসা কেন্দ্রের উন্নয়ন, নিয়োগ বোর্ড বাতিল, সাজিদ হত্যার বিচার, জিয়া কমপ্লেক্স স্থাপন, ফ্যাসিবাদের বিচার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্রদল। তবে সর্বশেষে ঝাল চত্বরের কাদামাটিতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিরসনে বালু মাটি ফেলতে উপ-উপাচার্যের টেবিল চাপড়ে আল্টিমেটাম দিয়ে প্রশংসা ও সমালোচনার সৃষ্টি করে ছাত্রদল। 

আর্থিক অসচ্ছলত শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদল
বিভিন্ন সময় আর্থিক অসচ্ছলতার শিকার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এ’ ইউনিটে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে না পারা এক মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে নিজ অর্থায়নে উক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি সম্পন্ন করিয়েছেন এবং পারিবারিক সমস্যায় জর্জরিত থাকা অপর এক নারী শিক্ষার্থীর পুনঃভর্তির ব্যবস্থা করে দেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ। এ ছাড়া ইবি ছাত্রদলের মাধ্যমে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের এক মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রাথমিক ভর্তিতে ৬ হাজার টাকা এবং চূড়ান্ত ভর্তিতে ৬ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। এ ছাড়া লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের সময় অর্থাভাবে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ করতে না পারা এক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ান শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। 

মুদিদোকানির কাছে চাঁদা চেয়ে বিপাকে দুই নেতা
গত ৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র নজরুল কলা ভবনের বিপরীত পাশে একটি ছোট দোকানির কাছে চাঁদা দাবি করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ইবি ছাত্রদল। অভিযুক্ত দুই নেতা ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক উল্লাস মাহমুদ ও ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাব্বির হোসেন। ঈদের ছুটিতে দোকান বন্ধ রাখার কারণে মালামাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে দোকান শুরু করতে হিমসিম খায় দোকানি আহাদ। এ সময় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা উল্লাস তাকে দেখা করতে বলে এবং দেখা না করলে দোকান ছেড়ে দিতে বলে। দোকান ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছাত্রদল নেতা উল্লাস তাকে বড় ভাইয়ের জন্য কিছু টাকা দিতে বলে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে অভিযুক্ত নেতারা দুঃখ প্রকাশ করলে প্রক্টর অফিস থেকে অভিযোগ প্রত্যাহার করে দোকানদার আহাদ।  
 
শিবিরকে ধর্ষকের লালনপালন বন্ধের আহ্বান আহ্বায়কের
গত ২ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনে ঢাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতির প্রার্থীতার বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারী নারী শিক্ষার্থীকে শিবির নেতা কর্তৃক প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেত্রীদের হেনস্থা এবং শিবিরের নেতাকর্মীদের দ্বারা সারাদেশে নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অব্যাহত সাইবার বুলিংয়ের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রশিবিরকে ধর্ষকের লালন-পালন বন্ধ করার আহবান জানান শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহম্মেদ। ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা আপনাদের ছেলেদের থামান। এই ধর্ষনের পক্ষে কেউ লালন পালন বন্ধ করতে হবে। এদের লালনপালন করা যাবে না। ধর্ষণের রাজনীতি, অস্ত্রের রাজনীতি, দখলের রাজনীতি সারাদেশের কোথাও কোন ক্যাম্পাসে চলবে না ইনশাআল্লাহ। 

নিয়োগ বোর্ড থেকে আওয়ামী শিক্ষকদের অপসারণ দাবি
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগে শিক্ষক পদোন্নতি (নিয়োগসহ) বোর্ডের জন্য সদস্য ও বিশেষজ্ঞ সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয় যেখানে মিলেমিশে বিএনপি-জামায়াত-আওয়ামী-বামপন্থী ১৮০ অধ্যাপক জায়গা পান যাদের একটি বড় অংশ চিহ্নিত আওয়ামী মতাদর্শের শিক্ষক। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ সময় নিয়োগ বোর্ড থেকে আওয়ামী দোসরদের অপসারণের জোরালো দাবি জানায় ইবি ছাত্রদল। এ দাবিতে বিক্ষোভ, স্মারকলিপি প্রদান এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। 

নবগঠিত কমিটিতে তরুণ নেতৃত্বের গুঞ্জন
অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী প্রশাসনের দাপটবিহীন বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেলের ভরাডুবির পরে সারাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। ছাত্র সংসদে পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক ভুলগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে জয় পেতে মরিয়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু করেন। এ লক্ষ্যে একাধিকবার ক্যাম্পাসে আসেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জহির রায়হান আহমেদ। সংগঠনের গতিশীলতা ফেরাতে এবারের কমিটিতে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখা হতে পারে বলে জানান তিনি। তবে মহাসমারোহে সদস্য ফর্ম বিতরণ ও পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করলেও এখনো গঠিত হয়নি সেই কমিটি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনাও দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। 

