এহসান হাবিব সুমন © সংগৃহীত
অবশেষে জামিনে ছাড়া পেলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এহসান হাবিব সুমন। রবিবার দুপুরে আদালতে মামলার হাজিরা দিতে এসে জামিন আবেদন করেন তিনি। আদলত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে জামিন দেন। এর আগে আটক হওয়ার ঘটনা জানিয়ে সুমন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আবেগঘন খোলা চিঠি লেখেন। এরপর তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচন হলে তার মুক্তির উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ফিন্যান্স বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নড়াইল জেলার কালিয়ার নওয়াগ্রাম বাসিন্দা।
কোতোয়ালি থানার ওসি মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত করলে হয়ত সব তথ্য পরিষ্কার হবে। নির্দোষ কেউ যাতে শাস্তি না পায়, তা আমরাও চাই।
সুমনের মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে জবি প্রক্টর অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ বলেন, সুমন অলরেডি জামিনে ছাড়া পেয়েছে। একটা মামলা করলে তা প্রত্যাহার করতে অনেক সময় লাগে। সে যদি কোন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত না থাকে তাহলে মামলা প্রত্যাহার করা হবে।
এর আগে আটক হওয়ার ঘটনা জানিয়ে সুমন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে খোলা চিঠি লেখেন। ওই চিঠিতে তিনি জানান, বাসায় বাইক রাখার কোনো ব্যবস্থা না থাকায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাইক রাখতেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাইক রেখে ফেরার পথে ক্যাম্পাসের সামনে থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
খোলা চিঠিতে তিনি আরো জানান, মামলায় লেখা আছে ছাত্রলীগের ১৮ ফেব্রুয়ারির সংঘর্ষের দায়ে মামলা হয়েছে। সেদিন তিনি মিরপুরের বিআরটিএতে বাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর আনতে গিয়েছিলেন।
এহসান হাবিব সুমন দাবি করেছেন, তিনি রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট নন। তার মুক্তির দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়েছিল জবি ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।