শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন © টিডিসি ফটো
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. কামরুল হাসান কর্তৃক সহকারী প্রক্টর ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. মুতাসিম বিল্লাহকে হুমকি ও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী মানববন্ধন করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা হাসান কামরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘হাসান কামরুলের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’; ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’; ‘আদু ভাইয়ের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’; ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম ভুঁইয়া বলেন, ‘আমরা ছোট বেলায় স্কুলে শিখেছি শিক্ষক পিতৃসম। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের একজন শিক্ষককে হাসান কামরুল কর্তৃক হুমকি দেয়া হল। এর আগেও সে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে নানারূপ কোন্দল লাগিয়ে দিতে চেয়েছিল। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মুহসিন জামিল বলেন, ‘হাসান কামরুলকে আমরা ২০২০ সাল থেকে চিনি। তবে এই চেনাটা কোনো পজিটিভ চেনা নয়, এটা সম্পূর্ণ নেগেটিভ। আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইস্যুতে সে কীভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল গ্রুপ আছে সেগুলোকে কুক্ষিগত করে রাখে এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ছড়াতে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি হাসান কামরুলের ইতিহাস দেখি তাহলে দেখতে পারব- সে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষকদের নিয়ে বিভিন্ন মুখরোচক কথা লিখে থাকে। তার এই কর্মকাণ্ডের পিছনে কে ইন্ধন দিচ্ছে তাও আমাদের দেখতে হবে।’
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শোয়াইব হোসাইন আলামিন বলেন‚ ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক সাপ্লাই দিতে পারেনি বলে হাসান কামরুল মোতাসিম বিল্লাহ’র পেছনে লেগেছে। এই আদুভাই প্রথম ব্যাচ (২০০৬-০৭) হয়ে এখন ক্যাম্পাসে কী করে? শিক্ষকদের বলতে চাই, আপনাদের সহকর্মী আক্রান্ত হয়েছে। আপনাদের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো। আমি প্রশাসনকে বলতে চাই, এই হাসান কামরুলকে যেন ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা করতে না দেয়া হয়। তাকে আজীবনের জন্য ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম।’
শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নিয়ে ইংরেজি বিভাগের চেয়্যারম্যান শরিফুল করিম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সহকর্মীকে হুমকি এবং তার বিরুদ্ধে জেনারেল ডায়েরি করার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি আমার সহকর্মীর পক্ষে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, গত ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রীয় একটি অনুষ্ঠানের সময় প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল ও সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হাসান কামরুলের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় জিডি করেন।