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে প্রশাসনের পদত্যাগ দাবি
৪৭তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনের প্রতি হতাশা ব্যক্ত করে প্রশাসনের পদত্যাগ দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমানকে নামমাত্র স্মরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম, আজকে যেন ক্লাস-পরীক্ষাগুলো বন্ধ থাকে এবং সুন্দর আয়োজন করা হয়। কিন্তু এখানে নামমাত্র পিটি প্যারেডের আয়োজন করা হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন পরবর্তী কোন মিটিংয়ে আমাদের না ডাকে। তারা তাদের মতোই কাজ করে, অনর্থক আমাদের কাছ থেকে সময় নিয়ে সময়ক্ষেপণ করে। বিগত আমলের ৫৩৭ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চলছে; এ প্রশাসন নতুন কোন বরাদ্দ আনতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, তারা পদত্যাগ করুক। 

আলোকসজ্জা না করায় হলের ব্যানার টান!
৪৭তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে আলোকসজ্জা না করায় প্রতিবাদস্বরূপ হলের আনন্দ শোভাযাত্রার ব্যানার কেড়ে নিয়ে আলোচনায় আসেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তার নামে নামাঙ্কিত হলে আলোকসজ্জা না হওয়ায় জিয়া হলের র‍্যালির সামনে যেয়ে আলোকসজ্জা না করার প্রতিবাদে হল প্রশাসনের ব্যানার ছিনিয়ে নেন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ ও তার অনুসারীরা। পরবর্তী সময়ে হলের প্রভোস্ট ব্যানার ফেরত চাইলেও তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং এমন অবহেলার উপযুক্ত জবাব চান। এ ছাড়া হলের প্রভোস্টকে দুর্বল আদর্শের শিক্ষক নেতা অভিহিত করে তাকে জিয়া পরিষদের পদ থেকে অব্যাহতি এবং জিয়া হলের প্রভোস্ট পদ থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কনসার্ট আয়োজন
৪৭তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে প্রশাসনের আয়োজনের প্রতি হতাশা ব্যক্ত করে ক্ষোভ ঝাড়েন ছাত্রদলের আহ্বায়ক। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই আলোচনা সভা রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের দাবি জানালেও তা না মেনে ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে প্রশাসন। এতেই সংক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলার বাংলা মঞ্চের নিজস্ব ভাবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে শাখা ছাত্রদল। এতে মিউজিক অ্যাসোসিয়েশন, ডান্স অ্যাসোসিয়েশন, থিয়েটারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে। দীর্ঘদিন পর এমন উন্মুক্ত আয়োজন পেয়ে শিক্ষার্থীরাও ব্যাপকভাবে আনন্দ উপভোগ করে।

টোকেন বৈষম্য নিরসনের দাবি
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ৬০ টাকা এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশিত খাবারের টোকেন মূল্যের এই অযৌক্তিক বৈষম্যের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে ইবি ছাত্রদল। ছাত্রদলের নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থী সমভাবে এই প্রতিষ্ঠানের অংশ, সে আবাসিক হোক কিংবা অনাবাসিক অধিকার ও মর্যাদায় সবাই সমান। ধর্মীয়, রাজনৈতিক কিংবা আবাসিক-অনাবাসিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মূল্য ভিন্নকরণ সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন সৃষ্টি করে। পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সমান মূল্য নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের কটুক্তি, ক্ষমা চেয়ে পার
গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ছাত্রী হলে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সেখানে সশরীর উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, হল প্রভোস্টবৃন্দ। এ সময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য রাফিজ আহমেদের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করে  ‘রা সারাদিন নামাজ-কালাম-রোজা করে, আর রাতের বেলায় লুচ্চামি করে বেড়ায়!’ বলে কটাক্ষ করেন আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে রাফিজ বলেন, ‘ড. জালাল স্যার হল থেকে মনোরঞ্জন করে বের হচ্ছেন। তিনি আবার সিন্ডিকেট সদস্য। স্যার, মনোরঞ্জন করে খুবই তৃপ্তি পেয়েছেন মনে হচ্ছে!’ ‘জামাতি-বিএনপিকে আগে ধরতে হবে বলে উল্লেখ করেন নুর উদ্দিন। পরবর্তী সময়ে গালিগালাজ করার ঘটনায় শাখা সদস্যসচিব মাসুদ রুমি মিথুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছে শাখা ছাত্রদল।

তীব্র শীতে মানবেতর জীবনযাপন বেদেপল্লীর বাসিন্দাদের
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
২৫ ভরি গহনার মূল্য ৪০ হাজার টাকা দেখালেন বিএনপি নেতা
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান, ৯ মামল…
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে জরিমানা করবে পুলিশ, পুলিশ করলে কী…
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় হাতেনাতে আটক, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
বিটিআরসির নতুন মহাপরিচালক শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
X
APPLY
NOW!