এসএসসি পরীক্ষা
পরীক্ষার হল ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের লোগো © সংগৃহীত
এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়ম ও অসদুপায় রোধে ২০ ধরনের কার্যকলাপকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির বিধান রেখেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এসব অপরাধে সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। রোববার (১২ এপ্রিল) বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ৫ ধরনের অপরাধের জন্য শুধুমাত্র ওই বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হবে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে—পরীক্ষা কক্ষে এদিক-ওদিক তাকানো, একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা বা কথা বলে লিখা; কেন্দ্র কর্তৃক সরবরাহকৃত প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র ইত্যাদি ছাড়া অন্য কোনো প্রকার লিখিত বা মুদ্রিত যে-কোনো প্রকার দূষণীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা বা তা দেখে নকল করা, লিখোকোড পরিবর্তন করা এবং অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা। একইসঙ্গে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে উত্তরপত্র দেখালে তার বিরুদ্ধেও সমান শাস্তির সুপারিশ করা হবে।
এছাড়া ডেস্ক, বেঞ্চ, দেয়াল, হাত বা পোশাকে পরীক্ষার বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু লেখা থাকলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের লেখা থেকে নকল করলে সংশ্লিষ্ট অংশ লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও ৮ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তি হিসেবে ওই বছরের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—পরীক্ষা কক্ষে যেকোনো ধরনের অপরাধ করতে সাহায্য করা; মোবাইলে বা যেকোনো ধরনের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে থাকলে বা এসএমএস বা এমএসএস-এর মাধ্যমে পরীক্ষার বিষয় সম্পর্কিত কোনো কিছু লেখা থাকলে কিংবা ঐসব ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে প্রশ্নের উত্তরের সাথে সংগতিপূর্ণ কোনো তথ্য সংরক্ষিত রাখা; উত্তরপত্রে আপত্তিকর কিছু লিখা অথবা অযৌক্তিক মন্তব্য বা অনুরোধ করা; পরীক্ষা কক্ষে বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করা বা গোলযোগ করা; দূষণীয় কাগজপত্র কক্ষ প্রত্যবেক্ষককে না দিয়ে তা নাগালের বাইরে ফেলে দেয়া বা গিলে খাওয়া; একই উত্তরপত্রে দুই রকম/দুই ব্যক্তির হাতের লেখা থাকা; প্রশ্নপত্র বা সাদা উত্তরপত্র বাইরে পাচার করা; কক্ষ প্রত্যবেক্ষক বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারীকে গালাগালি বা ভীতি প্রদর্শন করা।
নীতিমালায় আরও ৭ ধরনের গুরুতর অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি হিসেবে পরীক্ষা বাতিলসহ তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে—উত্তরপত্র জমা না দিয়ে কক্ষ ত্যাগ; রোল নম্বর পরিবর্তন, উত্তরপত্র বিনিময় বা অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করা; কেন্দ্র কর্তৃক সরবরাহকৃত মূল উত্তরপত্রের পাতা পরিবর্তন করা; পরীক্ষা কক্ষে, কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে বা কেন্দ্রের বাইরে কোনো কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারীকে আক্রমণ করা বা আক্রমণের চেষ্টা করা, অস্ত্র প্রদর্শন করা; অন্যের দ্বারা লিখিত উত্তরপত্র বা লিখিত অতিরিক্ত উত্তরপত্র দাখিল করা।