অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ © টিডিসি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেছেন, ‘যে মুক্তি আমরা পেয়েছি, তা ধরে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে। শহীদ পরিবারদের যেন আমরা ভুলে না যাই। আমরা যেন জুলাই স্পিরিট ভুলে না যাই।’
জুলাই বিপ্লবের প্রথম বর্ষপূর্তিতে ‘ছাত্র শিক্ষক সংহতি’ দিবস উপলক্ষে রবিবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জুলাই বিপ্লব-২৪-এর শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য এ কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের জাতি যে দেশ পেয়েছে, সেই দেশ আর পেছনে ফিরে যাবে না। সেই দেশ আর ফ্যাসিস্ট হবে না, বৈষম্যমূলক হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিজেদের নিবেদিত করতে হবে। তা না হলে শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ হবে না।’
শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়ে কীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, রক্তের বিনিময়ে সবসময় পরিবর্তন সাধিত হয়। এই রক্ত দিতে হলে জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে জাগ্রত হতে হয়। ঐক্যবদ্ধ না হলে ফ্যাসিস্ট রেজিম উৎপাটিত করা যেত না। এজন্য যে কোনো অন্যায়কে সমূলে উৎপাটনের জন্য ঐক্যের প্রয়োজন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাই আগস্ট বিপ্লবে যারা শাহাদাতবরণ করেছিলেন, তাদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। মহান আল্লাহতালা মরহুমকে যেন শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন, এই প্রার্থনা ব্যক্ত করেন তিনি।
আরও পড়ুন: রাবির শিক্ষক নিয়োগে জামায়াতের সাবেক এমপির সুপারিশ, প্রো-ভিসির মাধ্যমে ভাইরাল ফেসবুকে
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। সভাপতিত্ব করেন জুলাই বিপ্লবের প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম।
আরও বক্তব্য দেন থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আ ব ম ছিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, অধ্যাপক ড. শহীদ মুহাম্মদ রেজওয়ান, অধ্যাপক ড. মোহা. তোজাম্মেল হোসেন, অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফোরামের পক্ষে মো. আমিরুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এস এম সুইট। অনুষ্ঠানে জুুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের শহীদ পরিবারের সদস্য এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন অধ্যাপক ড. আ ব ম ছিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারদের উপহার এবং গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা স্বরূপ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।