হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন হামলায় আহতরা © সংগৃহীত
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ব্যবসায়ীসহ তার পরিবারের ৭ সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার পর বোমাসদৃশ্য বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন মুন্সি (৪৬), তার মা মাজেদা বেগম (৭৫), স্ত্রী সাথী বেগম (৩৫), ভাই আমানুল্লাহ মুন্সি (৫৫), ভাতিজা মাসুম প্রিন্স (২৬), মো. আবির (২৩) ও আশিক হাওলাদার।
আহতদের মধ্যে বিল্লাল, সাথী ও প্রিন্সকে প্রথমে ভোলা সদর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শনিবার সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। আবির ও আশিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নতুন বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন ব্যবসায়ী বিল্লাল ও তার বড় ভাই স্থানীয় বিএনপি নেতা আমানুল্লাহ মুন্সি। গভীর রাতে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়িতে ঢুকে প্রথমে আমানুল্লাহর ঘরের বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে। এরপর বিল্লালের ঘরে ঢুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।
চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে এলে আমানুল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে বোমাসদৃশ্য বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
স্বজনদের অভিযোগ, এর আগেও বিল্লালের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ এবং তার ভাইয়ের গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
আকবর মুন্সি অভিযোগ করেন, ‘এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা।’
তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসীরা শুধু তাদের মায়ের কানের একজোড়া সোনার দুল নিতে পেরেছে। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’