সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের সঙ্গে সহকারী অধ্যাপকের মারামারি, ভিডিও ভাইরাল

১২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ PM , আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৬:৪৪ PM
সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের সঙ্গে সহকারী অধ্যাপকের মধ্যে মারামারি

সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের সঙ্গে সহকারী অধ্যাপকের মধ্যে মারামারি © সংগৃহীত

নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও সহকারী অধ্যাপকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে তিন মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল দুপুরে কবিরহাট সরকারি কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ ও সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। তবে সেটি সামনে এসেছে ঘটনার দুই মাস পর।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক মিলনায়তনে অধ্যক্ষের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসে আছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ। তার বাম পাশে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন এবং ডান পাশে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বসেছিলেন।

এসময় পিয়ন আব্দুর রহিম তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজের আসন থেকে উঠে সহকারী অধ্যাপক মিলনের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়।

এরপর উভয়ের মধ্যে কিল-ঘুষি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম এবং জীববিজ্ঞানের প্রভাষক ওসমান গনি এগিয়ে এসে তাদের নিবৃত করেন।

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, গত মার্চের ২ তারিখে কলেজের শিক্ষক ডরমিটরির পানির ফিল্টার নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পরে গত ৯ এপ্রিল ফিল্টারটি মেরামতের বিষয়টি পুনরায় উত্থাপন করলে অধ্যক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, এসময় মিলন প্রতিবাদ জানালে অধ্যক্ষ নিজ আসন ছেড়ে তার দিকে তেড়ে প্রথমে তার গায়ে হাত তোলেন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে।

সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন বলেন, শিক্ষক ডরমিটরির পানির ফিল্টার দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় কয়েক দফা বিষয়টি অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সর্বশেষ এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ কলেজের মোটরের পানি পান করার পরামর্শ দেন। পরে চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার ওপর হামলা চালান বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে মামুনুর রশীদ বেপরোয়া আচরণ শুরু করে। কলেজের সকল আর্থিক কাজ তিনি একা করতে চান, কাউকেই বিশ্বাস করেন না। কলেজের ১৭-১৮ জন মাস্টার রোলের কর্মচারীকে তাদের বেতন নিয়ে হয়রানি করে আসছে। শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে।

মানুনুর রশীদ তার চেয়ার থেকে উঠে না আসলে কখনো মারামারির এ ঘটনা ঘটতনা। তিনিই প্রথম তার সহকর্মীর গায়ে হাত দেন।

অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে গত ১১ মে  কলেজের ১১জন শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুন নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ বলেন, যে শিক্ষকের সঙ্গে আমার মারামারি হয়েছে, তিনি কি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন? অভিযোগ না করলে আপনারা এত আগ্রহ দেখাচ্ছেন কেন? এতে তৃতীয় পক্ষ সুবিধা নিতে চাচ্ছে। এছাড়া কলেজের তহবিল সংকটের কারণে মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ব্রাজিল সমর্থকের খাটের নিচে মিলল ৪১০ লিটার মদের উপকরণ, পালি…
  • ১২ জুন ২০২৬
দেশে শিল্পায়নের সম্ভাবনা দেখতে শিগগিরই আসছে চীনা প্রতিনিধিদ…
  • ১২ জুন ২০২৬
ডাক্তার বলছেন— ‘শেষ চেষ্টায়’ও বাঁচানো গেল না, ‘অবহেলায় মৃত্…
  • ১২ জুন ২০২৬
দেশের অর্থনীতির মূল তিন স্তম্ভের রূপকার শহিদ জিয়া: সমাজকল্য…
  • ১২ জুন ২০২৬
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিল
  • ১২ জুন ২০২৬
জনকল্যাণ নয়, প্রতারণার বাজেট দেওয়া হয়েছে: এনসিপি
  • ১২ জুন ২০২৬
×