অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ © সংগৃহীত
দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে যে বরাদ্দ দেয়া হয়, তা দিয়ে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই শিক্ষাখাতে জিডিপির অন্তত পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া জরুরি।’ বর্তমানে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৭১ শতাংশ বলে জানান তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে একটি বেসরকারি অনলাইন পোর্টালে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিক্ষা সংস্কারে অগ্রাধিকার ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এডুকেশন রিফরম ইনিশিয়েটিভ (ইআরআই)।
অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, ‘রাষ্ট্র শিক্ষাখাতকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেয়ায় দেশে শিক্ষকদের মর্যাদা কমে গেছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে। ইতোমধ্যে কলেজগুলোর পরিচালনা পর্ষদে শিক্ষকদের গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, ‘কলেজে গবেষণাগার স্থাপন ও শিক্ষকদের গবেষণায় আগ্রহী করতে প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই শিক্ষকদের কাছে গবেষণার আগ্রহপত্র চাওয়া হবে। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠ্যসূচি সংস্কার করা হয়েছে। স্নাতক সম্মানে আইসিটি ও ইংরেজি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।’
দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার তাগিদ দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ দ্রুত শিক্ষা কমিশন গঠনের আহ্বান জানান।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এডুকেশন রিফরম ইনিশিয়েটিভ (ইআরআই)-এর চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস, সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ ড. সদরুদ্দিন আহমদ, অধ্যক্ষ পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাজহারুল হান্নান এবং শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জামশেদ আলম।
ড. মিলন বলেন, ‘দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ও বৈষম্য দূরীকরণে ইআরআই কাজ করছে। শিক্ষাখাতের মূল স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিয়ে একটি সুপারিশমালা তৈরি করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যত সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে।’
সেমিনারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষকরা অংশ নেন। তারা শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যমান বৈষম্য, অব্যবস্থা এবং শিক্ষকদের সংকটের বিষয় তুলে ধরে তা দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান।